৮/০. অধ্যায়ঃ

কুরআনের মর্যাদা - প্রথম অনুচ্ছেদ

এখানে সাধারণভাবে পূর্ণ কুরআনের ফাযীলাত বা মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে এবং বিশেষ কতিপয় সূরা ও আয়াতের ফাযীলাতও খাসভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।আল কুরআনের কোন বিশেষ অংশ অন্য কোন অংশের উপর বিশেষ কোন মর্যাদা বা শ্রেষ্ঠত্ব রাখে কি-না তা নিয়ে গবেষকগণ ইখতিলাফ করেছেন। আবূল হাসান আল আশ্’আরী, কাযী আবূ বকর আল বাকিলানী প্রমুখ মনীষীগণ মনে করেন কুরআনের সকল আয়াত ও সূরার মর্যাদা সমান, কোন অংশই অপর কোন অংশের উপর বিশেষ কোন মর্যাদা রাখে না। কেননা মর্যাদা বা শ্রেষ্ঠত্ব হলো অমর্যাদা ও ত্রুটির বিপরীত অথচ আল্লাহর কালামের হাক্বীকত ও মৌলিকত্ব এক, সেখানে কোন ত্রুটিও নেই, কোন অংশের মর্যাদারও কমতি নেই। সুতরাং আল কুরআনের কোন অংশের বিশেষ কান মর্যাদা নেই।পক্ষান্তরে অন্য আরেকদল অর্থাৎ- জমহূর ’উলামায়ে কিরাম প্রকাশ্য এবং স্পষ্ট হাদীসের ভিত্তিতে বলেন, কুরআনের এক অংশ অন্য অংশের উপর বিশেষ মর্যাদা বা শ্রেষ্ঠত্ব রাখে। যেমন- হাদীসে এসেছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উবাই ইবনু কা’বকে বলেছিলেনঃالا اعلمك اعظم سورة في القراٰن.’’আমি কি তোমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠ সূরাটি শিক্ষা দিব না?’’নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ ’’নিশ্চয় ’কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ’ (সূরাটি) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের মর্যাদা রাখে।’’ইমাম কুরতুবী (রহঃ) বলেনঃ কুরআনের কোন অংশের অধিক মর্যাদাশীল হওয়ার বিষয়টি অসংখ্য নস (কুরআন-হাদীসের স্পষ্ট দলীল) দ্বারা প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও এ বিষয়ে ইখতিলাফ করা সত্যই আশ্চর্যজনক।আল কুরআনের বিশেষ অংশের বিশেষ মর্যাদার বিষয় নিয়েও লোকেরা ইখতিলাফ করেছেন। একদলের মতে এ শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা তথা পুরস্কার ও সাওয়াব হলো ব্যক্তির কর্মের ভিত্তিতে যে যত আন্তরিকভাবে বা ইখলাসের সাথে চিন্তা, গবেষণা করে এবং আল্লাহর ভয় নিয়ে এর তিলাওয়াত ও ’আমল করবে তার মর্যাদা তত বেশী হবে। পক্ষান্তরে তাতে কমতি হলো ঐগুলোর কমতি হওয়া।অন্য আরেক দল ’উলামার মতে এ শ্রেষ্ঠত্ব হলো শব্দের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে। যেমন- আল্লাহর বাণীঃوَإِلٰهُكُمْ إِلٰهٌ وَاحِدٌঅনুরূপ আয়াতুল কুরসী, সূরা আল হাশর-এর শেষাংশ, সূরা আল ইখলাস ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে আল্লাহ তা’আলার চূড়ান্ত ওয়াহদা-নিয়্যাতের এবং সিফাতে কামিলার প্রমাণ বাহক শব্দ রয়েছে যা’’তাব্বাত ইয়াদা.....’’, বা অন্য কোন সূরার মধ্যে নেই। সুতরাং আল কুরআনের কতিপয় আয়াত ও সূরার বিস্ময়কর অর্থ সম্বলিত শব্দের কারণেই তার এ বিশেষ মর্যাদা।এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা দেখতে চাইলে ইমাম সুয়ূতির ইত্ক্বান ২য় খণ্ড ১৫৭ পৃঃ এবং ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ্’রجواب أهل العلم والإيمان بتحقيق ما أخبر به رسول الرحمان من أن قل هو الله أحد تعدل ثلث القراٰن(জওয়া-বু আহলিল ’ইলমি ওয়াল ঈমা-নি বি তাহক্বীকি মা- আখবারা বিহী রসূলুর রহমা-ন মিন আন্না কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ তা’দিলু সুলসাল কুরআ-ন) গ্রন্থ দেখে নিন।সম্মানিত লেখকদ্বয় উক্ত গ্রন্থে আল কুরআনের এক অংশ অন্য অংশের উপর, এক সূরা অন্য সূরার উপর মর্যাদা রাখার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ব্যাখ্যা করেছেন।অতঃপর জ্ঞাতব্য বিষয় যে, কুরআন শব্দটিالقرأة(কিরাআত) মাসদার থেকে মাফউল অর্থে ব্যবহার হয়েছে। পরবর্তীতে এটিالجمعএকত্রিতকরণের অর্থ প্রদান করেছে। যেহেতু এতে সূরাহগুলোকে এবং বিভিন্ন প্রকার জ্ঞানকে একত্রিত করা হয়েছে সেহেতু একে কুরআন বলা হয়েছে।অন্য আরেকদলের মতেقرنتমূল ধাতু থেকে নির্গত, এর অর্থ একটি বস্ত্ত আরেকটি বস্ত্তর নিকটে হওয়া। আল কুরআনের একটি সূরা আরেকটি সূরার এবং একটি আয়াত আরেকটি আয়াতের নিকটে, সুতরাং একে কুরআন বলা হয়।

মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ২১৩২-[২৪]

وَعَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ كَانَ إِذَا أَوٰى إِلٰى فِرَاشِه كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ ثُمَّ نَفَثَ فِيهِمَا فَقَرَأَ فِيْهِمَا ﴿قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ﴾. وَ ﴿قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ﴾. وَ ﴿قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ﴾. ثُمَّ يَمْسَحُ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِه يَبْدَأُ بِهِمَا عَلٰى رَأْسِه وَوَجْهِه وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِه يَفْعَلُ ذٰلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ‐ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ). وَسَنَذْكُرُ حَدِيثَ ابْنِ مَسْعُودٍ: لَمَّا أُسْرِىَ بِرَسُولِ اللّٰهِ ﷺ فِىْ بَابِ الْمِعْرَاج إِن شَآءَ اللهُ تَعَالٰى

আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি রাতে (ঘুমাবার জন্য) বিছানায় যাবার সময় দুই হাতের তালু একত্র করতেন। তারপর এতে ‘কুল হুওয়াল্ল-হু আহাদ, কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিল ফালাক ও কুল আ‘ঊযু বিরাব্বিন্না-স’ পড়ে ফুঁ দিতেন। এরপর এ দুই হাত দিয়ে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর শরীরের যতটুকু সম্ভব হত মুছে নিতেন। শুরু করতেন মাথা, চেহারা এবং শরীরের সম্মুখ ভাগ হতে। এভাবে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার করতেন। (বুখারী, মুসলিম।) ইবনু মাস্‘ঊদণ্ডএর হাদীসلَمَّا أُسْرِىَ بِرَسُولِ اللّٰهِ ﷺ) ’’যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে [স্বশরীরে] রাতে সফর করানো হয়েছে’’ আমরা ‘মি‘রাজ’ অধ্যায়ে অচিরেই বর্ণনা করব [ইনশাআল্লাহ]।)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৫০১৭, মুসলিম ২৭১৫, আবূ দাঊদ ৫০৫৬, তিরমিযী ৩৪০২, মু‘জামুল আওসাত লিত্ব ত্ববারানী ৫০৭৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৫৪৪, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ৩০, সহীহাহ্ ৩১০৪।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন