৪/৪৩. অধ্যায়ঃ

জুমার সালাত ফরজ - প্রথম অনুচ্ছেদ

بَابُ وُجُوْبِهَاএকাধিক হাদীস জুমু’আর সালাতের আবশ্যকতার উপর ও তার ফারযিয়্যাতের উপর প্রমাণ করে। শারহে আস্ সুন্নাহয় রয়েছে যে, অধিকাংশ বিদ্বানদের নিকট জুমু’আর সালাত ফারযে আইনের একটি। কেউ বলেছেন, সেটা ফারযে কিফায়ার অন্তর্ভুক্ত। ইবনুল হাম্মাম (রহঃ) বলেন, জুমু’আর সালাত ফরয যা কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমা দ্বারা নির্দেশিত এবং আমার সাথীবর্গ মনে করেন যে, নিশ্চয় সেটা ফরয যা যুহরের চেয়েও বেশী গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটা অস্বীকারকারী কাফির।জুমু’আর সালাত ফারযে আইন এ ব্যাপারে ’উলামাগণের ঐকমত্য রয়েছে এবং যে একে ফারযে কিফায়াহ্ বলেছে তাকে তারা ভ্রান্ত বলেছেন। আল্লামা ইরাকী (রহঃ) বলেন যে, ইমাম চতুষ্টয়ের মাযহাবে ঐকমত্য রয়েছে যে, জুমু’আহ্ ফারযে আইন, তবে তারা নিজ নিজ মাযহাব অনুযায়ী শর্তারোপ করেছেন। ইবনুল মুনযির (রহঃ) বলেছেন, সেটা ফারযে আইন এ ব্যাপারে ’উলামাগণের ইজমা রয়েছে। ইমাম বুখারী (রহঃ) তার সহীহ গ্রন্থে বলেছেনঃبَابُ فَرْضِ الْجُمُعَةِ لِقَوْلِه تَعَالى: إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يََّوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلى ذِكْرِ اللّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ’’জুমু’আহ্ ফরয’’ অধ্যায় আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ ’’যখন জুমু’আর দিনে সালাতের জন্য আহবান করা হয় তখন আল্লাহর স্মরণে দ্রুত সাড়া দাও এবং কেনা-বেচা পরিত্যাগ করো এবং সেটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা জানতে’’। (সূরাহ্ আজ্ জুমু’আহ্ ৬২: ৯)। অতঃপর জুমু’আহ্ অধ্যায়ের প্রথম অনুচ্ছেদে বর্ণিত আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর হাদীস উল্লেখ করেছেন হাফিয আসক্বালানী (রহঃ) বলেনঃ ইমাম বুখারী (রহঃ) এ আয়াত দ্বারা জুমু’আর ফারযিয়্যাতের দলীল গ্রহণ করেছেন।জুমু’আহ্ ফরয হওয়ার সময়ের ব্যাপারে ইখতিলাফ রয়েছে। তবে অধিকাংশ ’উলামাগণের মতে তা মদীনায় ফরয করা হয়েছে এবং এটাই জুমু’আও ফারযের (ফরযের/ফরজের) উক্ত আয়াতের চাহিদা। উক্ত আয়াতে কারীমাটি মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১৩৭৪-[৪]

وَعَن سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ فَلْيَتَصَدَّقْ بِدِينَارٍ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَبِنِصْفِ دِينَارٍ» . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُوْ دَاوُدَ وَابْنُ مَاجَهْ

সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক কোন কারণ ব্যতীত জুমু‘আর সালাত ছেড়ে দেবে সে যেন এক দীনার সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করে। যদি এক দীনার পরিমাণ সংগ্রহ করতে না পারে, তাহলে অর্ধেক দীনার সদাক্বাহ্ (সাদাকা) করবে। (আহমাদ, আবূ দাঊদ ও ইবনু মাজাহ)[১]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ১০৫৩, নাসায়ী ১৩৭২, ইবনু মাজাহ্ ১১২৮, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৫৫৩৫, আহমাদ ২০০৮৭, ২০১৫৯, ইবনু খুযায়মাহ্ ১৮৬১, ইবনু হিব্বান ২৭৮৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৯৮৯, শু‘আবুল ঈমান ২৭৫৬, য‘ঈফ আল জামি‘ ৫৫২০। কারণ এর সানাদে কুদামাহ্ ইবনু ওয়াবরাহ্ একজন মাজহূল রাবী, তিনি ক্বাতাদাহ্ ছাড়া অন্য কারো থেকে হাদীস বর্ণনা করেননি। ইমাম আহমাদ (রহঃ) বলেছেন, সে অপরিচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন