৭/৪. অধ্যায়ঃ
মুসাফিরের সওম - প্রথম অনুচ্ছেদ
মুসাফির ব্যক্তির জন্য সিয়াম পালনের বিধান বর্ণনা করাই এ অধ্যায়ের মূল উদ্দেশ্য। সফর অবস্থায় সিয়াম পালন করা বা না করা এবং এ দুয়ের কোনটি উত্তম- এ বিষয়ে আলোচ্য অধ্যায়ে বিবরণ রয়েছে।আল্লাহ তা’আলা বলেনঃفَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِنْ أَيَّامٍ أُخَرَ’’তোমাদের মধ্য যে অসুস্থ কিংবা ভ্রমণে থাকবে, সে অন্যদিনগুলোতে তা পূর্ণ করবে।’’ (সূরা আল বাকারাহ্ ২ঃ ১৮৪)২০১৯-[১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হামযাহ্ ইবনু ’আমর আল আসলামী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করেছেন, আমি কি সফরে সওম পালন করব? হামযাহ্ খুব বেশী সওম পালন করতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এটা তোমার ইচ্ছাধীন। চাইলে রাখবে, না চাইলে না রাখবে। (বুখারী, মুসলিম)[1]
মিশকাতুল মাসাবিহ : ২০২৩-[৫]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ২০২৩-[৫]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: خَرَجَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ مِنْ الْمَدِينَةِ إِلٰى مَكَّةَ فَصَامَ حَتّٰى بَلَغَ عُسْفَانَ ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَرَفَعَه إِلٰى يَدِه لِيَرَاهُ النَّاسُ فَأَفْطَرَ حَتّٰى قَدِمَ مَكَّةَ وَذٰلِكَ فِىْ رَمَضَانَ. فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ: قَدْ صَامَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ وَأَفْطَرَ. فَمن شَاۤءَ صَامَ وَمَنْ شَاۤءَ أفْطَرَ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(মক্কা বিজয়ের বছর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাহ্ হতে মক্কার দিকে রওনা হলেন। (এ সফরে) তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাওম রেখেছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন (মক্কা হতে দুই মঞ্জীল দূরে) ‘উসফান’-এ (নামক ঐতিহাসিক স্থানে) পৌঁছলেন তখন পানি চেয়ে আনালেন। এরপর তা হাতে ধরে অনেক উঁচুতে উঠালেন। যাতে লোকেরা পানি দেখতে পায়। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাওম ভাঙলেন। এভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় পৌঁছলেন। এ সফর হয়েছিল রমাযান (রমজান) মাসে। ইবনু ‘আব্বাস বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে সাওম রেখেছেন, আবার ভেঙেছেন। অতএব যার খুশী সাওম রাখবে (যদি কষ্ট না হয়)। আর যার ইচ্ছা রাখবে না। (বুখারী, মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৯৪৮, মুসলিম ১১১৩, আবূ দাঊদ ২৪০৪, নাসায়ী ২৩১৪, আহমাদ ২৬৫২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮১৬০, ইবনু হিব্বান ৩৫৬৬।
