২৬/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫২৯৬-[২] - উক্কাশাহ ও সত্তর হাজার
তাওয়াক্কুল (আল্লাহর উপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
সত্তর হাজার জান্নাতবাসী ও উক্কাশাহর দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫২৯৬-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫২৯৬-[২]
وَعَنْهُ قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فَقَالَ: عُرِضَتْ عَلَيَّ الْأُمَمُ فَجَعَلَ يَمُرُّ النَّبِيُّ وَمَعَهُ الرَّجُلُ وَالنَّبِيُّ وَمَعَهُ الرَّجُلَانِ وَالنَّبِيُّ وَمَعَهُ الرَّهْطُ وَالنَّبِيُّ وَلَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ فَرَأَيْتُ سَوَادًا كَثِيرًا سَدَّ الْأُفُقَ فَرَجَوْتُ أَنْ يَكُونَ أُمَّتِي فَقِيلَ هَذَا مُوسَى فِي قَوْمِهِ ثُمَّ قِيلَ لِي انْظُرْ فَرَأَيْتُ سَوَادًا كَثِيرًا سَدَّ الْأُفُقَ فَقِيلَ لِي انْظُرْ هَكَذَا وَهَكَذَا فَرَأَيْتُ سَوَادًا كَثِيرًا سَدَّ الْأُفق فَقيل: هَؤُلَاءِ أُمَّتُكَ وَمَعَ هَؤُلَاءِ سَبْعُونَ أَلْفًا قُدَّامَهُمْ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ هُمُ الَّذِينَ لَا يَتَطَيَّرُونَ ولايسترقون وَلَا يَكْتَوُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ فَقَامَ عُكَّاشَةُ بْنُ مِحْصَنٍ فَقَالَ: ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ. قَالَ «اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ مِنْهُمْ». ثُمَّ قَامَ رجل فَقَالَ: ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ. فَقَالَ سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ. مُتَّفق عَلَيْهِ متفق علیہ، رواہ البخاری (5752) و مسلم (374 / 220)، (527) ۔ (مُتَّفق عَلَيْهِ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাইরে এসে (আমাদেরকে) বললেন, (পূর্বের নবীগণের) উম্মতদেরকে আমার সম্মুখে পেশ করা হল। (দেখলাম) একজন নবী যাচ্ছেন, তাঁর সাথে রয়েছে মাত্র একজন লোক। আরেকজন নবী, তাঁর সাথে রয়েছে কেবল দু'জন লোক। অন্য এক নবীর সাথে রয়েছে একদল লোক। একজন নবী এমনও ছিলেন, যাঁর সাথে কেউ ছিল না। অতঃপর দেখলাম এক বিরাট দল, যা দিগন্ত জুড়ে রয়েছে। তখন আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম : এ দলটি যদি আমার উম্মত হত। এ সময় বলা হলো, এটা মূসা (আঃ) ও তাঁর জাতি।অতঃপর আমাকে বলা হলো, আপনি ভালো করে দৃষ্টি দিন। তখন আমি দিগন্ত জোড়া একটি বিশাল দল দেখলাম। এ সময় আমাকে আবার বলা হলো, আপনি এদিক-ওদিক দেখুন। তখন আমি বিরাট দল দেখতে পেলাম, যা (এ সকল) দিগন্ত জুড়ে রয়েছে। এবার আমাকে জানানো হলো, এরা আপনার উম্মত। এদের সামনে সত্তর হাজার লোক রয়েছে যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা ঐ সমস্ত লোক যারা অশুভ-অমঙ্গল চিহ্ন বা লক্ষণ মানে না, ঝাড়ফুঁক বা মন্ত্র-তন্ত্রের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন না এবং (আগুনে পোড়া লোহার) দাগ লাগায় না। তারা আপন পরওয়ারদিগারের ওপর ভরসা রাখে।তখন ‘উক্কাশাহ্ ইবনু মিহসান (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন : (হে আল্লাহর রাসূল!) আল্লাহর কাছে দোয়া করুন তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তখন তিনি (ﷺ) এ বলে দোয়া করলেন : হে আল্লাহ! তাকেও তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করো! এরপর আরেক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে আবেদন করল; আমার জন্যও আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, তিনি যেন আমাকেও এদের মাঝে গণ্য করেন। তিনি। (ﷺ) বললেন : এ ব্যাপারে ‘উক্কাশাহ্ তোমার আগে সুযোগ নিয়ে গেছে।
সহীহ: বুখারী ২৭৮৮, ২৭৮৯, মুসলিম ৩৬৭-(২১৬), তিরমিযী ১৬৪৫, ইবনু মাজাহ ২৭৭৬, মুসনাদে আহমাদ ২৪৯০, নাসায়ী ৩১৭১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব ১৩৪২, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৭০৪, আবূ দাউদ ২২৪৯, মুওয়াত্ত্বা মালিক ১৬৮৯, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ১৯৪০৩, মুসনাদে আহমাদ ৯৮৮৪, আবূ ইয়া'লা ৩৬৭৭, সহীহ ইবনু হিব্বান ৭২৪৪, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ৪৩৮০, দারিমী ২৪২১, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৯৬৫০, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ৫০১০, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৯০০৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫২৯৬-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে পূর্বের নবীদের উম্মাত পেশ করার ঘটনা এসেছে। কোনো নবীর সাথে একজন, কারও সাথে দুইজন, কারও সাথে একটি দল, আবার কারও সাথে কেউ ছিল না। পরে একটি বড় দল দেখানো হয়, প্রথমে বলা হয় সেটি মূসা (আঃ)-এর জাতি। এরপর আরও বিশাল দল দেখিয়ে জানানো হয়, তারা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর উম্মাত। তাদের সামনে সত্তর হাজার লোক থাকবে, যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে। তাদের গুণ হলো—অশুভ লক্ষণ মানে না, ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করে না, দাগ লাগায় না এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করে। উক্কাশাহ (রাঃ) দোয়া চাইলে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর জন্য দোয়া করেন। এই হাদিস তাওয়াক্কুল, কুসংস্কার থেকে মুক্তি এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এই উম্মাতের জন্য আল্লাহর বড় দয়া রয়েছে।
- কুসংস্কার ও অশুভ ধারণা থেকে দূরে থাকা তাওয়াক্কুলের অংশ।
- আল্লাহর ওপর ভরসা জান্নাতের পথে বড় গুণ।
- সৎ সুযোগ পেলে দোয়া চাওয়া ও দোয়া করা উত্তম কাজ।
