১১/৮. অধ্যায়ঃ
মাথার চুল মুণ্ডন করার প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
এ অধ্যায়ে ছয়টি বিষয়ের আলোচনা রয়েছে ইমাম বাজী মুয়াত্ত্বার ব্যাখ্যায় যার বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।প্রথমতحَلْقُ(হলক) বা মাথা মুন্ডানোর হুকুম। দ্বিতীয়ত এর নিয়মাবলী। তৃতীয়ত এর স্থান। চতুর্থত এর সময়। পঞ্চমত এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী। ষষ্ঠত এটি কি নুসুক্ব (বিধানাবলী) না ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়া।’আয়নী (রহঃ) বলেন, আমাদের শায়খ যায়নুদ্দীন আল ’ইরাকী তিরমিযীর ব্যাখ্যায় বলেছেন, হলক বা মাথা মুন্ডানো হলো হজের একটি অন্যতম কাজ। ইমাম নাবাবী (রহঃ) এটিই বলেছেন। এটিই অধিকাংশ আহলে ’ইলমের মত এবং ইমাম শাফি’ঈর সঠিক অভিমত। তবে এ বিষয়ে পাঁচ ধরনের বক্তব্য রয়েছে যার মধ্যে সবচেয়ে সঠিক বক্তব্য হলো এটি হজ্জ/হজ এবং ’উমরার একটি রুকন যা ব্যতীত হজ্জ/হজ এবং ’উমরা বিশুদ্ধ হবে না।সহীহ মুসলিমের ভাষ্যকার ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন, আমাদের প্রসিদ্ধ অভিমত হলো হলক (মাথা মুন্ডানো) বা ক্বসর (চুল খাটো করা) হজের এবং ’উমরার কাজ এবং উভয়ের রুকনসমূহের মাঝে একটি অন্যতম রুকন যা ব্যতীত হজ্জ/হজ এবং ’উমরা সম্পূর্ণ হবে না। সকল ’উলামা এ অভিমতই ব্যক্ত করেছেন।ইমাম বুখারী (রহঃ) সহীহুল বুখারীতে অধ্যায় রচনা করেছেন,(بَابُ الْحَلْقِ وَالتَّقْصِيْرِ عِنْدَ الْإِحْلَالِ) (ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার সময় মাথা মুন্ডানো এবং মাথার চুল খাটো করা) ইবনু মুনযীর তার হাশিয়াতে বলেছেন, ইমাম বুখারী এ অধ্যায় রচনার দ্বারা বুঝিয়েছেন যে, মাথা মুন্ডানো নুসুক্ব বা হজের এবং ’উমরার কাজ। যেমন ইমাম বুখারী (রহঃ) এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা মুণ্ডনকারীর জন্য যে দু’আ করেছেন তার দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। দু’আ তো সাওয়াবের ইঙ্গিতবাহী। আর ’ইবাদাতের জন্য সাওয়াব পাওয়া যায় মুবাহ কাজের জন্য নয়। অনুরূপ তার হলককে তাক্বসীরের উপর প্রাধান্য দানটি এ বিষয়ের ইঙ্গিতবাহী। কেননা মুবাহ কর্মের একটির উপর অপরটিকে প্রাধান্য দেয়া হয় না।হলক তথা মাথা মুন্ডানো যে নুসুক্ব তথা হজ্জ/হজ এবং ’উমরার একটি অত্যাবশ্যকীয় কর্ম এটি জমহূরের বক্তব্য। এ বিষয়ে তারা কুরআন এবং সুন্নাহ থেকে বেশ কিছু দলীল প্রদান করে এর প্রমাণ করেছেন যে, তা নুসুক্ব।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ২৬৫২-[৭]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ২৬৫২-[৭]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ: أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ أَفَاضَ يَوْمَ النَّحْرِ ثُمَّ رَجَعَ فَصَلَّى الظُّهْرَ بِمِنٰى. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন মাক্কায় গিয়ে তাওয়াফে ইফাযাহ্ (তাওয়াফে যিয়ারত) করলেন। এরপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিনায় ফিরে যুহরের সালাত আদায় করলেন। (মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ১৩০৮, আবূ দাঊদ ১৯৯৮, আহমাদ ৪৮৯৮, ইবনু খুযায়মাহ্ ২৯৪১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৯৬৩৪।
