২৫/১৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৩৩-[৭] - তিন ক্ষেত্রে কথার বিশেষ ছাড়
সাক্ষাৎ ত্যাগ, সম্পর্কচ্ছেদ ও দোষান্বেষণে নিষেধাজ্ঞা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
তিন জায়গায় কথার বিশেষ ছাড়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫০৩৩-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫০৩৩-[৭]
عَن أَسمَاء بنت يزِيد قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا يَحِلُّ الْكَذِبُ إِلَّا فِي ثَلَاثٍ: كَذِبُ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ لِيُرْضِيَهَا وَالْكَذِبُ فِي الْحَرْبِ وَالْكَذِبُ لِيُصْلِحَ بَيْنَ النَّاسِ . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ
আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : মিথ্যা বলা শুধু তিন জায়গায় জায়িয আছে—১. নিজের স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করার জন্য স্বামীর মিথ্যা কথা বলা,২. যুদ্ধের সময় মিথ্যা বলা এবং৩. মানুষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসার উদ্দেশে মিথ্যা বলা।
[১] (لِيُرْضِيَهَا) ব্যতীত হাদীসটি সহীহ : তিরমিযী ১৯৩৯, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৫৪৫, আহমাদ ২৭৬০৮।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৩৩-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, মিথ্যা বলা সাধারণভাবে বৈধ নয়; তবে তিনটি ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় এসেছে। প্রথমত, স্বামী নিজের স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করার জন্য এমন কথা বলতে পারে যা সম্পর্ক নরম রাখে। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধের সময় শত্রুর মোকাবিলায় কৌশলগত কথা। তৃতীয়ত, মানুষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসার উদ্দেশে কথা বলা। হাদিসটির ভাষা খুব সীমিত ও নির্দিষ্ট। তাই এটিকে সাধারণ জীবনে মিথ্যার সুযোগ হিসেবে নেওয়া যাবে না। বরং উদ্দেশ্য হলো সম্পর্ক রক্ষা, বিবাদ কমানো এবং প্রয়োজনীয় কৌশল। বিশেষ করে মানুষের মধ্যে মীমাংসা করানোর সময় ভালো কথা বলা, ভুল বোঝাবুঝি কমানো এবং দুই পক্ষকে কাছাকাছি আনা এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাধারণভাবে মিথ্যা বলা বৈধ নয়; হাদিসে নির্দিষ্ট তিন ক্ষেত্রে ছাড় এসেছে।
- মীমাংসার উদ্দেশ্য হতে হবে সম্পর্ক ঠিক করা।
- স্বামী-স্ত্রীর কথায় সম্পর্ক নরম রাখার দিকটি দেখা হয়েছে।
- যুদ্ধের সময় কৌশলগত কথা বলা আলাদা বিষয় হিসেবে এসেছে।
