২৩/২. অধ্যায়ঃ
জ্যোতিষীর গণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
الكهانة(জ্যোতিষীর গণনা)।كهانةএর ’কাফ’ বর্ণে যবর ও যের যোগে।كهانةদ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হলো মানুষের গোপন বিষয় যা ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে, সে সম্পর্কে সংবাদ দেয়া। জাহিলী যুগে ’আরবদের মধ্যে এكهانةপ্রচলিত ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবী করত যে, তার অনুগত জীন আছে, সে বিভিন্ন সংবাদ তাকে এনে দেয়। আর বর্ণিত আছে যে, শায়ত্বনেরা কথা চুরি করে এতে জ্যোতিষীদের (كهانة) কাছে বলে দিত। আর তাতে তারা প্রয়োজনমত বৃদ্ধি করত। আর তাদের মধ্যে কাফিররা তা গ্রহণ করত। কিন্তু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখন প্রেরণ করা হলো তখন আকাশমণ্ডলীতে পাহারা নিযুক্ত করা হলো এবংكهانةতথা জ্যোতিষীদের বাতিল করা হল।আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলত যে, সে কথাবার্তা, কাজকর্ম এবং অবস্থাসমূহ দেখে কিছু অনুমান করে বিভিন্ন জিনিস জানতে পারে। আর এ প্রকারটিকে নির্দিষ্ট (খাস) করা হয়েছে ঐ জ্যোতিষীর জন্য, যে দাবী করে চুরি যাওয়া বস্তু এবং হারিয়ে যাওয়া বস্তু কোথায় আছে তা সে বলে দিতে পারে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৪৫৯৬-[৫]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৪৫৯৬-[৫]
وَعَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ: صَلَّى لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الصُّبْحِ بِالْحُدَيْبِيَةِ عَلَى أَثَرِ سَمَاءٍ كَانَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَلَمَّا انْصَرَفَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ: «هَلْ تَدْرُونَ مَاذَا قَالَ ربُّكم؟» قَالُوا: الله وَرَسُوله أعلم قَالَ: أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ فَأَمَّا مَنْ قَالَ: مُطِرْنَا بِفَضْلِ اللَّهِ وَرَحْمَتِهِ فَذَلِكَ مُؤْمِنٌ بِي كَافِرٌ بِالْكَوْكَبِ وَأَمَّا مَنْ قَالَ: مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا فَذَلِكَ كَافِرٌ بِي وَمُؤمن بالكوكب
যায়দ ইবনু খালিদ আল জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
'হুদায়বিয়া'য় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাত্রের বৃষ্টির পর ভোরে আমাদের ফাজরের সালাত আদায় করালেন। সালাত শেষ করে তিনি (ﷺ) লোকেদের (মুক্তাদীদের) দিকে ফিরে বললেন : তোমরা কি জানো, তোমাদের রব কি বলেছেন? তারা বলল : আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন। তিনি (ﷺ) বললেন, রব্ বলেছেন : আমার বান্দাগণ আজ এমন অবস্থায় ভোর করেছে যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার প্রতি ঈমান পোষণকারী এবং কেউ কেউ আমাকে অস্বীকারকারী। যে বলেছে, আল্লাহর রহমাত ও করুণায় আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে আমার প্রতি ঈমান পোষণকারী এবং তারকা বা নক্ষত্রে অস্বীকারকারী। আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে আমার সাথে কুফ্রী করেছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাস করেছে।
[১] সহীহ : বুখারী ৮৪৬, মুসলিম (৭১)-১২৫, নাসায়ী ১৫২৫, ইরওয়া ৬৮১, আবূ দাঊদ ৩৯০৬, আল জামি‘উস্ সগীর ১২৯৮৪, সহীহুল জামি‘ ৭০২৮, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৭০১, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৫৬৩, মা‘রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাক্বী ২০৮১, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ২১০০৩, মুসনাদুশ্ শাফি‘ঈ ৩৫৮, আহমাদ ১৭০৬১, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৮৮, ‘নাসায়ী’র কুবরা ১৮৩৩, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ৫০৬৫, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৬১৮৬, ‘বায়হাক্বী’র কুবরা ৬৬৮০।
