৪/২৭. অধ্যায়ঃ

ইমামের দায়িত্ব - প্রথম অনুচ্ছেদ

এ অধ্যায়টি ইমামের ওপর মুক্তাদীদের অধিকারসমূহের বর্ণনা সম্পর্কে। এ অধিকারসমূহের মাঝে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুক্তাদীদের অবস্থা, অসুস্থ, প্রয়োজনমুখী ইত্যাদির দিকে লক্ষ্য রেখে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) হালকা করা, দীর্ঘ না করা যা মানুষকে জামা’আতে উপস্থিত হওয়া থেকে দূরে রাখতে পারে। ক্বারী বলেন, ইমামের ওপর মুক্তাদীদের যে বিষয় লক্ষ্য রাখা দরকার তা হল সালাত হালকা করা। ’’লুম্’আত’’-এ তিনি বলেন, জানা উচিত সালাত হালকা করা ও দীর্ঘতাকে বর্জন করা দ্বারা সুন্নাত ক্বিরাআত (কিরআত) ও তাসবীহ ছেড়ে দেয়া এবং সেগুলো আদায়ের ব্যাপারে অলস তা করা উদ্দেশ্য না বরং এ ব্যাপারে যথার্থ পরিমাণের উপর সীমাবদ্ধ থাকা। যেমন সালাতের ক্ষেত্রে মুফাসসাল ক্বিরাআত (কিরআত) থেকে যা নির্ধারণ করা হয়েছে সে অনুপাতে সকল প্রকার মুফাসসাল ক্বিরাআতের উপর সীমাবদ্ধ থাকা।তিনবার তাসবীহ আদায়ের উপর যথেষ্ট মনে করা। যেমনিভাবে লক্ষ্য রাখা উচিত বৈঠক ও দন্ডায়মানের প্রতি। হাদীসসমূহে বর্ণিত সালাত হালকা করা দ্বারা অধিকাংশ সময় যা উদ্দেশ্য তা হল ক্বিরাআত (কিরআত) হালকা করা। অচিরেই অধ্যায়ের হাদীসসমূহের ব্যাখ্যাতে এ ব্যাপারে অতিরিক্ত বর্ণনা আসছে। ইমামের ক্ষেত্রে উদ্দেশিত নির্দেশিত হালকা এর অর্থে যা প্রাধান্য পাবে তাও আসছে।

মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১১৩৪-[২]

عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ قَالَ: اخِرُ مَا عَهِدَ إِلَىَّ رَسُوْلُ اللّهِ ﷺ: إِذَا أَمَمْتَ قَوْمًا فَأَخِفَّ بِهِمُ الصَّلَاةَ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌوَفِىْ رِوَايَةٍ لَه: أَنَّ رَسُولَ اللّهِ ﷺ قَالَ لَه: «أُمَّ قَوْمَكَ» . قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللّهِ إِنِّىْ أَجِدُ فِي نَفْسِىْ شَيْئًا. قَالَ: ادْنُهْ . فَأَجْلَسَنِىْ بَيْنَ يَدَيْهِ ثُمَّ وَضَعَ كَفَّه فِىْ صَدْرِىْ بَيْنَ ثَدْيَيَّ ثُمَّ قَالَ: تَحَوَّلْ . فَوَضَعَهَا فِىْ ظَهْرِىْ بَيْنَ كَتِفَيَّ ثُمَّ قَالَ: أُمَّ قَوْمَكَ فَمَنْ أَمَّ قَوْمًا فَلْيُخَفِّفْ فَإِنَّ فِيْهِمُ الْكَبِيْرَ وَإِنَّ فِيْهِمْ الْمَرِيْضَ وَإِنَّ فِيْهِمُ الضَّعِيْفَ وَإِنَّ فِيْهِمُ ذَاالحَاجَةِ فَإِذَا صَلّى أَحَدُكُمْ وَحْدَه فَلْيُصَلِّ كَيْفَ شَاءَ

‘উসমান ইবনু আবিল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে যে শেষ ওয়াসিয়্যাত করেছেন তা ছিল, যখন তোমরা মানুষের (সালাতের) ইমামতি করবে, করে সালাত পড়াবে। (মুসলিম)সহীহ মুসলিমের আর এক সুত্রে পাওয়া যায়, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উসমানকে বলেছেনঃ নিজ জাতির ইমামতি করো। উসমান বললেন, আমি আবেদন করলাম, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার মনে খটকা লাগে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমার নিকট আসো। আমি তাঁর নিকট আসলে তিনি আমাকে তাঁর সামনে বসালেন। আমার সিনার উপর দু‘ছাতির মাঝে তাঁর নিজের হাত রেখে বললেন। এদিকে পিঠ ফিরাও। আমি তাঁর দিকে আমার পিঠ ফিরালাম।তিনি আমার পিঠে দু‘কাধের উপর হাত রাখলেন এবং বললেনঃ যাও, নিজের জাতির সালাতে ইমামতি করো।(মনে রাখবে) যখন কোন লোক কোন জাতির ইমামতি করবে তার উচিত ছোট করে সালাত আদায় করানো। কারণ সালাতে বৃদ্ধ লোক থাকে। অসুস্থ মানুষ থাকে। দুর্বল ও প্রয়োজনের তাড়া থাকে এমন লোক উপস্থিত হয়। যখন কেউ একা একা সালাত আদায় করবে সে যেভাবে (যত দীর্ঘ) চায় আদায় করবে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৪৬৮। [বিঃ দ্রঃ এ অধ্যায়টিতে দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ নেই। (وَهذَا الْبَابُ خَالٍ عَنِ اَلْفَصْلِ الثَّانِيْ) ]

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন