৩০/১৫. অধ্যায়ঃ
এ উম্মতের (উম্মাতে মুহাম্মাদী-এর) সওয়াবের বিবরণ - প্রথম অনুচ্ছেদ
অন্য উম্মতের তুলনায় রহমাতপ্রাপ্ত এ উম্মতের আধিক্য, ও সীমাহীন ফযীলত ও নেকীর বর্ণনা প্রমাণিত। এর প্রমাণে আল্লাহ তা’আলা বলেন, (کُنۡتُمۡ خَیۡرَ اُمَّۃٍ اُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ) অর্থাৎ “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের উত্থান ঘটেছে মানব জাতির জন্য...”- (সূরা আ-লি ইমরান ৩:১১০)। আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন, (وَ کَذٰلِکَ جَعَلۡنٰکُمۡ اُمَّۃً وَّسَطًا لِّتَکُوۡنُوۡا شُهَدَآءَ عَلَی النَّاسِ) “আর এভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী উম্মত করেছি, যাতে তোমরা লোকেদের ওপর সাক্ষী হও এবং নবী তোমাদের ওপর সাক্ষী হয়...”- (সূরা আল বাক্বারাহ ২: ১৪৩)। অতএব শ্রেষ্ঠ উম্মত বলতে এ উম্মতে মুহাম্মাদী-এর হওয়া এটাই যথেষ্ট। যিনি হলেন সৃষ্টির সেরা, নবী সর্দার ও সর্বশেষ নবী। (মিশকাতুল মাসাবীহ - মুম্বাই ছাপা, ৫ম খণ্ড, পৃ. ২৯৭)
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৬২৮৩-[১]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৬২৮৩-[১]
عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّمَا أَجَلُكُمْ فِي أَجَلِ مَنْ خَلَا مِنَ الْأُمَمِ مَا بَيْنَ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَى مَغْرِبِ الشَّمْسِ وَإِنَّمَا مَثَلُكُمْ وَمَثَلُ الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى كَرَجُلٍ اسْتَعْمَلَ عُمَّالًا فَقَالَ: من يعْمل إِلَى نِصْفِ النَّهَارِ عَلَى قِيرَاطٍ قِيرَاطٍ فَعَمِلَتِ الْيَهُودُ إِلَى نِصْفِ النَّهَارِ عَلَى قِيرَاطٍ قِيرَاطٍ ثُمَّ قَالَ: مَنْ يَعْمَلُ لِي مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ إِلَى صَلَاةِ الْعَصْرِ عَلَى قِيرَاطٍ قِيرَاطٍ فَعَمِلَتِ النَّصَارَى مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ إِلَى صَلَاةِ الْعَصْرِ عَلَى قِيرَاطٍ قِيرَاطٍ. ثُمَّ قَالَ: مَنْ يَعْمَلُ لِي مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَى مَغْرِبِ الشَّمْسِ عَلَى قِيرَاطَيْنِ قِيرَاطَيْنِ؟ أَلَا فَأَنْتُمُ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ إِلَى مَغْرِبِ الشَّمْسِ أَلَا لَكُمُ الْأَجْرُ مَرَّتَيْنِ فَغَضِبَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى فَقَالُوا: نَحْنُ أَكْثَرُ عَمَلًا وَأَقَلُّ عَطَاءً قَالَ الله تَعَالَى: هَل ظَلَمْتُكُمْ مِنْ حَقِّكُمْ شَيْئًا؟ قَالُوا: لَا. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: فَإِنَّهُ فَضْلِي أُعْطِيهِ مَنْ شِئْتُ . رَوَاهُ البُخَارِيّ رواہ البخاری (3459) ۔ (صَحِيح)
ইবনু 'উমার হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ বলেছেন: অতীত জাতিসমূহের সাথে তোমাদের জীবনের তুলনা হলো, 'আসরের সালাতের সময় হতে সূর্যাস্ত অবধি। প্রকৃতপক্ষে তোমাদের এবং ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের উপমা হলো ঐ লোকেদের মতো, যে শ্রমিকদেরকে কাজে নিযুক্ত করে বলল, তোমাদের মধ্যে কে এক এক ক্বীরাত্বের (বিশেষ মুদ্রা) বিনিময়ে দ্বিপ্রহর অবধি আমার কাজ করবে? ফলে ইয়াহুদীরা দ্বিপ্রহর অবধি এক এক ক্বীরাত্বের শর্তে কাজ করল। অতঃপর ঐ লোক আবার বলল, তোমাদের মধ্যে কে এক এক ক্বীরাত্বের বিনিময়ে দ্বিপ্রহর হতে 'আস্র অবধি আমার কাজ করবে? এবার খ্রিস্টানরা দ্বিপ্রহর হতে ‘আস্র অবধি এক এক ক্বীরাত্বের বিনিময়ে কাজ করল।লোকটি অতঃপর বলল, তোমাদের কে ‘আস্র হতে সূর্যাস্ত অবধি দুই দুই ক্বীরাত্বের বিনিময়ে আমার কাজ করবে? জেনে রাখ! লোক তোমরাই, যারা ‘আসরের সালাত হতে সূর্যাস্ত অবধি কাজ করবে এবং জেনে রাখ! পারিশ্রমিক তোমাদের জন্য দ্বিগুণ। এতে ইয়াহুদী এবং খ্রিষ্টান উভয় দল ভীষণভাবে রাগান্বিত হলো এবং বলল, আমাদের কাজ বেশি এবং পারিশ্রমিক কম। তখন আল্লাহ তা'আলা বললেন, আমি কি তোমাদের পাওনা হাক্ব সম্পর্কে সামান্যটুকুও জুলুম করেছি? তারা বলল, না। অতঃপর আল্লাহ্ তা'আলা বললেন, এটা আমার অনুকম্পা যাকে ইচ্ছা দান করি।
সহীহ: বুখারী ২২৬৯, তিরমিযী ২৮৭১, মুসনাদে আহমাদ ৫৯০২, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২০৯১১, মুসনাদে আবূ ইয়া'লা ৫৫৯৯, আল মুজামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ৩০৬, আল মু'জামুল আওসাত্ব ১৬১৮।
