২০/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৭২-[৯] - পাথর দিয়ে জরুরি যবেহ
শিকার ও যবেহ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
হারামের বাইরে মুহরিম ছাড়া অন্যদের জন্য শিকার করা হালাল। আর ভক্ষণযোগ্য প্রাণী কেবল শিকারীর জন্য শিকার করা বৈধ। আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তা‘আলা বলেন: (وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا) ’’...যখন তোমরা ইহরাম মুক্ত হবে তখন শিকার করতে পার...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ২)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, (وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا) ’’...তোমরা যতক্ষণ ইহরামে থাকবে ততক্ষণ স্থলে শিকার তোমাদের জন্য হারাম...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৯৬)।এখানে আমর বা নির্দেশসূচক শব্দ দ্বারা মুস্তাহাব উদ্দেশ্য, কেননা তা (শিকার করা একটি উপার্জন এবং এর দ্বারা সৃষ্টিকুলের উপকার হয়, অতএব তা) বৈধ। আসলে এখানে মূল বিষয় হলো আল্লাহ তা‘আলার কথা: (وَمَا عَلَّمْتُمْ مِنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللهُ) ’’...শিকারী পশু-পাখি যাদেরকে তোমরা শিকার শিখিয়েছ আল্লাহ তোমাদেরকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে তোমরা তাদেরকে শিখিয়ে থাক...’’- (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫ : ৪)। অর্থাৎ তোমরা যে সকল প্রাণীকে শিকার করার উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছ যথাক্রমে কোন হিংস্র প্রাণী, পাখি, কুকুর, চিতাবাঘ, বাজ পাখিসহ অন্যান্য প্রাণী যদি শিকার করে তোমাদের জন্য বহন করে নিয়ে আসে তবে তা থেকে তোমরা খেতে পার। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
জরুরি অবস্থায় পাথর দিয়ে যবেহের বিধান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪০৭২-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪০৭২-[৯]
وَعَن كعبِ بنِ مَالك أَنه كانَ لَهُ غَنَمٌ تُرْعَى بِسَلْعٍ فَأَبْصَرَتْ جَارِيَةٌ لَنَا بِشَاةٍ مِنْ غَنَمِنَا مَوْتًا فَكَسَرَتْ حَجَرًا فَذَبَحَتْهَا بِهِ فَسَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأمره بأكلها. رَوَاهُ البُخَارِيّ
কা'ব ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তার এক পাল বকরী ছিল, যা সাল্'ই পাহাড়ী এলাকায় চরত। এক সময় আমাদের এক দাসী দেখতে পেল যে, আমাদের পালের একটি বকরী মরণাপন্ন হয়ে পড়েছে। তখন সে একখণ্ড পাথর ভেঙ্গে নিলো এবং তার দ্বারা বকরীটিকে যবেহ করে দিলো। অতঃপর নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাকে তা খাওয়ার অনুমতি দিলেন।
[১] সহীহ : বুখারী ২৩০৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৮৯৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯৬২২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪০৭২-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কা'ব ইবনু মালিক (রাঃ)-এর বকরীর পাল নিয়ে একটি ঘটনা এসেছে। একটি বকরী মরণাপন্ন হয়ে পড়লে তাঁদের এক দাসী পাথর ভেঙে সেটি দিয়ে বকরীটিকে যবেহ করে। পরে বিষয়টি নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তা খাওয়ার অনুমতি দেন। এখানে জরুরি অবস্থায় যবেহ, ধারালো পাথর, মরণাপন্ন পশু এবং খাবারের হালাল হওয়ার বিষয় এসেছে। হাদিসটি দেখায়, যবেহের মূল লক্ষ্য হলো সঠিকভাবে প্রাণীটির রক্ত প্রবাহিত হওয়া এবং শরীয়তসম্মতভাবে কাজটি সম্পন্ন হওয়া। তবে এটি হাদিসে বলা বিশেষ ঘটনার আলোকে বোঝা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জরুরি অবস্থায় ধারালো পাথর দিয়ে যবেহ করা যেতে পারে।
- মরণাপন্ন পশুকে সময়মতো যবেহ করলে তা খাওয়ার অনুমতি এসেছে।
- যবেহের বিষয় নিশ্চিত করতে জিজ্ঞেস করা সাহাবিদের অভ্যাস ছিল।
- হালাল খাবারের ব্যাপারে সতর্কতা রাখা জরুরি।
