২৮/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৬১৯-[৮] - জান্নাতবাসীর রূপ, অন্তর ও জীবন
জান্নাত ও জান্নাতবাসীদের বিবরণ - প্রথম অনুচ্ছেদ
জান্নাতবাসীর জীবন: সৌন্দর্য, শান্তি ও তাসবীহ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৬১৯-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৬১৯-[৮]
وَعَن أبي هُرَيْرَة قا ل: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ أَوَّلَ زُمْرَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ كَأَشَدِّ كَوْكَبٍ دُرِّيٍّ فِي السَّمَاءِ إِضَاءَةً قُلُوبُهُمْ عَلَى قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ لَا اخْتِلَافَ بَيْنَهُمْ وَلَا تَبَاغُضَ لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ يُرَى مُخُّ سُوقِهِنَّ مِنْ وَرَاءِ الْعَظْمِ وَاللَّحْمِ مِنَ الْحُسْنِ يُسَبِّحُونَ اللَّهَ بُكْرَةً وَعَشِيًّا لَا يَسْقَمُونُ وَلَا يَبُولُونَ وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَلَا يَتْفُلُونَ وَلَا يَتَمَخَّطُونَ آنِيَتُهُمُ الذَّهَبُ وَالْفِضَّةُ وَأَمْشَاطُهُمُ الذَّهَبُ وَوَقُودُ مَجَامِرِهِمُ الْأَلُوَّةُ وَرَشْحُهُمُ الْمِسْكُ عَلَى خُلُقِ رَجُلٍ وَاحِدٍ عَلَى صُورَةِ أَبِيهِمْ آدَمَ ستونَ ذِرَاعا فِي السَّمَاء.رَوَاهُ مُسلم متفق علیہ، رواہ البخاری (3245 ۔ 3246، 3254) و مسلم (16، 15 / 2834)، (7147 و 7149) ۔ (صَحِيح)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : প্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে, পূর্ণিমা রজনির চাঁদের মতো (উজ্জ্বল ও সুন্দর) রূপ ধারণ করেই তারা প্রবেশ করবে। আর পরবর্তী তাদের যে দল যাবে, তারা হবে আকাশের সমুজ্জ্বল তারকার মতো উদ্দীপ্ত, জান্নাতবাসী সকলের অন্তর এক লোকের অন্তরের মতো হবে। তাদের মধ্যে কোন ঝগড়া থাকবে না এবং কোন হিংসা-বিদ্বেষও থাকবে না। তাদের প্রত্যেকের জন্য হুরি 'ঈন থেকে দু দুজন স্ত্রী থাকবে। সৌন্দর্যের কারণে তাদের হাড় ও মাংসের উপর থেকে নলার ভিতরের মজ্জা দেখা যাবে।তারা সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনায় ব্যস্ত থাকবে। তারা কখনো রোগাগ্রস্ত হবে না। তাদের পেশাব হবে না, পায়খানাও করবে না, থুথু ফেলবে না, নাক দিয়ে শ্লেষ্মা ঝরবে না। তাদের পাত্রসমূহ হবে সোনা-রূপার। আর তাদের চিরুনি হবে স্বর্ণের এবং তাদের ধুনীর জ্বালানি হবে আগরের, তাদের গায়ের ঘর্ম হবে কস্তুরীর মতো (সুগন্ধি)। তাদের স্বভাব হবে এক লোকের মতো, শারীরিক গঠন অবয়বে হবে তাদের পিতা আদাম (আঃ)-এর ন্যায়, উচ্চতায় ষাট গজ লম্বা।
সহীহঃ বুখারী ৩৩২৭, মুসলিম ১৫-(২৮৩৪), তিরমিযী ২৫৩৫, সিলসিলাতুস সহীহাহ্ ১৭৩৬, সহীহুল জামি ২০১৫, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব ৩৬৯৭, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২০৮৭৯, দারিমী ২৮২৩।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৬১৯-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জান্নাতবাসীদের অবস্থা বিস্তারিতভাবে এসেছে। প্রথম দল পূর্ণিমার চাঁদের মতো উজ্জ্বল হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। পরের দল আকাশের উজ্জ্বল তারকার মতো হবে। তাদের অন্তর এক লোকের অন্তরের মতো হবে; ঝগড়া ও হিংসা থাকবে না। তারা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করবে। তাদের রোগ হবে না, পেশাব-পায়খানা হবে না, থুথু বা নাকের ময়লা থাকবে না। তাদের পাত্র সোনা-রূপার, চিরুনি সোনার, ধুনীর জ্বালানি আগর এবং ঘাম কস্তুরীর মতো হবে। তাদের গঠন পিতা আদম (আঃ)-এর মতো বলা হয়েছে। এই হাদিস জান্নাতের শান্ত, পবিত্র ও সুন্দর জীবনকে স্পষ্ট করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জান্নাতে হিংসা, বিদ্বেষ ও ঝগড়া থাকবে না।
- জান্নাতবাসীর জীবন রোগ ও কষ্টমুক্ত হবে—এ কথা বর্ণনায় এসেছে।
- তারা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহে ব্যস্ত থাকবে।
- জান্নাতের জীবন দুনিয়ার সীমাবদ্ধতা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
