৭/৮. অধ্যায়ঃ
লাইলাতুল কদর - প্রথম অনুচ্ছেদ
নামকরণ:লায়লাতুল কদর-এর নামকরণ নিয়ে ’উলামাগণের মাঝে মতপার্থক্য বিদ্যমান। তবে গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত মত হলো, এ রাতের নামلَيْلَةِ الْقَدْرِ(লায়লাতুল কদর) রাখা হয়েছে তার সম্মান ও মর্যাদার কারণে। আরالقدرশব্দের অর্থالتعظيمবা সম্মান বা মর্যাদাবান। যেমন আল্লাহ তা’আলার বাণী,وَمَا قَدَرُوا اللهَ حَقَّ قَدْرِهঅর্থাৎ- ’’তারা আল্লাহ তা’আলাকে যথাযথ সম্মান করেনি।’’ (সূরা আল আন্’আম ৬: ৯১)এর অর্থ হলো, নিশ্চয়ই এ রাতে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ায় তা সম্মানের অধিকারী হয়েছে। আর তার গুণ বর্ণনা করা হয়েছে যে, এ রাত হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। অথবা এ রাতে মালায়িকাহ্ (ফেরেশতা) (ফেরেশতাগণ) অবতীর্ণ হয় বিধায় এটি সম্মানী। অথবা এ রাতে রহমত, বারাকাত ও ক্ষমা অবতীর্ণ হয়, অথবা এ রাত ’ইবাদাতের মাধ্যমে জাগরণ করা হয়। বিবিধ কারণে তা সম্মানী।লায়লাতুল কদর নির্ধারণ:এ রাত নির্ধারণে ’উলামাগণের অধিকতর মতপার্থক্য রয়েছে।’আল্লামা হাফেয আসকালানী (রহঃ) ফাতহুল বারীতে ৪০টির বেশি মতামত উল্লেখ করেছেন। আর এ সকল মতামতগুলো একে অপরের পরিপূরক। তবে সর্বপ্রসিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য মতের ক্ষেত্রে ’আল্লামা আবূ সওর আল মুযানী, ইবনু খুযায়মাহ্ এবং মাযহাবীদের একদল ’উলামাগণ বলেন, নিশ্চয়ই তা রমাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে হবে, এবং তা স্থানান্তরিত হবে, অর্থাৎ- কখনো তা ২১তম রাতে যেতে পারে, আবার কখনো ২৫শে কখনো ২৭শে এবং কখনো ২৯শে রাতে যেতে পারে। আর ’আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটি তার উপরই প্রমাণ করে। এটাই সর্বগ্রাহ্য ও প্রাধান্য মত।হাফেয আসকালানী (রহঃ) এ সংক্রান্ত মতামতগুলো উল্লেখ করার পর বলেন, এ সকল মতের মধ্যে প্রাধান্য ও অগ্রগণ্য মত হলো: নিশ্চয়ই তা শেষ দশকের বেজোড় রাতে হবে।ইমাম বুখারী (রহঃ) ’আয়িশাহ্ (রাঃ) ও অন্যান্যদের বর্ণিত হাদীসের মাধ্যমে অধ্যায় বেঁধেছেন যে, (باب تحري ليلة القدر في الوتر من العشر الأواخر) অর্থাৎ- অধ্যায়: লায়লাতুল কদরের রাত (রমাযানের) শেষ দশকের বেজোড় রাতে অনুসন্ধান করা।’আল্লামা আসকালানী (রহঃ) বলেন, (ইমাম বুখারীর) এ অধ্যায়ে এদিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে, লায়লাতুল কদর রমাযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এর পর তা শেষ দশকে নির্ধারিত, অতঃপর তা বেজোড় রাতগুলোতে, তবে তা কোন রাতে তা নির্ধারিত নয়।এ রাত গোপন করার হিকমাত:লায়লাতুল কদরের রাতকে গোপন করার হিকমাত প্রসঙ্গে ’উলামাগণ বলেন, এটি গোপন রাখা হয়েছে এ কারণে যে, যাতে এ রাত অনুসন্ধানের জন্য ইজতিহাদ বা প্রচেষ্টা করা যায়। এর বিপরীতে যদি তা নির্দিষ্ট করে দেয়া হত তাহলে মানুষ শুধু ওই নির্ধারিত রাতটির মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকত। (আল্লাহ ভালো জানেন)
মিশকাতুল মাসাবিহ : ২০৯৪-[৪]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ২০৯৪-[৪]
وَعَنْ عَبْدِ اللّٰهِ بْنِ أُنَيْسٍ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ إِنَّ لِىْ بَادِيَةً أَكُوْنُ فِيهَا وَأَنا أُصَلِّىْ فِيهَا بِحَمْدِ اللهِ فَمُرْنِىْ بِلَيْلَةٍ أَنْزِلُهَا إِلٰى هٰذَا الْمَسْجِدِ فَقَالَ: «انْزِلْ لَيْلَةٍ ثَلَاثٍ وَعِشْرِيْنَ». قِيْلَ لِابْنِه: كَيْفَ كَانَ أَبُوكَ يَصْنَعُ؟ قَالَ: كَانَ يَدْخُلُ الْمَسْجِدَ إِذَا صَلَّى الْعَصْرَ فَلَا يَخْرُجُ مِنْهُ لِحَاجَةٍ حَتّٰى يُصَلِّىَ الصُّبْحَ فَإِذَا صَلَّى الصُّبْحَ وَجَدَ دَابَّتَه عَلٰى بَابِ الْمَسْجِدِ فَجَلَسَ عَلَيْهَا وَلَحِقَ بِبَادِيَتِه. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! গ্রামে-গঞ্জে আমার বাড়ী। ওখানেই আমি বসবাস করি। আলহামদুলিল্লাহ্ ওখানেই সালাতও আদায় করি। অতএব রমাযানের একটি নির্দিষ্ট রাতের কথা বলে দিন, (যে রাতে আমি সে রাত খুঁজতে) আপনার এ মসজিদে আসতে পারি। এ কথা শুনে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আচ্ছা তুমি তবে (রমাযান (রমজান) মাসের) ২৩ তারিখ দিবাগত রাতে এসো।বর্ণনাকারী বলেন, এরপর কেউ তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞেস করল, আপনার পিতা তখন কি করতেন? ছেলে উত্তরে বলল, তিনি ‘আসরের সালাত আদায়ের সময় মসজিদে প্রবেশ করতেন ফজরের সালাত আদায়ের আগে (প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া) কোন কাজে বের হতেন না। ফজরের সালাত শেষে মসজিদের দরজায় নিজের বাহনটি প্রস্তুত পেতেন। এরপর বাহনটিতে বসতেন এবং নিজের গ্রামে চলে যেতেন। (আবূ দাঊদ)[১]
[১] হাসান সহীহ : আবূ দাঊদ ১৩৮০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮৫৩৮, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ২২০০।
