৪/১৬. অধ্যায়ঃ
নবী (ﷺ)-এর ওপর দরুদ পাঠ ও তার মর্যাদা - প্রথম অনুচ্ছেদ
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরূদ পাঠের হুকুম, বৈশিষ্ট্য ও তার স্থান।صَلَاةْএর অর্থঃ মাজদ ফিরুয আবাদী বলেনঃ আল্লাহর পক্ষ থেকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর সালাত হলো দু’আ, রহমত, ক্ষমা এবং চমৎকার প্রশংসা অর্থ হবে। হাফিয ইবনু হাজার আবুল আলিয়া থেকে বলেন, আল্লাহর সালাত রসূলের ওপর, এর অর্থ হলো তাঁর প্রশংসা ও মর্যাদা বর্ণনা করামালাক (ফেরেশতা) ও অন্যান্যদের পক্ষ থেকে রসূলের ওপর সালাত হলে করে অর্থ আল্লাহর নিকট তাঁর জন্য উচ্চ মর্যাদা ও প্রশংসা কামনা করা।কারো মতেঃ আল্লাহর সালাত তার সৃষ্টির উপর দু’ভাবেঃ খাস ও ’আম্।আল্লাহর সালাত নবীগণের ওপর অর্থ প্রশংসা ও মর্যাদা আর বাকী অন্যদের ওপর হলে অর্থ রহমত যা প্রত্যেক বস্তুকে বেষ্টন করে রেখেছে।হালীমী বলেনঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর সালাতের অর্থ হলো তার মর্যাদা সম্মান। সুতরাং আমাদের কথাاَللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ.....অর্থাৎ- ’’হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সম্মানিত করো’’। আর এ সম্মান হলোঃ তাঁর নাম, যশ, খ্যাতি পৃথিবীতে সুউচ্চ করা, তার আনীত দীনকে বিজয়ী করা, তাঁর শারী’আত সমাজে যেন অনন্তকাল ধরে থাকে। আর আখিরাতে উত্তম প্রতিদান করা, তাঁর উম্মাতের জন্য সুপারিশকে কবূল করা আর মাকামে মাহমূদ (বেহেশতের সর্বোচ্চ স্থান) দিয়ে অনুগ্রহ শুরু করা।ياَيُّهَا الَّذِيْنَ امَنُوْا صَلُّوْا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا’’হে মু’মিনগণ! তোমরা নবীর জন্য দরূদ ও সালাম প্রেরণ করো’’- (সূরাহ্ আল আহযাব ৩৩: ৫৬)।রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরূদ পাঠ করা কি, মানদুব বা ভালো না, ওয়াজিব? না ফারযে আইন, না ফারযে কিফায়াহ্?পুনরাবৃত্তি করতে হবে যখনই তার নাম শুনবে না পুনরাবৃত্তি করতে হবে নাআর পুনরাবৃত্তি কোন বৈঠক ও সভায় প্রযোজ্য কি না ইত্যাদি মাস্আলাহ্ বিষয়ে ওলামাদের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে* জারীর ত্ববারী বলেছেনঃ মুসতাহাব তথা ভালো।* কারো মতেঃ জীবনে একবার তার প্রতি দরূদ পাঠ করা ওয়াজিব চাই সালাতে হোক আর সালাতের বাইরে হোক যেমন কালিমাহ্ তাওহীদের মত (জীবনে একবার স্বীকৃতি দিলে হবে)।* আবূ বকর আর্ রাযী হানাফী, ইবনু হাযম উভয় ছাড়া আরো অনেকের নিকট সামষ্টিকভাবে একবার ফরয আর তা কোন সালাত বা যে কোন নির্ধারিত সময়ের সাথে খাস বা জীবনে একবার পড়লে ফরয আদায়ের দায়িত্ব পালন হবে।তার সামর্থ্যনুযায়ী অতিরিক্ত পড়লে তা মানদুব বা ভালো, এর থেকে বুঝা গেল দ্বিতীয় বৈঠকে দরূদ পাঠ করা সুন্নাত আবূ হানীফাহ্, মালিক এবং সাওরীর এটাই অভিমত।* ইমাম ত্বহাবীর মতে যখনই কোন ব্যক্তি রসূলের নাম শুনবে বা পড়বে তখনই দরূদ পড়বে যদি কোন বৈঠক ও সমাবেশে একত্রিত হয় তথা পুনরাবৃত্তি করা ওয়াজিব। তবে ফাতাওয়া হলো পুনরাবৃত্তি করা মুসতাহাব। কারণ হাদীসে দরূদ না পড়লে শাস্তি, দুর্ভাগ্য, নাক ধূলায় ধূসরিত হোক, কৃপণতা ইত্যাদি কথা এসেছে।* যে সকল স্থানে পড়া ওয়াজিব- এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।প্রথম তাশাহুদে, জুমু’আর খুতবাহ্, জুমু’আর খুতবাহ্ ছাড়াও সকল খুত্বায়, জানাযার সালাতে পড়া সহীহ সানাদে প্রমাণিত।আযানের জবাবের পরে, দু’আর শুরুতে মাঝখানে, শেষে, কুনূতের শেষে তাহাজ্জুদ সালাতে দাঁড়ানোর সময় কুরআনুল কারীম পাঠ শেষ করলে বিপদ মুসীবাতের সময় গুনাহ থেকে তাওবার সময়, হাদীস পড়ার সময়।ঈদের তাকবীর পাঠ করার সময়ে মাসজিদ প্রবেশের ও বের হওয়ার সময়, একত্রিত হওয়ার সময়, সফরের সময় দরূদ পাঠ করার কথা এসেছে সবগুলো দুর্বল হাদীস।বিশেষ করে জুমু’আর দিনে বেশী বেশি দরূদ পড়ার কথা সহীহ হাদীসে এসেছে।দরূদের নিয়ম-কানুন হলো সবচেয়ে উত্তম দরূদ যা সালাতে পড়া হয় এটি কা’ব ইবনু ’উজরাহ্-এর হাদীস এবং সবচেয়ে সহীহ হাদীস।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৯২০-[২]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৯২০-[২]
وَعَنْ اَبِىْ حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ كَيْفَ نُصَلّـِي عَلَيْكَ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ قُولُوا اللّهُمَّ صَلِّ عَلى مُحَمَّدٍ وَّأَزْوَاجِه وَذُرِّيَّتِه كَمَا صَلَّيْتَ عَلى الِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلى مُحَمَّدٍ وَّأَزْوَاجِه وَذُرِّيَّتِه كَمَا بَارَكْتَ عَلى الِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুমায়দ আস্ সা‘ইদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার প্রতি কিভাবে দরূদ পাঠ করব? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা বল, “আল্লাহুম্মা…..” শেষ পর্যন্ত। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৬৩৬০, মুসলিম ৪০৭, আবূ দাঊদ ৯৭৯, নাসায়ী ১২৯৪, ইবনু মাজাহ্ ৯০৫, আহমাদ ২৩৬০০।
