৪/৩০. অধ্যায়ঃ

সুন্নাত ও এর ফজিলত - প্রথম অনুচ্ছেদ

এখানে সুন্নাত বলতে সে সমস্ত সালাত উদ্দেশ্য যেগুলো দিবা ও রাত্রিতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সাথে আদায় করা হয় এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা নিয়মিত আদায় করতেন। যাকে সুনান রাওয়াতিব বলা হয় এবং সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্ও বলা হয়। ইমাম আবূ হানীফাহ্, ইমাম শাফি’ঈ ও ইমাম আহমাদ (রহঃ)-এর মতানুসারে রাওয়াতিব সালাতসমূহ বিধিসম্মত এবং তার জন্য নির্দিষ্ট সময় ও সংখ্যাও নির্ধারিত। চাই তা ফরয সালাতের পূর্বে অথবা পরে হোক। ইমাম মালিক (রহঃ)-এর মতে এর জন্য নির্দিষ্ট কোন সময়ও নেই এবং নির্দিষ্ট সংখ্যাও নেই। তবে ফরয সালাতের পূর্বে বা পরে ইচ্ছানুযায়ী নফল সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতে কোন বাধা নেই।ইবনু দাক্বীক্ব আল ’ঈদ বলেন, ফরয সালাতের পূর্বে সুন্নাত সালাত বিধিবদ্ধ হওয়ার হিকমাত এই যে, মানুষ যখন দুনিয়াবী ব্যস্ততার মধ্যে থাকে তখন ’ইবাদাত হতে দূরে থাকার ফলে তার অন্তর আল্লাহর সান্নিধ্য হতে দূরে থাকে। তাই আল্লাহর সান্নিধ্যে ’আসর প্রস্তুতি স্বরূপ এ সালাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে যাতে বান্দা ফরয সালাতে পূর্ণমাত্রায় আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জন করতে পারে। আর ফরয সালাতের পরের সুন্নাত সালাত ফরয সালাতের ত্রুটির পরিপূরক হিসেবে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে যেমনটি তামীম আদ্ দারী সূত্রে মারফূ’ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। কিয়ামতের (কিয়ামতের) দিন আল্লাহ তা’আলা সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব নিবেন।যদি সালাত পরিপূর্ণ পাওয়া যায় তাহলে তার জন্য পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে। আর যদি বান্দা সালাত পূর্ণ না করে থাকে তাহলে আল্লাহ তা’আলা মালাককে (ফেরেশতাকে) বলবেন, তোমরা দেখ আমার বান্দার কোন নফল সালাত পাও কিনা, পাওয়া গেলে তা দ্বারা তার ফরয পূর্ণ করে দাও, অতঃপর যাকাতের ব্যাপারে ও অন্যান্য আ’মালের ব্যাপারেও অনুরূপ করা হবে। এ হাদীসের ভিত্তিতেই ইমাম নাবাবী বলেন, ফরয সালাতে ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও নফল সালাতে আদায় করা বৈধ ও গ্রহণীয়। আর ফরয সালাত আদায় না করা পর্যন্ত মুসল্লীর নফল সালাত কবূল হবে না মর্মে বর্ণিত হাদীসটি য’ঈফ।আল্লামা মুল্লা আলী ক্বারী বলেন, সুন্নাত, নফল, তাত্বা’উ, মানদূব ও মুস্তাহাব এ সবই সমার্থক। সবগুলো শব্দই এক অর্থ বহন করে।

মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১১৭৩-[৭]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ صَلّى بَعْدَ الْمَغْرِبِ سِتَّ رَكَعَاتٍ لَمْ يَتَكَلَّمْ فِيمَا بَيْنَهُنَّ بِسُوءٍ عُدِلْنَ لَه بِعِبَادَةِ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ سَنَةً» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لَا نَعْرِفُه إِلَّا مِنْ حَدِيْثِ عُمَرَ بْنِ أَبِي خَثْعَمٍ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يَقُولُ: هُوَ مُنْكَرُ الْحَدِيْثِ وَضَعَّفَهُ جِدَّا

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক মাগরিবের সালাতের পর ছয় রাক্’আত সালাত আদায় করবে এবং এর মধ্যখানে কোন অশালীন কথাবার্তা বলবে না। তাহলে এ (ছয়) রাক্‘আতের সাওয়াব তার জন্যে বারো বছরের ‘ইবাদাতের সাওয়াবের পরিমাণ হয়ে যাবে। (তিরমিযী; ইমাম তিরমিযী এ হাদীসটিকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, এ হাদীসটি গরীব। কারণ এ হাদীস উমর ইবনু খাস্‘আম-এর সূত্র ছাড়া আর কোন সূত্রে জানা যায়নি। আর আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমা‘ঈল বুখারীকে বলতে শুনেছি যে, উমর ইবনু খাস‘আম মুনকারুল হাদীস। তাছাড়াও তিনি হাদীসটিকে যথেষ্ট য‘ঈফ বলেছেন।) [১]

[১] খুবই দুর্বল : আত্ তিরমিযী ৪৩৫, ইবনু মাজাহ্ ১১৬৭, য‘ঈফ আত্ তারগীব ৩৩১, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৬৬১, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ৪৩৯। কারণ এর সানাদের রাবী ‘উমার ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ খায়সাম-কে ইমাম বুখারী মুনকারুল হাদীস বলেছেন। ইমাম যাহাবী (রহঃ) বলেছেন। তার বর্ণিত দু’টি মুনকার হাদীস রয়েছে তন্মধ্যে এটি একটি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন