২৭/১. অধ্যায়ঃ
যুদ্ধবিগ্রহ সম্পর্কিত - প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৫৪২২-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৫৪২২-[১৩]
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: إِنَّ الساعةَ لَا تقومُ حَتَّى لَا يُقْسَمَ ميراثٌ وَلَا يُفْرَحَ بِغَنِيمَةٍ. ثُمَّ قَالَ: عَدُوٌّ يَجْمَعُونَ لِأَهْلِ الشَّامِ وَيَجْمَعُ لَهُمْ أَهْلُ الْإِسْلَامِ (يَعْنِي الرّوم) فيتشرَّطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لَا تَرْجِعُ إِلَّا غَالِبَةً فَيَقْتَتِلُونَ حَتَّى يَحْجِزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ فَيَفِيءُ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاء كل غير غَالب وتفنى الشرطة ثمَّ يَتَشَرَّطُ الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لَا تَرْجِعُ إِلَّا غالبة فيقتتلون حت يَحْجِزَ بَيْنَهُمُ اللَّيْلُ فَيَفِيءُ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاءِ كُلٌّ غير غَالب وتفنى الشرطة ثمَّ يشْتَرط الْمُسْلِمُونَ شُرْطَةً لِلْمَوْتِ لَا تَرْجِعُ إِلَّا غَالِبَةً فيقتتلون حَتَّى يُمْسُوا فَيَفِيءُ هَؤُلَاءِ وَهَؤُلَاءِ كُلٌّ غَيْرُ غَالِبٍ وَتَفْنَى الشُّرْطَةُ فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الرَّابِعِ نَهَد إِليهم بقيةُ أهلِ الإِسلام فيجعلُ الله الدَبَرةَ عَلَيْهِم فيقتلون مَقْتَلَةً لَمْ يُرَ مِثْلُهَا حَتَّى إِنَّ الطَّائِرَ ليمر يجنابتهم فَلَا يُخَلِّفُهُمْ حَتَّى يَخِرَّ مَيِّتًا فَيَتَعَادَّ بَنُو الْأَبِ كَانُوا مِائَةً فَلَا يَجِدُونَهُ بَقِيَ مِنْهُمْ إِلَّا الرَّجُلُ الْوَاحِدُ فَبِأَيِّ غَنِيمَةٍ يُفْرَحُ أَوْ أيّ مِيرَاث يقسم؟ فَبينا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ سَمِعُوا بِبَأْسٍ هُوَ أَكْبَرُ مِنْ ذَلِكَ فَجَاءَهُمُ الصَّرِيخُ: أَنَّ الدَّجَّالَ قَدْ خَلَفَهُمْ فِي ذَرَارِيِّهِمْ فَيَرْفُضُونَ مَا فِي أَيْدِيهِمْ وَيُقْبِلُونَ فَيَبْعَثُونَ عَشْرَ فَوَارِسَ طَلِيعَةً . قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي لَأَعْرِفُ أَسْمَاءَهُمْ وَأَسْمَاءَ آبَائِهِمْ وَأَلْوَانَ خُيُولِهِمْ هُمْ خَيْرُ فَوَارِسَ أَوْ مِنْ خَيْرِ فَوَارِسَ عَلَى ظَهْرِ الأَرْض يَوْمئِذٍ» . رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (37 / 2899)، (7281) ۔ (صَحِيح)
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস্'উদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কেয়ামত ততক্ষণ সংঘটিত হবে না, যে পর্যন্ত মীরাস ভাগ করা হবে না এবং গনীমাতের মালেও লোকেরা খুশি হবে না। অতঃপর ইবনু মাস্'উদ (রাঃ) (এটার ব্যাখ্যায়) বলেছেন, শত্রু অর্থাৎ রূমক নাসারাগণ সিরিয়ার মুসলিমদের বিরুদ্ধে এক বিরাট সেনাদলের সমাবেশ করবে। আর মুসলিমগণও রূমকদের মোকাবিলায় এক বিরাট বাহিনী একত্রিত করবে।