২৮/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৮৮-[২৩] - জাহান্নাম থেকে মুক্তির আশার ঘটনা
হাউজে কাওসার ও শাফায়াতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুটি হাওয থাকবে। একটি পুলসিরাতের পূর্বে অবস্থানের জায়গায়, অন্যটি থাকবে জান্নাতে। উভয় হাওযের নাম কাওসার। তাদের ভাষায় কাওসার অর্থ অধিক কল্যাণ। সঠিক কথা হলো হাওযের ব্যবস্থা হবে মীযানের পূর্বে। কারণ মানুষেরা কবর থেকে পিপাসার্ত হয়ে বের হবে। অতঃপর তারা নবীদের অবস্থানস্থলে হাওয থাকবে। আমি বলি, জামি‘তে রয়েছে, হে নবী (ﷺ) আপনার জন্য হাওযে কাওসার রয়েছে।তারা গর্ব করে বলবে যে, কারা বেশি আগমন করেছে? আমি আশা করি যে, আমি তাদের মাঝে সর্বাধিক সংখ্যা নিয়ে আগমনকারী হব। রাগিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الشَّفْعُ) বলা হয় কোন জিনিসকে অনুরূপ জিনিসের সাথে যুক্ত করা এখান থেকে (الشَّفَاعَةُ) নির্গত হয়েছে। আর তা বলা হয় অন্যকে সাহায্য করার জন্য তার সাথে যোগদান করা তার থেকে গোপন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণের তুলনায় বেশি মর্যাদাবান ব্যক্তির যুক্ত হওয়া তার চাইতে কম মর্যাদার লোকের সাথে শাফা‘আত সংঘটিত হবে কিয়ামতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
জাহান্নাম থেকে মুক্তির আশাভরা আবেদন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৫৮৮-[২৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৫৮৮-[২৩]
وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ أَرْبَعَةٌ فَيُعْرَضُونَ عَلَى اللَّهِ ثُمَّ يُؤْمَرُ بِهِمْ إِلَى النَّارِ فَيَلْتَفِتُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ؟ لَقَدْ كنتُ أَرْجُو إِذا أَخْرَجْتَنِي مِنْهَا أَنْ لَا تُعِيدَنِي فِيهَا قَالَ: «فينجيه الله مِنْهَا». رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (321 / 192)، (474) ۔ (صَحِيح)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : জাহান্নাম থেকে চার লোককে বের করে আল্লাহ তা'আলার সামনে উপস্থিত করা হবে। অতঃপর তাদেরকে আবার জাহান্নামে পাঠানোর জন্য নির্দেশ করা হবে। তখন তাদের একজন পিছন ফিরে তাকিয়ে বলবে, হে প্রভু! আমি তো এ আশায় ছিলাম যে, যখন তুমি একবার আমাকে তা থেকে বের করে এনেছ, পুনরায় আমাকে সেখানে ফেরত পাঠাবে না। তখন আল্লাহ তা'আলা তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে দেবেন।
সহীহঃ মুসলিম ৩২১-(১৯২), মুসনাদে আহমাদ ১৩৩৩৭, সহীহুল জামি ৮০৫৮, মুসনাদে আবদ ইবনু হুমায়দ ১৩১২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৮৮-[২৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم চারজন লোকের কথা বলেছেন, যাদের জাহান্নাম থেকে বের করে আল্লাহর সামনে আনা হবে। এরপর তাদের আবার জাহান্নামে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হবে। তখন তাদের একজন পিছনে ফিরে তাকিয়ে বলবে, হে প্রভু, আমি আশা করেছিলাম, যখন আপনি আমাকে একবার জাহান্নাম থেকে বের করেছেন, তখন আর আমাকে সেখানে ফিরিয়ে দেবেন না। হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। এখানে বড় শিক্ষা হলো, বান্দার আশা ও আল্লাহর দয়ার সম্পর্ক। তবে এই হাদিস গুনাহকে সহজ করে দেখার কথা বলে না। বরং জাহান্নামের ভয়, আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো এবং তাঁর কাছে আশাবাদী আবেদন করার বিষয়টি সামনে আনে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর কাছে আশা রাখা মুমিনের একটি বড় গুণ।
- জাহান্নাম থেকে মুক্তি আল্লাহর দয়ার বিষয়।
- বান্দার অসহায় আবেদন আল্লাহর রহমতের কারণ হতে পারে।
- জাহান্নামের ভয় মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়।
