৩/৫. অধ্যায়ঃ
গোসলের বিবরণ - প্রথম অনুচ্ছেদ
’আল্লামা কুসত্বুলানী (রহঃ)-এর ভাষ্য মতেঃغَيْنٌবর্ণে ফাতাহ যোগেغَسْلٌশব্দটি মাসদার। এর অর্থ কোন কিছু ধৌত করা এবং গোসল করা।غَيْنٌবর্ণে কাসরাহ্ যোগেغِسْلٌশব্দের অর্থ বরইপাতা, খিত্বমী ঘাস ইত্যাদির নাম যেসব বস্ত্তর দ্বারা ধৌত করা হয়। আরغَيْنٌবর্ণে যম্মাযোগেغُسْلٌশব্দের অর্থ পানি যা দ্বারা গোসল করা হয়। প্রথম দু’ক্ষেত্রেغَسْلٌএর অর্থ কোন কিছুর উপর পানি ঢেলে দেয়া। তবে গোসলে শরীর ঘষে পরিষ্কার করা বা ঘর্ষণ করার বিধান নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। মালিকীগণ গোসলে ঘর্ষণের শর্তারোপ করেছে। তাদের মতে যাতে ঘর্ষণ নেই তাকে গোসল বলা হবে না বরং তা হলো পানি ঢেলে দেয়া বা বাহিয়ে দেয়া। কিছু হানাফীদের মতে গোসলের ক্ষেত্রে ঘর্ষণটি আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্তব্য। ভাষ্যকার বলেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি ’’তোমরা চুল ধৌত করো এবং চামড়া পরিষ্কার করো’’ দ্বারা ঘর্ষণের আবশ্যকতার বিষয়টি অনুমিত হয়। কারণ ঘর্ষণ ব্যতীত শুধু পানি ঢালার মাধ্যমে শরীর পরিষ্কার হয় না। অধিকন্তু গোসলের বিধানের ক্ষেত্রে ঘর্ষণ একটি উপযোগী বিষয়। কারণ গোসল হলো প্রতিপালকের সামনে দন্ডায়মানের উদ্দেশে বাহ্যিক অঙ্গসমূহের অবস্থা সুন্দর করা যা ঘর্ষণ ব্যতীত পূর্ণতা লাভ করে না।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৪৩৩-[৪]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৪৩৩-[৪]
وَعَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ اللهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ فَهَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ مِنْ غُسْلٍ إِذَا احْتَلَمَتْ قَالَ نَعَمْ إِذَا رَأَتِ الْمَاءَ فَغَطَّتْ أُمُّ سَلَمَةَ وَجْهَهَا وَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ أَوَتَحْتَلِمُ الْمَرْأَةُ؟ قَالَ نَعَمْ تَرِبَتْ يَمِينُكِ فَبِمَا يُشْبِهُهَا وَلَدُهَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন (আনাস-এর মা) উম্মু সুলায়ম (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তা‘আলা হাক্ব কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না। স্ত্রীলোকের স্বপ্নপদোষের কারণে তার উপর কি গোসল ফরজ হয়? তিনি (ﷺ) উত্তরে বললেন : হাঁ, যদি (ঘুম থেকে জেগে উঠে) বীর্য দেখে। এ উত্তর শুনে উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) (লজ্জায়) স্বীয় মুখ ঢেকে ফেললেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! স্ত্রীলোকেরও আবার স্বপ্নদোষ হয় (পুরুষের ন্যায় বীর্যপাত হয়)। উত্তরে তিনি (ﷺ) বললেন, হাঁ। কি আশ্চর্য! (তা না হলে) তার সন্তান তার সদৃশ হয় কিভাবে? [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৩০, মুসলিম ৩১৩।