অতঃপর মুসলিমগণ নিজেদের একটি দলকে নির্বাচন করে শত্রুর মোকাবিলায় মৃত্যু অবধি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠিয়ে দেবে, পূর্ণ বিজয় লাভ না করে যারা প্রত্যাবর্তন করবে না। তারপর উভয়পক্ষ যুদ্ধ করতে থাকবে রাত্রের আঁধার নেমে বাধা সৃষ্টি না করা পর্যন্ত। অতঃপর উভয়পক্ষের প্রত্যেকেই আপন আপন শিবিরে ফিরে আসবে। কেউই কারো ওপর বিজয়ী হবে না। অবশ্য উভয় সেনাদলের অগ্রবর্তী সৈন্যরা সকলেই নিহত হয়ে যাবে। অতঃপর (দ্বিতীয় দিন) মুসলিমগণ নিজেদের একটি দলকে নির্বাচন করে মৃত্যু অবধি যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য পাঠাবে, যারা বিজয়ী হওয়া ছাড়া ফিরে আসবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবে, তারপর উভয়পক্ষ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। অবশেষে রাত্র তাদের মধ্যে আড়াল হয়ে যাবে এবং উভয় দলই বিজয় ছাড়া ফিরে আসবে। এদের অগ্রবর্তী দলও নিহত হয়ে যাবে। এরপর তৃতীয় দিনও মুসলিমগণ একদল সৈন্য পাঠাবে এবং বিজয়ী হওয়া ব্যতীত ফিরে আসবে না বলে প্রতিজ্ঞা করবে। অতঃপর সন্ধ্যা পর্যন্ত উভয়পক্ষ যুদ্ধ চালিয়ে যাবে। পরিশেষে উভয়পক্ষই বিজয়ী হওয়া ছাড়া ফিরে আসবে। এদের অগ্রবর্তী দলটিও বিলীন হয়ে যাবে।অতঃপর চতুর্থ দিন মুসলিমদের অবশিষ্ট সকলেই একত্রে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবে, তখন আল্লাহ তা'আলা কাফিরদেরকে পরাজিত করে মুসলিমদেরকে তাদের ওপর বিজয় দান করবেন। এ যুদ্ধে মুসলিমগণ এমন লড়াই করবে যে, ইতোপূর্বে এরূপ ঘোরতম যুদ্ধ আর কখনো দেখা যায়নি।এমনকি যদি কোন উড়ন্ত পাখি লড়াইয়ের ময়দানের কাছ দিয়ে অতিক্রম করে, তাহলে তা সেনাদলকে পিছনে ফেলতে সক্ষম হবে না, বরং তা মরে পড়ে যাবে (পঁচা লাশের দুর্গন্ধের কারণে অথবা যুদ্ধেক্ষেত্র অতিক্রম করতে অক্ষম হওয়ার কারণে) কোন পিতা বা পরিবারের একশত সন্তান থাকলে যুদ্ধ শেষে গুণে দেখবে, তাদের মধ্যে মাত্র একটি লোক বেঁচে আছে। এমতাবস্থায় কিভাবে গনীমাতের সম্পদ দ্বারা কোন ব্যক্তি আনন্দিত হতে পারে? আর কারই বা মীরাস বণ্টিত হবে?মুসলিমগণ এ অবস্থায় থাকতেই সহসা এটা অপেক্ষা আরো একটি বিরাট যুদ্ধের সংবাদ শুনতে পাবে। তারা এ ঘোষণা শুনতে পাবে যে, তাদের অনুপস্থিতিতে দাজ্জাল (সদলবলে) তাদের পরিবার-পরিজনদের মাঝে পৌঁছে গেছে। এ সংবাদ শ্রবণমাত্রই তাদের হাতে যা কিছু ছিল তা সেখানে ফেলে দিয়েই দাজ্জালের উদ্দেশে ছুটে চলবে এবং শত্রুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য দশজন অশ্বারোহীকে অগ্রগামী হিসেবে পাঠাবে। রাসূলূল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে দশজন অশ্বারোহীকে অগ্রগামী হিসেবে পাঠানো হবে নিশ্চিতভাবে আমি তাদের ও তাদের বাপ-দাদাদের নাম-ধাম এবং তাদের অশ্বগুলোর বর্ণ কিরূপ হবে তা অবগত আছি। তারা হবে সর্বাপেক্ষা উত্তম অশ্বারোহী। অথবা বলেছেন, তৎকালীন ভূপৃষ্ঠের উত্তম আরোহীদের অন্যতম।
সহীহ : মুসলিম ৩৭-(২৮৯৯), মুসনাদে আহমাদ ৩৬৪৩, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩৭৪৮০, আবূ ইয়া'লা ৫২৫৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৭৮৬।
