১৩/১৮. অধ্যায়ঃ

শিশুর বালেগ হওয়া ও ছোট বেলায় তাদের প্রতিপালন প্রসঙ্গে - তৃতীয় অনুচ্ছেদ

খুলা' শব্দটি ‘আরবী (আরবি) থেকে নেয়া হয়েছে, 'আরবেরা এ কথা তখনই বলে (আরবি) যখন কাপড় খুলে ফেলানো হয়। কেননা নারী পুরুষের পোষাক স্বরূপ, অনুরূপ পুরুষও নারীর পোষাক স্বরূপ। আল্লাহর বাণী : "স্ত্রীগণ তোমাদের পোষাক স্বরূপ তোমরাও তাদের পোষাক।” (সূরাহ্ আল বাকারাহ্ ২। ১৮৭)ইসলামের পরিভাষায় মহিলা তার স্বামীর নিকট থেকে কোনো কিছুর (মুহরের) বিনিময়ে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নেয়াকে খুলা' বলা হয়।কুরআন ও সহীহ হাদীসে খুলা করার বৈধতা রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন : “অতঃপর যদি তোমাদের ভয় হয় যে, তারা উভয়েই আল্লাহর নির্দেশ বজায় রাখতে পারবে না, তাহলে সেক্ষেত্রে স্ত্রী যদি কিছু বিনিময় দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় তবে উভয়ের কারো পাপ হবে না।” (সূরাহ্ আল বাকারহ ২১২৯)নিম্নের বিশুদ্ধ হাদীসটিসহ একাধিক বিশুদ্ধ হাদীসও খুলা' বৈধ হওয়ার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। খুলা' ত্বলাক্ব কিনা? এ নিয়ে ফুকাহায়ে কিরামের মাঝে ইখতিলাফ বিদ্যমান ।ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-সহ কতিপয় ইমামের মতে খুলা' ত্বলাক্ব। পক্ষান্তরে ইমাম আহমাদসহ আরো কতিপয় ফকীহরে মতে খুলা' ত্বলাক্ব নয়। বরং 'ফাস্খে নিকাহ' বা বিবাহ বাতিল করা। পূর্বে উল্লেখিত আভিধানিক অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখেও বলা যায়। খুলা' হলো বিবাহ খুলে ফেলানো ৷মিশকাতের আধুনিক ভাষ্যগ্রন্থ আনোয়ারুল মিশকাতের ব্যাখ্যাকার ইমাম আহমাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, তিনি বলেছেন, খুলা' তুলার নয়, বরং 'বিচ্ছেদ। কেননা আল্লাহর কালামে বলা হয়েছে- অর্থাৎ “তুলাক্ব দু'বার ..... অতঃপর সে যদি তুলাক্ব দেয়”- (সূরাহ্ আত্ব ত্বলাক্ব ৬৫। ২৯-৩০)। এ শেষ বাক্যের পূর্বে খুলা'র কথা বর্ণনা করা হয়েছে। এতে বুঝা যায় যে, খুলা' তুলার নয়। কেননা প্রথমে ২ ত্বলাক্ব, খুলা'কে যদি তুলাক্ব ধরা হয় তাহলে সেটা এক তুলাক্ব, পরের বাক্যে (এক) তুলার উল্লেখ হয়েছে, এতে মোট ৪ তুলাক্ব হয়। অথচ এটা কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং খুলা তুলাক নয় বরং 'ফাসখে নিকাহ' বা বিবাহ ভঙ্গ মাত্র। অবশ্য খুলা'কে তুলাকের বর্ণনার মধ্যেই উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র।তুলাক্ব ও তাহলীল গ্রন্থকার হাফিয ইবনু কুইয়িম-এর বরাত দিয়ে লিখেছেন, তিনি বলেন, খুলা' যে তুলাক্ব নয়, তার প্রমাণ হলো তুলাকের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলা যে তিনটি বিধানের কথা বলেছেন, যেগুলোর সব কটি খুলা'তে পাওয়া যায় না। সে তিনটি নিম্নরূপ :(১) তুলাকে রজ'ই-এর পর স্বামী তার স্ত্রীকে 'ইদ্দাতের মধ্যে বিনা বিবাহ ও (বিনা বাধায়) ফিরিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু খুলা' হলে স্ত্রীর সম্মতি ব্যতীত তা পারবে না।(২) 'ত্বলাক্ব' তিন পর্যন্ত সীমিত। তুলার সংখ্যা পূর্ণ হয়ে গেলে স্ত্রীর অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ ও মিলন না হওয়া পর্যন্ত প্রথম স্বামী তাকে ফিরিয়ে নিতে পারবে না। কিন্তু খুলা'য় স্ত্রীকে অপর কারো সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হয়েই প্রথম স্বামীর কাছে নতুন বিবাহের মাধ্যমে ফিরে যেতে পারবে।(৩) খুলা'র 'ইদ্দাত হলো এক ঋতু। পক্ষান্তরে সহবাসকৃত স্ত্রীর ‘ইদ্দাত হলো তিন তুহর। ('তুলাক্ব ও তাহলীল' ১১-১২ পৃঃ, ড. আসাদুল্লাহ আল গালীব)এ ছাড়াও ঋতুকালে কিংবা পবিত্রকালে, ঋতু পরবর্তী সহবাসকৃত কিংবা সহবাসহীন, সকল অবস্থায়ই খুলা' করতে পারে, কিন্তু ঋতুকালে ত্বলাক্ব দেয়ার বিধান নেই। অনুরূপ ঋতুর পর সহবাসের পূর্বে তুলা দিতে হবে সহবাসের পরে নয়।স্বামী স্ত্রী উভয়ের যদি দাম্পত্য জীবন মনোমালিন্য, অসহনীয় এবং অপছন্দনীয় হয়; স্বামী যদি বিচ্ছিন্ন হতে চায় তবে সেটা তার হাতে এবং সে তা প্রয়োগ করবে। আর যদি স্ত্রী বিচ্ছিন্ন হতে চায়, তবে তার হাতে রয়েছে খুলা' এবং সে এটা প্রয়োগ করবে। সুতরাং খুলা' ও ত্বলাক্ব ভিন্ন বস্তু তা স্পষ্ট।(ফিকহুস্ সুন্নাহ্ ২য় খণ্ড, পৃঃ ২৯৯)

মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৩৩৮১-[৬]

عَنْ هِلَالِ بْنِ أُسَامَةَ عَنْ أَبِي مَيْمُونَةَ سُلَيْمَانَ مَوْلًى لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ قَالَ: بَيْنَمَا أَنَا جَالِسٌ مَعَ أَبِي هُرَيْرَةَ جَاءَتْهُ امْرَأَةٌ فَارِسِيَّةٌ مَعَهَا ابْنٌ لَهَا وَقَدْ طَلَّقَهَا زَوْجُهَا فَادَّعَيَاهُ فَرَطَنَتْ لَهُ تَقُولُ: يَا أَبَا هُرَيْرَةَ زَوْجِي يُرِيدُ أَنْ يَذْهَبَ بِابْنِي. فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: اسْتهمَا رَطَنَ لَهَا بِذَلِكَ. فَجَاءَ زَوْجُهَا وَقَالَ: مَنْ يُحَاقُّنِي فِي ابْنِي؟ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: اللَّهُمَّ إِنِّي لَا أَقُولُ هَذَا إِلَّا أَنِّي كُنْتُ قَاعِدًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَتْهُ امْرَأَةٌ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ زَوْجِي يُرِيدُ أَنْ يَذْهَبَ بِابْنِي وَقَدْ نَفَعَنِي وَسَقَانِي مِنْ بِئْرِ أَبِي عِنَبَةَ وَعِنْدَ النَّسَائِيِّ: مِنْ عَذْبِ الْمَاءُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اسْتَهِمَا عَلَيْهِ» . فَقَالَ زَوْجُهَا مَنْ يُحَاقُّنِي فِي وَلَدِي؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَا أَبُوكَ وَهَذِهِ أُمُّكَ فَخُذْ بِيَدِ أَيِّهِمَا شِئْتَ» فَأَخَذَ بيد أمه. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد. وَالنَّسَائِيّ لكنه ذكر الْمسند. وَرَوَاهُ الدَّارمِيّ عَن هِلَال بن أُسَامَة

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন আমি আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর নিকটে বসেছিলাম, এমতাবস্থায় একটি ছেলে (কোলে করে) এক অনারবীয় রমণী আসলেন, যাকে তার স্বামী ত্বলাক্ব দিয়েছে। কিন্তু উভয়ে ছেলেটির প্রতিপালনের দাবি করছে। রমণীটি ফারসীতে বলল, হে আবূ হুরায়রাহ্! আমার (ত্বলাক্বদাতা) স্বামী আমার ছেলেকে নিয়ে যেতে চায়। আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) ফারসী ভাষাতেই তাদেরকে বললেন, তোমরা এ ব্যাপারে লটারী কর। তখন স্বামী এসে বলল, আমার ছেলের ব্যাপারে আমার সাথে কে টানাটানি করতে চায়?আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ! আমি এ ফায়সালা এজন্যই দিয়েছি যে, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময়ে তাঁর নিকটে এক স্ত্রীলোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্বামী আমার এ ছেলেকে নিয়ে যেতে চায়। অথচ সে আমার যাবতীয় কাজকর্মের মাধ্যমে উপকার করে এবং নাসায়ীর বর্ণনায় আবূ ‘ইনাবার কূপ হতে মিষ্টি পানি এনে আমাকে পান করায়। এটা শুনে রাসূলুল্লাহ বললেন, তোমরা উভয়ে লটারী কর। এতে তার স্বামী বলল, আমার ছেলের ব্যাপারে আমার সাথে কে টানাটানি করে? এ কথায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ তোমার পিতা, এ তোমার মা, তুমি যার কাছে ইচ্ছা যেতে পার। অতঃপর সে মায়ের হাত ধরে চলে গেল। মুসনাদ গ্রন্থকার এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এবং দারিমী হিলাল ইবনু উসামাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ২২৭৭, নাসায়ী ৩৪৯৬, দারিমী ২২৯৮।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন