১১/১৪. অধ্যায়ঃ
মক্কার হারামকে আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক সংরক্ষণ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
মক্কার এ পবিত্র ও বারাকাতময় ভূমির প্রসিদ্ধ নামمَكَّةَমক্কা। তবে আল্লাহ তা’আলা এ ভূমিকে পাঁচটি নামে অভিহিত করেছেন। ১. মক্কা ২. বাক্কাহ্ ৩. আল বালাদ ৪. আল ক্বরি’আহ্ ৫. উম্মুল কুরা।হারামের মাক্কী সীমানা:মক্কা থেকে মদীনার পথে : মক্কা থেকে তিন অথবা চার মাইল দূরবর্তী তান্’ঈম। মক্কা থেকে ইয়ামানের পথে : মক্কা থেকে ছয় মাইল অথবা সাত মাইল দূরে আযাহ এর প্রান্ত পর্যন্ত। মক্কা জি’রানাহ্ এর পথে বারো মাইল পর্যন্ত। ত্বয়িফের দিকে ’আরাফার ময়দানের পাশে অবস্থিত নামিরাহ্ পর্যন্ত। আর জিদ্দার দিকে দশ মাইল।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ২৭১৫-[১]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ২৭১৫-[১]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ: «لَا هِجْرَةَ وَلَكِنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ وَإِذَا اسْتُنْفِرْتُمْ فَانْفِرُوْا». وَقَالَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ: «إِنَّ هٰذَا الْبَلَدَ حَرَّمَهُ اللّٰهُ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فَهُوَ حَرَامٌ بِحُرْمَةِ اللّٰهِ إِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَإِنَّه لَمْ يَحِلَّ الْقِتَالُ فِيْهِ لِأَحَدٍ قَبْلِىْ وَلَمْ يَحِلَّ لِىْ إِلَّا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ فَهُوَ حَرَامٌ بِحُرْمَةِ اللّٰهِ إِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا يُعْضَدُ شَوْكُه وَلَا يُنَفَّرُ صَيْدُه وَلَا يَلْتَقِطُ لُقَطَتُه إِلَّا مَنْ عَرَّفَهَا وَلَا يُخْتَلٰى خَلَاهَا». فَقَالَ الْعَبَّاسُ: يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ إِلَّا الْإِذْخِرَ فَإِنَّه لِقَيْنِهِمْ وَلِبُيُوتِهِمْ؟ فَقَالَ: إِلَّا الْإِذْخِرَ. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুলাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেনঃ আর হিজরত নেই, তবে অবশিষ্ট আছে জিহাদ ও নিয়্যাত। তাই যখন তোমাদেরকে জিহাদের জন্য বের হতে বলা হবে, বের হয়ে পড়বে। সেদিন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার বললেন, এ শহরকে সেদিন হতে আল্লাহ তা‘আলা সম্মানিত করেছেন যেদিন তিনি আকাশ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন; আর এটা ক্বিয়ামাত পর্যন্ত আল্লাহর সম্মানেই সম্মানিত (হারাম বা পবিত্র) থাকবে। এ শহরে আমার আগে কারো জন্য যুদ্ধ করা হালাল ছিল না আর আমার জন্যও একদিনের অল্প সময়ের জন্য মাত্র হালাল করা হয়েছিল। অতঃপর তা ক্বিয়ামাত পর্যন্ত আল্লাহর সম্মানেই সম্মানিত। এ শহরের কাঁটাযুক্ত গাছ পর্যন্ত কাটা যাবে না, এখানে শিকার হাঁকানো যাবে না, এর রাস্তায় পড়ে থাকা কোন জিনিস ঘোষণাকারী ছাড়া কেউ উঠাতে পারবে না। আর এর ঘাসও কাটতে পারবে না।বর্ণনাকারী ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এ সময় ‘আব্বাস (রাঃ) বলে উঠলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইযখির ঘাস ছাড়া? এ ঘাসতো কর্মকরদের জন্যে ও লোকদের ঘরের জন্য বিশেষ প্রয়োজন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ঠিক আছে ইযখির ঘাস ছাড়া। (বুখারী, মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৮৩৪, আবূ দাঊদ ২৪৮০, মুসলিম ১৩৫৩, নাসায়ী ৪১৭০, তিরমিযী ১৫৯০, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক্ব ৯৭১৩, ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩৬৯৩০, আহমাদ ২৮৯৬, দারিমী ২৫৫৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৯৯৪৪, ইরওয়া ১১৮৭, সহীহ আল জামি‘ ৭৫৬৩।
