১২/৯. অধ্যায়ঃ
অংশীদারিত্ব ও ওয়াকালা (দায়িত্ব প্রদান) - প্রথম অনুচ্ছেদ
সকল মুসলিম এ বিষয়ে ঐকমত্য যে, সুদ হারাম। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন : “আল্লাহ সুদকে হারাম করেছেন এবং বেচা-কেনাকে করেছেন হালাল”- (সূরাহ্ আল বাক্বারহ্ ২ : ২৭৫)। আর এ বিষয়ে অসংখ্য প্রসিদ্ধ হাদীস রয়েছে যা সুদ হারাম হওয়ার অকাট্ট দলীল। নাবী (সাঃ) ছয়টি বিষয় উল্লেখ করেছেন যাতে সুদ হয়। আর তা হলো— সোনা, রূপা, গম, যব, খেজুর ও লবণ। আহলুয্ যাহিরদের মতে এ ছয়টি বস্তু ছাড়া আর অন্য কোনো বস্তুতে সুদ নেই। তাদের ব্যতীত অন্য সকল ‘আলিমদের মতে ছয়টি দ্রব্যের মধ্যেই সুদ সীমাবদ্ধ নয়। বরং যে সকল বস্তুতে উল্লিখিত বস্তুর গুণাবলী পাওয়া যাবে তাতেও সুদ হবে। তবে গুণাবলী কি এ বিষয়ে ‘আলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। ইমাম শাফি'ঈ ও ইমাম মালিক-এর মতে, সোনা ও রূপার মুদ্রা ছাড়াও যত ধরনের মুদ্রা রয়েছে তাতে সুদ হারাম। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মতে ওযনকৃত বস্তু হওয়ার কারণে সোনা-রূপাতে সুদ হারাম। অতএব সকল প্রকার ওযনকৃত দ্রব্যের মধ্যে সুদ হবে।অন্য চারটি দ্রব্য, অর্থাৎ গম, যব, খেজুর ও লবণের মধ্যে সুদ হওয়ার কারণ ইমাম শাফি'ঈ-এর মতে তা খাদ্যদ্রব্য। অতএব সকল প্রকার খাদ্যদ্রব্যতেই সুদ হবে। আর ইমাম মালিক-এর মতে তা প্রধান খাদ্য এবং সংরক্ষিত বস্তু। অতএব সংরক্ষিত সকল প্রকার প্রধান খাদ্যশস্যের মধ্যেই সুদ হবে।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ২৯৩২-[৩]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ২৯৩২-[৩]
وَعَن عُرْوَة بن أبي الْجَعْد الْبَارِقي: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْطَاهُ دِينَارًا لِيَشْتَرِيَ بِهِ شَاةً فَاشْتَرَى لَهُ شَاتين فَبَاعَ إِحْدَاهمَا بِدِينَار وَأَتَاهُ بِشَاة ودينار فَدَعَا لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْعِهِ بِالْبَرَكَةِ فَكَانَ لَوِ اشْتَرَى تُرَابا لربح فِيهِ. رَوَاهُ البُخَارِيّ
‘উরওয়াহ্ ইবনু আবুল জা'দ আল বারিক্বী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে একটি বকরি ক্রয়ের জন্য একটি দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) দিলেন। তিনি তা দ্বারা তাঁর জন্য দু'টি বকরি ক্রয় করলেন। অতঃপর একটি এক দীনারে বিক্রি করে দিলেন এবং একটি বকরি ও একটি দীনার তাঁকে এনে দিলেন। অতএব, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যাপারে তাঁর জন্য বারাকাতের দোয়া করলেন। সুতরাং তিনি যদি মাটিও ক্রয় করতেন, তাতেও লাভবান হতো।
[১] সহীহ : বুখারী ৩৬৪২, আবূ দাঊদ ৩৩৮৪।
