২৫/৩৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৬৪ - হজ্জের মাসে উমরাহর বিধান
তামাত্তু‘, কিরান ও ইফরাদ হজ্জ করা এবং যার সঙ্গে কুরবানির জন্তু নেই তার জন্য হজ্জের ইহরাম পরিত্যাগ করা।
হজ্জের মাসে উমরাহ: ভুল ধারণা ভেঙে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ
সহীহ বুখারী : ১৫৬৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৫৬৪
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانُوا يَرَوْنَ أَنَّ الْعُمْرَةَ فِي أَشْهُرِ الْحَجِّ مِنْ أَفْجَرِ الْفُجُورِ فِي الأَرْضِ وَيَجْعَلُونَ الْمُحَرَّمَ صَفَرًا وَيَقُولُونَ إِذَا بَرَا الدَّبَرْ وَعَفَا الأَثَرْ وَانْسَلَخَ صَفَرْ حَلَّتْ الْعُمْرَةُ لِمَنْ اعْتَمَرْ قَدِمَ النَّبِيُّ ﷺ وَأَصْحَابُهُ صَبِيحَةَ رَابِعَةٍ مُهِلِّينَ بِالْحَجِّ فَأَمَرَهُمْ أَنْ يَجْعَلُوهَا عُمْرَةً فَتَعَاظَمَ ذَلِكَ عِنْدَهُمْ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ أَيُّ الْحِلِّ قَالَ حِلٌّ كُلُّهُ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
লোকেরা হজ্জ-এর মাসগুলোতে ‘উমরাহ করাকে দুনিয়ার সবচেয়ে ঘৃণ্য পাপের কাজ বলে মনে করত। তারা মুহাররম মাসের স্থলে সফর মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ মনে করত। তারা বলত, উটের পিঠের জখম ভাল হলে, রাস্তার মুসাফিরের পদচিহ্ন মুছে গেলে এবং সফর মাস অতিক্রান্ত হলে ‘উমরাহ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি ‘উমরাহ করতে পারবে।নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীগণ হজ্জ-এর ইহ্রাম বেঁধে (যিলহজ্জ মাসের) চার তারিখ সকালে (মক্কায়) উপনীত হন। তখন তিনি তাঁদের এ ইহ্রামকে ‘উমরাহ’র ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন। সকলের কাছেই এ নির্দেশটি গুরুতর বলে মনে হলো (‘উমরাহ শেষ করে) তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য কী কী জিনিস হালাল? তিনি বললেনঃ সবকিছু হালাল (ইহরামের পূর্বে যা হালাল ছিল তার সব কিছু এখন হালাল)।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হজ্জের মাসে উমরাহ সম্পর্কে আগের লোকদের ভুল ধারণা এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ তুলে ধরা হয়েছে। তারা মনে করত, হজ্জের মাসগুলোতে উমরাহ করা খুব বড় পাপের কাজ। তারা আরও কিছু মাস ও সময় নিয়ে নিজেদের মতো নিয়ম বানিয়েছিল। কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم) ও সাহাবীগণ জিলহজ্জের চার তারিখ সকালে হজ্জের ইহরাম অবস্থায় মক্কায় পৌঁছান। এরপর তিনি তাঁদের ইহরামকে উমরাহর ইহরামে পরিণত করার নির্দেশ দেন। সাহাবীদের কাছে বিষয়টি ভারী মনে হয়েছিল, তাই তারা জিজ্ঞেস করেন, কী কী জিনিস তাঁদের জন্য হালাল হবে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, সবকিছু হালাল। এই হাদিস হজ্জে তামাত্তু, উমরাহর ইহরাম এবং ইহরাম ভঙ্গের বিধান বুঝতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি দেখায়, পুরোনো সামাজিক ধারণা নয়, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশই ইবাদতের পথ নির্ধারণ করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজ্জের মাসে উমরাহ নিয়ে আগের ভুল ধারণা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশে দূর হয়।
- সাহাবীরা বুঝতে না পারলে সরাসরি রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে জিজ্ঞেস করেছেন।
- ইহরাম ভঙ্গের পর আগের হালাল বিষয়গুলো আবার হালাল হয়।
- ইবাদতে মানুষের বানানো ধারণা নয়, রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ অনুসরণীয়।
