৪/২৪. অধ্যায়ঃ
সালাতের কাতার সোজা করা - প্রথম অনুচ্ছেদ
আল্লাহ তা’আলা বলেন,إِنَّ اللّهَ يُحِبُّ الَّذِيْنَ يُقَاتِلُوْنَ فِي سَبِيْلِهٖ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَرْصُوْصٌঅর্থাৎ ’’নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ সমস্ত লোকদের ভালোবাসেন যারা তার পথে কাতারবন্দী হয়ে যুদ্ধ করে’’- (সূরাহ্ আস্ সফ ৬১: ৪)। আল্লাহ অন্যত্র বলেন,وَإِنَّا لَنَحْنُ الصَّافُّوْنَঅর্থাৎ ’’অবশ্যই আমরা কাতারবন্দী’’- (সূরাহ্ আস্ সা-ফ্ফা-ত ৩৭: ১৬৫)। আর তিনি আমাদেরকে ঐভাবে কাতারবন্দী হওয়ার কথা বলেছেন যেভাবে মালায়িকাহ্ তাদের পালনকর্তার সামনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ায়। আর কাতার সোজা করার অর্থ হচ্ছে একই পদ্ধতিতে সোজা লাইন, কাতারের মাঝখানের ফাঁকা বন্ধ করে কাঁধের সঙ্গে কাঁধ, পায়ের সঙ্গে পা মিলিয়ে কাতার সোজা করে দাঁড়ানো।ইবনু ’আবদুল বার ইসতিযকার গ্রন্থে বলেন, কাতার সোজা করার ব্যাপারে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ এবং পরবর্তীতে খুলাফায়ে রাশিদীনদের আ’মালের ব্যাপারে বিভিন্ন সানাদে অনেক আসার রয়েছে এবং এটা এমন বিষয় যাতে বিদ্বানদের মাঝে কোন মতানৈক্য নেই। তবে বিদ্বানগণ এর হুকুম ওয়াজিব না মানদুব এ ব্যাপারে মতানৈক্য করেছেন।’আয়নী বলেন, তা ইমাম আবূ হানীফাহ্, শাফি’ঈ ও মালিক-এর নিকট সালাতের সুন্নাত। ইবনু হাযম দাবি করেন, নিশ্চয় তা ফরয। কারো মতে মানদূব। ইমাম বুখারী ওয়াজিব এর দিকে গিয়েছেন। যেমন তিনি তার সহীহ গ্রন্থে (যারা কাতার সোজা করবে না তাদের গুনাহ) এভাবে একটি অধ্যায় বেঁধেছেন। ’আয়নী বলেন, ইমাম বুখারী অধ্যায় বাঁধার বাহ্যিক দিক ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, তিনি কাতার সোজা করা ওয়াজিব মনে করতেন। তবে সঠিক কথা এ ব্যাপারে এ ধরনের বর্ণনা কঠোর ধমক স্বরূপ। অন্যত্র বলেন, নির্দেশসূচক শব্দের দাবি অনুপাতে কাতার সোজা করা ওয়াজিব কথাটি ঠিক। কিন্তু তা সালাতের ওয়াজিবাতের অন্তর্ভুক্ত নয় যে, যখন কেউ তা ছেড়ে দিবে তার সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) বাতিল হয়ে যাবে অথবা সালাতে ঘাটতি হয়ে যাবে।তবে এ অধ্যায়ে শেষ কথা হচ্ছে যখন ব্যক্তি কাতার সোজা করা বর্জন করবে তখন সে গুনাহগার হবে। আমি বলব, আমার নিকট যা হক বলে মনে হচেছ তা হচ্ছে কাতার সোজা করা ও ঠিকঠাক করা জামা’আতে সালাতের ওয়াজিবাতের অন্তর্ভুক্ত। যখন সালাত আদায়কারী তা ছেড়ে দিবে, সালাতের ঘাটতি করে দিবে এবং কাতার সোজা করার ব্যাপারে নির্দেশসূচক শব্দ প্রয়োগ হওয়ার কারণে এবং তার মৌলিক অর্থ ওয়াজিব অর্থে হওয়ার কারণে কাতার সোজা করার বিষয়টি বর্জনকারী গুনাহগার হয়ে যাবে। পাপী হওয়ার আরও কারণ হল যেহেতু এ ব্যাপারে অন্য হাদীসে এসেছে কাতার সোজা করা সালাত প্রতিষ্ঠার অন্তর্ভুক্ত। অপর কাতার সোজা না করার কারণে কঠোর ধমকের কথা এসেছে। অন্য বর্ণনাতে এসেছে কাতার সোজা করা সালাত এর পূর্ণতার অন্তর্ভুক্ত। অন্য বর্ণনাতে কাতার সোজা করা সালাতের সৌন্দর্যতার অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে। সৌন্দর্য বলতে সালাতের পূর্ণতা উদ্দেশ্য। কাতার সোজা না করলে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়কারী পাপী হওয়ার আরও কারণ হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার চার খুলাফায়ে রাশিদীন এ ব্যাপারে অনেক গুরুত্ব প্রদান করেছেন।