৪/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯১-[৫] - গরম, শীত ও জাহান্নামের নিঃশ্বাস
প্রথম ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সালাত আদায় - প্রথম অনুচ্ছেদ
এ অধ্যায়ে তাড়াতাড়ি সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) বলতে ফরয সালাতকে বুঝানো হয়েছে। কেননা মূলনীতি হলো ফরয সালাতকে প্রথম ওয়াক্তে তাড়াতাড়ি আদায় করে নেয়া। যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَسَارِعُوا إِلى مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ’‘তোমরা আল্লাহর মাগফিরাতের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও।’’ (সূরাহ্ আ-লি ‘ইমরান ৩: ১৩৩)অন্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ’‘তোমরা কল্যাণের কাজে তাড়াতাড়ি অগ্রসর হও।’’(সূরাহ্ আল্ বাক্বারাহ্ ২: ১৪৮)তবে বিশেষ কল্যাণের কারণে শারী‘আত প্রণেতা যে সালাতকে দেরী করে আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন তা দেরী করে আদায় করাই উত্তম। যেমন, ‘ইশার সালাত এবং প্রচন্ড গরমের সময় যুহরের সালাত।
তীব্র গরমে যুহর ও জাহান্নামের নিঃশ্বাসের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৯১-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৯১-[৫]
وَفِي رَوَايَةٍ لِلْبُخَارِىِّ عَنْ اَبِىْ سَعِيْدٍ بِالظُّهْرِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ وَاشْتَكَتْ النَّارُ إِلى رَبِّهَا فَقَالَتْ يَا رَبِّ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا فَأَذِنَ لَهَا بِنَفَسَيْنِ نَفَسٍ فِي الشِّتَاءِ وَنَفَسٍ فِي الصَّيْفِ فَهُوَ أَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الْحَرِّ وَأَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الزَّمْهَرِيرِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ - وَفِىْ رَوَايَةٍ لِّلْبُخَارِىِّ فَاَشَدَّ مَا تَجِدُوْنَ مِنَ الْحَرِّ فَمِنْ سَمُوْمِهَا وَاَشَدُّ مَا تَجِدُوْنَ مِنَ الْبَرْدِ فَمِنْ زَمْهَرِيْرِهَا
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যুহরের সালাত ঠান্ডা সময়ে আদায় করবে। (অর্থাৎ- আবূ হুরায়রার বর্ণনায় بِالصَّلَاةِ শব্দ ব্যবহার হয়েছে আর আবূ সা’ঈদের বর্ণনায় بِالظُّهْرِ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে) কারণ গরমের প্রকোপ জাহান্নামের তাপ। জাহান্নাম আপন প্রতিপালকের নিকট অভিযোগ করে বলেছিল, হে আমার আল্লাহ! (গরমের তীব্রতায়) আমার একাংশ অন্য অংশকে খেয়ে ফেলেছে। তখন আল্লাহ তাকে অনুমতি দিলেন দুইটি নিঃশ্বাস ফেলার। এক নিঃশ্বাস শীতকালে, আর এক নিঃশ্বাস গরমকালে। এজন্যই তোমরা গরমকালে তাপের তীব্রতা বেশি পাও। আর শীতকালে শীতের প্রচণ্ডতা বেশি। [১]বুখারীর আর এক বর্ণনায় আছে, তোমরা গরমের যে প্রচণ্ডতা অনুভব কর তা জাহান্নামের গরম নিঃশ্বাসের কারণেই। আর শীতের তীব্রতা যা পাও তা জাহান্নামের ঠান্ডা নিঃশ্বাসের কারণেই।
[১] সহীহ : বুখারী ৫৩৭-৫৩৮, মুসলিম ৬১৫, তিরমিযী ২৫৯২, ইবনু মাজাহ্ ৪৩১৯, আহমাদ ৭২৪৭, দারেমী ২৮৮৭, সহীহ ইবনু হিব্বান ৭৪৬৬।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯১-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় যুহরের সালাত ঠান্ডা সময়ে আদায়ের কথা এসেছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, গরমের প্রকোপ জাহান্নামের তাপের অংশ। হাদিসে আরও আছে, জাহান্নাম তার প্রতিপালকের কাছে অভিযোগ করেছিল যে তার এক অংশ আরেক অংশকে খেয়ে ফেলছে। তখন আল্লাহ তাকে দুটি নিঃশ্বাসের অনুমতি দেন—একটি শীতে, আরেকটি গ্রীষ্মে। তাই মানুষ গ্রীষ্মে তাপের তীব্রতা এবং শীতে ঠান্ডার তীব্রতা অনুভব করে। এই হাদিস আমাদের কাছে অদৃশ্য জগতের একটি বিষয় জানায়, যা রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর বর্ণনা ছাড়া জানা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তীব্র গরমে যুহর ঠান্ডা সময়ে আদায়ের নববী নির্দেশও এতে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তীব্র গরমে যুহর ঠান্ডা সময়ে আদায়ের নির্দেশ এসেছে।
- হাদিসে গরম ও শীতের তীব্রতাকে জাহান্নামের নিঃশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
- অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর বর্ণনার মাধ্যমে জানা যায়।
- গরমের সময় সালাতে সহজতার দিকটি দেখা যায়।
