৬/২. অধ্যায়ঃ
ফিতরার বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
সূরাহ্ আল আ’লা- এর ১৪-১৫ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু ’উমার (রাঃ), ’আমর বিন ’আওফ (রাঃ) বলেছেন যে,قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكّىএরزكاةদ্বারা উদ্দেশ্যزكاة الفطر(যাকাতুল ফিতর)। বাক্যাংশটি শুদ্ধরূপ হলصدقة الفطر(সদাক্বাতুল ফিতর)। আর এভাবেই সকল হাদীস সংকলনকারীগণ অধ্যায় রচনা করেছেন। তবে কোন কোন হানাফী লেখক সদাক্বাতুল ফিতর বলেছেন, যা সমাজেفِطْرَةٌ(ফিত্বরাহ্) হিসেবে প্রসিদ্ধ। এটি হয় জনসাধারণের ভুল বা এটি ফকীহদের নতুন একটি পরিভাষা যা তার মূল অর্থ ভিন্ন অন্য অর্থে ব্যবহৃত। কারণ ফিত্বরাহ্ শব্দের অর্থ স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। সদাক্বাতুল ফিতর ফরয হয়েছে ২য় হিজরীর রমাযান মাসে ঈদের ২ দিন পূর্বে। সদাক্বাতুল ফিতরের হুকুম নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। ইমাম শাফি’ঈ, মালিক এবং আহমাদ (রহঃ)-এর মতে তা ফরয। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে তা ওয়াজিব। আর এক দলের মতে তা সুন্নাত। তবে সঠিক বক্তব্য হল আহলে ’ইলমগণ যার উপর একমত তথা সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। যদিও তারা তার ফরয নামকরণের বিষয়ে মতবিরোধ করেছেন। কিন্তু তা পরিত্যাগ করা অবশ্যই অবৈধ।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ১৮১৫-[১]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১৮১৫-[১]
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: فَرَضَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ زَكَاةَ الْفِطْرِ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ عَلَى الْعَبْدِ وَالْحُرِّ وَالذَّكَرِ وَالْأُنْثى وَالصَّغِيْرِ وَالْكَبِيْرِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ وَأَمَرَ بِهَا أَنْ تُؤَدَّى قَبْلَ خُرُوْجِ النَّاسِ إِلَى الصَّلَاةِ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মুসলিমদের প্রত্যেক গোলাম,আযাদ,পুরুষ,নারী,ছোট-বড় সকলের জন্য এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ যব সদাক্বায়ে ফিত্বর (صدقة الفطر) ফরজ করে দেয়েছেন। এ ‘সদাক্বায়ে ফিত্বর’ (صدقة الفطر) ঈদুল ফিত্বরের সালাতে বের হবার আগেই আদায় করতে হুকুম দিয়েছেন। (বুখারী,মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৫০৩, মুসলিম ৯৮৪, নাসায়ী ২৫০৪, ইবনু হিব্বান ৩৩০৩, দারাকুত্বনী ২০৭২, শারহুস ১৫৯৪, ইরওয়া ৩/৮৪২।
