৪/৪৭. অধ্যায়ঃ
দুই ঈদের সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
(بَاب صَلَاة الْعِيْدَيْنِ) তথা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা।الْعِيْدُশব্দটিالْعَيْدُহতে নির্গত। শাব্দিক অর্থاَلرَّجُوْعُতথা প্রত্যাবর্তন করা।দু’ ঈদকে ’ঈদ’ হিসেবে নামকরণ করার কারণঃ১। ঈদের দিনে আল্লাহর অফুরন্ত অনুগ্রহ অবতীর্ণ হতে থাকে। ২। অথবা এ দিনের মধ্যে লোকেরা একের পর এক পরস্পরে মিলিত হয় বলে। ৩। প্রতি বছর পুনরায় আগমন করে বলে। ৪। বার বার আনন্দ ফিরে আসে। ৫। কারও মতে আল্লাহ তা’আলা বান্দার ওপর ক্ষমা ও রহমত পুনরাবৃত্তি করেন। ৬। কারও মতে ঈদের সালাতে বারবার তাকবীর বলতে হয় বিধায় একে ঈদ (عَيْدٌ) নামে আখ্যায়িত করেছে।আর ঈদের সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) প্রবর্তনের তাৎপর্য সম্পর্কে আল্লামা শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রহঃ) হুজ্জাতুল্লাহি বালিগাহ্ কিতাবের দ্বিতীয় খন্ডের ২৩ পৃষ্ঠায় চমৎকার তথ্য উপস্থাপন করেছেন আপনি তা দেখে নিবেন। সবাই ঐকমত্য হয়েছেন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রথম ঈদুল ফিতর শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় হিজরীতে, অতঃপর ইন্তিকালের পূর্ব পর্যন্ত তিনি এর উপর অটুট ছিলেন।আবার কারও মতে ঈদুল আযহাও দ্বিতীয় হিজরীতে শুরু হয়েছিল। দু’ঈদের সালাতের হুকুম নিয়ে ’উলামাদের নিকট মতভেদ রয়েছে। ইমাম আবূ হানীফার সহীহ মতে তাঁর নিকট ওয়াজিব। যাদের ওপর জুমু’আর সালাত ওয়াজিব। ইমাম মালিক ও শাফি’ঈর মতে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্। আর আহমাদের মতে ফারযে কিফায়াহ্ সালাতুল জানাযার মতো যদি কেউ পড়ে তাহলে অন্যদের ওপর ফরয রহিত হয়ে যাবে। আর আমার (ভাষ্যকারের) নিকট আবূ হানীফার মতই ’ওয়াজিব’ অধিক বরণীয়। কেননা আল্লাহ তা’আলার বাণীفَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَر’’তুমি তোমার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় কর এবং কুরবানী কর’’- (সূরাহ্ আল কাওসার ১০৮: ২) এখানে ’আমর তথা আদেশ আবশ্যক কামনা করে। আর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সারা জীবনে নিরবিচ্ছিন্ন আদায় ওয়াজিব। প্রমাণ করে বিশেষ করে দীনের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও ওয়াজিবের দিকে নিয়ে যায়।শর্তের ব্যাপারে ইমাম আবূ হানীফার মত জুমু’আর যা শর্ত ঈদেরও তা শর্ত, তবে খুতবাহ্ (খুতবা) শর্ত না বরং তা সুন্নাত সালাতের পরে। আর ইমাম মালিক শাফি’ঈর মতে পুরুষ, মহিলা, দাস, মুসাফিরদের মধ্যে যারা চায় একাকী সালাত আদায় করতে তা বৈধ।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ১৪৪০-[২]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১৪৪০-[২]
وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ لَا يَخْرُجُ يَوْمَ الْفِطْرِ حَتّى يَطْعَمَ وَلَا يَطْعَمُ يَوْمَ الْأَضْحى حَتّى يُصَلِّيَ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ
বুরায়দাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদুল ফিতরের দিন কিছু না খেয়ে ও ঈদুল আযহার দিন কিছু খেয়ে সালাতের জন্য বের হতেন না। (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারিমী) [১]
[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ৫৪২, ইবনু মাজাহ্ ১৭৫৪, ইবনু খুযায়মাহ্ ১৪২৬, মুসতাদরাক লিল হাকিম ১০৮৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৬১৫৯, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১১০৪, ইবনু হিব্বান ২৮১২, সহীহ আল জামি‘ ৪৮৪৫।
