১/৩. অধ্যায়ঃ
তাকদীরের প্রতি ঈমান - প্রথম অনুচ্ছেদ
ক্বদর (কদর) বা তাক্বদীর তাই, যা আল্লাহ ফায়সালা করেছেন এবং কোন বিষয়ে নির্দেশ জারী করেছেন।তাক্বদীরের প্রতি ঈমান আনার অর্থঃ এ বিশ্বাস রাখা যে, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তা ভালো হোক আর মন্দ হোক, ক্ষতিকর হোক বা উপকারী হোক তা’ নির্ধারিত। এমনকি বান্দার কর্মকান্ড যার মধ্যে ঈমান আনা, কুফরী করা, আনুগত্য করা, অবাধ্য হওয়া, পথভ্রষ্ট হওয়া ও সৎ পথে চলা- সব কিছুই আল্লাহর ফায়সালা। এসব তাঁরই নির্ধারণ, ইচ্ছা, সৃষ্টি ও প্রভাবের ফল। তবে তিনি ঈমান আনয়নে ও তাঁর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং এজন্য তিনি প্রতিদানের অঙ্গীকারও করেছেন। পক্ষান্তরে কুফরী ও অবাধ্যতায় সন্তুষ্ট হন না বরং এজন্য তিনি শাস্তির ভয়প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ তা’আলা সবকিছু নির্ধারণ করেছেন। অর্থাৎ- তিনি কোন কিছু অস্তিত্বে আনার আগেই তার পরিমাণ, অবস্থা ও তার অস্তিত্বে আসার কাল বা সময় সম্পর্কে অবহিত। অতঃপর তিনি তা অস্তিত্বে এনেছেন। অতএব উর্ধ্বজগতে বা অধঃজগতে আল্লাহ ব্যতীত কোন স্রষ্টা ও নির্ধারণকারী নেই। সবকিছুই তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও ইচ্ছানুযায়ী হয়। এতে সৃষ্টি জগতের কারো ইচ্ছা বা প্রভাব নেই।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৯১-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৯১-[১৩]
وَعَنْ أَبِي مُوسى قَالَ قَامَ فِيْنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ بِخَمْسِ كَـلِمَاتٍ فَقَالَ : إِنَّ اللهَ لَا يَنَامُ وَلَا يَنْبَغِي لَهٗ أَنْ يَنَامَ يَخْفِضُ الْقِسْطَ وَيَرْفَعُهٗ يُرْفَعُ إِلَيْهِ عَمَلُ اللَّيْلِ قَبْلَ عَمَلِ النَّهَارِ وَعَمَلُ النَّهَارِ قَبْلَ عَمَلِ اللَّيْلِ حِجَابُهُ النُّوْرُ لَوْ كَشَفَهٗ لَاحْرَقَتْ سُبُحَاتُ وَجْهِه مَا انْتَهى إِلَيْهِ بَصَرُهٗ مِنْ خَلْقِه. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঁচটি বিষয়সহ আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং তিনি বললেন, (১) আল্লাহ তা‘আলা কক্ষনো ঘুমান না।(২) ঘুমানো তাঁর পক্ষে সাজেও না।(৩) তিনি দাঁড়িপাল্লা উঁচু-নিচু করেন (সৃষ্টির রিয্ক ও ‘আমাল প্রভৃতি নির্ধারিত করে থাকেন)।(৪) রাতের ‘আমাল দিনের ‘আমালের পূর্বে, আর দিনের ‘আমাল রাতের আমলের পূর্বেই তাঁর নিকটে পৌঁছানো হয় এবং(৫) তাঁর (এবং সৃষ্টিজগতের মধ্যে) পর্দা হচ্ছে নূর (জ্যোতি)। যদি তিনি এ পর্দা সরিয়ে দিতেন, তবে তাঁর চেহারার নূর সৃষ্টিজগতের দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত সব কিছুকেই জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিত। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ১৭৯, ইবনু মাজাহ ১৯৬, আহমাদ ১৯৫৩০, সহীহ ইবনু হিব্বান ২৬৬, সহীহ আল জামি‘ ১৮৬০।
