১৯/৫. অধ্যায়ঃ
যুদ্ধবন্দীদের বিধিমালা - প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৩৯৬৭-[৮]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৩৯৬৭-[৮]
وَعَنْ قَتَادَةَ قَالَ: ذَكَرَ لَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ عَنْ أَبِي طَلْحَةَ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ يَوْمَ بَدْرٍ بِأَرْبَعَةٍ وَعِشْرِينَ رَجُلًا مِنْ صَنَادِيدِ قُرَيْشٍ فَقَذَفُوا فِي طَوِيٍّ مِنْ أَطْوَاءِ بَدْرٍ خَبِيثٍ مُخْبِثٍ وَكَانَ ذَا ظهرَ عَلَى قَوْمٍ أَقَامَ بِالْعَرْصَةِ ثَلَاثَ لَيَالٍ فَلَمَّا كَانَ بِبَدْرٍ الْيَوْمَ الثَّالِثَ أَمَرَ بِرَاحِلَتِهِ فَشَدَّ عَلَيْهَا رَحْلَهَا ثُمَّ مَشَى وَاتَّبَعَهُ أَصْحَابُهُ حَتَّى قَامَ عَلَى شَفَةِ الرَّكِيِّ فَجَعَلَ يُنَادِيهِمْ بِأَسْمَائِهِمْ وأسماءِ آبائِهم: «يَا فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ وَيَا فُلَانُ بْنَ فُلَانٍ أَيَسُرُّكُمْ أَنَّكُمْ أَطَعْتُمُ اللَّهَ وَرَسُولَهُ؟ فَإِنَّا قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا فَهَلْ وَجدتمْ مَا وعدَكم رَبُّكُمْ حَقًّا؟» فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا تُكَلِّمَ مِنْ أَجْسَادٍ لَا أَرْوَاحَ لَهَا؟ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ مَا أَنْتُمْ بِأَسْمَعَ لِمَا أَقُولُ مِنْهُمْ» . وَفِي رِوَايَةٍ: «مَا أَنْتُمْ بِأَسْمَعَ مِنْهُمْ وَلَكِنْ لَا يُجِيبُونَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَزَادَ الْبُخَارِيُّ: قَالَ قَتَادَةُ: أَحْيَاهُمُ اللَّهُ حَتَّى أَسْمَعَهُمْ قولَه توْبيخاً وتصغيرا ونقمة وحسرة وندما
আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) আবূ ত্বলহাহ্ (রাঃ) সূত্রে আমাদের নিকট বর্ণনা করেন, বদর যুদ্ধ শেষে আল্লাহর নবী জন কুরায়শ নেতার লাশ (কূপে ফেলার) ব্যাপারে নির্দেশ দেন। অতঃপর বদর প্রান্তরে একটি নোংরা দুর্গন্ধময় কূপে তাদের লাশ ফেলা হলো। তিনি) যখন কোনো গোত্রের ওপর বিজয় লাভ করতেন, তখন সে যুদ্ধস্থলে তিনরাত অবস্থান করতেন। বদর প্রান্তেও তৃতীয় দিনে তাঁর নির্দেশে সওয়ারীর গদি বাঁধা হলো। অতঃপর তিনি (ﷺ) একদিকে কিছু পথ পায়ে হেঁটে চললেন, সহাবীগণও তাঁর পশ্চাদানুসরণ করলেন। পথিমধ্যে তিনি (ﷺ) ঐ কূপের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং তাতে নিক্ষিপ্ত কুরায়শ সরদারদের মৃতদেহ ও তাদের বাপ-দাদার নাম ধরে উচ্চৈঃস্বরে ডাকতে লাগলেন, হে অমুকের পুত্র অমুক! হে অমুকের পুত্র অমুক! তোমরা কি এখন বুঝতে পেরেছ, আল্লাহ ও তার রাসূলের কথা মেনে চললে তোমরা খুশি হতে পারতে? আমাদের রব আমাদের সঙ্গে (বিজয়ের) যে ওয়া‘দাহ্ করেছিলেন, আমরা তা সঠিকভাবে পরিপূর্ণরূপে পেয়েছি। তোমরাও কি এখন তোমাদের রবের ঘোষণা (কুফরীর পরিণাম ভয়াবহ দুরাবস্থা) সঠিকভাবে প্রত্যক্ষ করেছ? তখন উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আপনি আত্মাবিহীন লাশের সাথে কী কথা বলছেন? জবাবে নবী (ﷺ) বললেন, সে মহান সত্ত্বার কসম, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! আমি যা বলছি তা তোমরা তাদের অপেক্ষা বেশি শুনতে পাচ্ছ না। অপর এক বর্ণনাতে আছে, তোমরা তাদের অপেক্ষা অধিক শুনতে পাওনি। তবে পার্থক্য এই যে, তারা জবাব দিতে পারে না। বুখারীর বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে যে, বর্ণনাকারী ক্বতাদাহ্ (রাঃ) বলেছেন, নবী (ﷺ)-এর কথাগুলো শুনার জন্য আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে জীবিত করে দিয়েছিলেন যেন তারা ভর্ৎসনা, লাঞ্ছনা, অপমান, অনুশোচনা ও লজ্জা অনুভব করতে পারে।
[১] সহীহ : বুখারী ৩৯৭৬, মুসলিম ২৮৭৫, আহমাদ ১৬৩৫৯।
