২৫/১০. অধ্যায়ঃ
জিহ্বার হেফাজত, গীবত এবং গালমন্দ প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
জিহ্বার হিফাযাত বলতে অশ্লীল-অবাঞ্ছিত কথা-বার্তা ইত্যাদি থেকে জিহ্বাকে রক্ষা করা। গীবত বলা হয় তোমার মুসলিম ভাইয়ের মধ্যে বিদ্যমান কোন দোষ তার অসাক্ষাতে আলোচনা করা যা সে শুনলে তা অপছন্দ করবে। তার মধ্যে যদি দোষটি না থাকে তবে সেটা হবে বুহতান বা অপবাদ।আরবীতেاَلشَّتَمُবলা হয় গালি প্রদান করা, অভিসম্পাত করা। এতে জীবিত-মৃত, উপস্থিত-অনুপস্থিত সকলেই এর অন্তর্ভুক্ত।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৪৮২৯-[১৮]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৪৮২৯-[১৮]
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَجُلًا اسْتَأْذَنَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَقَالَ: «ائْذَنُوا لَهُ فَبِئْسَ أَخُو الْعَشِيرَةِ» فَلَمَّا جَلَسَ تَطَلَّقَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي وَجْهِهِ وَانْبَسَطَ إِلَيْهِ. فَلَمَّا انْطَلَقَ الرَّجُلُ قَالَتْ عَائِشَةُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قُلْتَ لَهُ: كَذَا وَكَذَا ثُمَّ تَطَلَّقْتَ فِي وَجْهِهِ وَانْبَسَطْتَ إِلَيْهِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَتى عهدتني فحاشا؟ ؟ إِن شَرّ النَّاس مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ تَرَكَهُ النَّاسُ اتِّقَاءَ شَرِّهِ» وَفِي رِوَايَةٍ: «اتِّقَاءَ فُحْشِهِ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
‘আয়িশাহ্ সিদ্দীক্বা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি প্রার্থনা করল। নবী (ﷺ) (সহাবায়ে কিরাম (রাঃ)-কে) বললেন : তাকে আসার অনুমতি দাও। সে নিজের গোত্রের খারাপ ব্যক্তি। যখন লোকটি তাঁর দরবারে এসে বসল, তখন তিনি (ﷺ) প্রশস্ত ললাটে তার দিকে তাকালেন এবং মৃদু-হাস্যে তার সাথে কথা বললেন। যখন লোকটি চলে গেল, তখন ‘আয়িশাহ্ সিদ্দীক্বা (রাঃ) বললেন : হে আল্লাহর রাসূল! আপনি লোকটি সম্পর্কে এমন এমন বলেছেন, অতঃপর আপনিই তার সাথে প্রশস্ত ললাটে সাক্ষাৎ করলেন এবং মৃদু হেসে কথা বললেন। এটা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : তুমি কি আমাকে কখনো অশ্লীলভাষী পেয়েছ? কেয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে মানুষের মধ্যে মর্যাদার দিক দিয়ে সে-ই নিকৃষ্ট হবে, যাকে মানুষ তার অনিষ্টের ভয়ে ত্যাগ করে।অপর এক বর্ণনায় আছে, যাকে মানুষ তার অশ্লীলতার ভয়ে পরিত্যাগ করবে।
[১] সহীহ : বুখারী ৬০৫৪, ৬১৩১; মুসলিম ৭৩-(২৫৯১) তিরমিযী ১৯৯৬, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১০৮৯, আবূ দাঊদ ৪৭৯১, সহীহুল জামি‘ ২০৯৫, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৯৮৯, আহমাদ ২৪১০৬, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৪৮২৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৬৯৬, শু‘আবুল ঈমান ৮১০১, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২১৬৮২।