আনাস (রাঃ) কাতার সোজা না করার কারণে সালাত আদায়কারীদের বলতেন আমি তোমাদের কোন কিছু অস্বীকার করি না তবে তোমাদের কাতার সোজা না করাকে অস্বীকার করি। হাদীসটি বুখারীতে এসেছে। অত্র হাদীসে কাতার সোজা করার কথা আবশ্যক সাব্যস্ত হয়েছে যদি তা না হত তাহলে কাতার সোজা না করার বিষয়টিকে আনাস (রাঃ) অস্বীকার করতেন না। অন্যত্র এসেছে ’উমার (রাঃ) ও বিলাল (রাঃ)কাতার সোজা করার জন্য মুসল্লীদের পায়ে মারতেন। মুসল্লীদের পায়ে আঘাত করা ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করে যে মুসল্লীরা সালাতের ওয়াজিব ছেড়ে দেয়ার কারণে তারা এমন করতেন।এবার প্রশ্ন হচ্ছে যে মুসল্লী কাতার সোজা করাকে বর্জন করবে তার সালাত কি বাতিল হয়ে যাবে না হবে না? বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝা যায়, সালাত বিশুদ্ধ হবে এবং এ ব্যাপারে স্পষ্ট ভাষ্য বর্ণিত না হওয়ার কারণে সালাত বাতিল হবে না।হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী ফাতহুল বারীতে বলেন, কাতার সোজা করা ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও যে মুসল্লী কাতার সোজা করার বিপরীত করবে এবং ভালভাবে কাতার সোজা করবে না (তার সালাত বাতিল হবে না)। এ কথাকে সমর্থন করছে আনাস (রাঃ)-এর ঐ বিষয় যে, তিনি মুসল্লীদের কাতার সোজা না করাকে অসমিচীন মনে করা সত্ত্বেও তাদেরকে সালাত দোহরাতে বলেননি। ইবনু হাযম একটু বাড়াবাড়ি করছেন এবং সালাত বাতিল হওয়ার ব্যাপারেই দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ১০৯১-[৭]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১০৯১-[৭]
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللّهِ ﷺ فَرَآنَا حَلَقًا فَقَالَ: «مَالِيْ أَرَاكُمْ عِزِينَ؟» ثُمَّ خَرَجَ عَلَيْنَا فَقَالَ: أَلَا تَصُفُّوْنَ كَمَا تَصُفُّ الْمَلَائِكَةُ عِنْدَ رَبِّهَا؟ فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللّهِ وَكَيْفَ تَصُفُّ الْمَلَائِكَةُ عِنْدَ رَبِّهَا؟ قَالَ: يُتِمُّونَ الصُّفُوفَ الْأُولى وَيَتَرَاصُّونَ فِي الصَّفّ . رَوَاهُ مُسْلِمٌ
জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট বের হয়ে এসে আমাদেরকে গোল হয়ে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বসা দেখে বললেন, কি ব্যাপার তোমাদেরকে বিভক্ত হয়ে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। এরপর আর একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে আগমন করলেন এবং বললেন, তোমরা কেন এভাবে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়াচ্ছ না যেভাবে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতারা) আল্লাহর সামনে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! মালায়িকাহ্ আল্লাহর সামনে কিভাবে কাতারবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়? তিনি বললেন, তারা প্রথমে সামনের কাতার পুরা করে এবং কাতারে মিলেমিশে দাঁড়ায়। (মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৪৩০।
