২/১২. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪৫১ - জুমার খুতবায় হিদায়াত ও বিদআতের সতর্কতা
জুমু‘আর সালাত - খুতবা ও খতীবের কিছু বৈশিষ্ট্য
জুমার খুতবায় নবীজির ভাষণ: কুরআন, সুন্নাহ ও বিদআতের সতর্কতা
বুলুগুল মারাম : ৪৫১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৪৫১
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ - إِذَا خَطَبَ, احْمَرَّتْ عَيْنَاهُ, وَعَلَا صَوْتُهُ, وَاشْتَدَّ غَضَبُهُ, حَتَّى كَأَنَّهُ مُنْذِرُ جَيْشٍ يَقُولُ: صَبَّحَكُمْ وَمَسَّاكُمْ, وَيَقُولُ: أَمَّا بَعْدُ, فَإِنَّ خَيْرَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ, وَخَيْرَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ, وَشَرَّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ. رَوَاهُ مُسْلِمٌوَفِي رِوَايَةٍ لَهُ كَانَتْ خُطْبَةُ النَّبِيِّ - ﷺ - يَوْمَ الْجُمُعَةِ: يَحْمَدُ اللَّهَ وَيُثْنِي عَلَيْهِ, ثُمَّ يَقُولُ عَلَى إِثْرِ ذَلِكَ, وَقَدْ عَلَا صَوْتُهُوَفِي رِوَايَةٍ لَهُ: مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ, وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُوَلِلنَّسَائِيِّ: وَكُلَّ ضَلَالَةٍ فِي النَّارِ
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন খুতবা দিতেন তখন তাঁর চোখ দু’টি রক্তিম বর্ণ ধারণ করত ও আওয়াজ উঁচু হত, আর তাঁর ক্রোধ বেড়ে যেত; এমনকি মনে হত তিনি যে কোন শত্রু সৈন্য সম্বন্ধে আমাদেরকে সতর্ক করছেন। আর বলতেন সকাল-সন্ধ্যায় তোমরা আক্রান্ত হবে আর বলতেন-আম্মা বা’দু, উত্তম হাদীস আল্লাহর কিতাব; উত্তম হিদায়াত মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর হিদায়াত; নিকৃষ্টতর কাজ হচ্ছে বিদ‘আত, প্রত্যেক বিদ‘আতই হচ্ছে ভ্রষ্টতা।মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে: নবী (ﷺ) জুমু’আহর দিনে (খুতবায়), আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠের পর পরই উচ্চকণ্ঠে বক্তব্য রাখতেন। মুসলিমের ভিন্ন একটি রিওয়ায়াতে আছে-“যাকে আল্লাহ হিদায়াত করেন তাকে গুমরাহ করার কেউ নেই, আর যাকে গুমরাহ করেন তাকে হিদায়াত করার কেউ নেই। আর নাসায়ীতে আছে: প্রত্যেক গুমরাহী হচ্ছে জাহান্নামে যাবার কারণ। [৪৮৯]
[৪৮৯] মুসলিম ৮৬৭, নাসায়ী ১৫৭৮, আবূ দাউদ ২৯৫৪, ২৯৫৬, ইবনু মাজাহ ৪৫, ২৪১৬ আহমাদ ১৫৭৪৪, ১৩৯২৪, ১৪০২২, দারেমী ২০৬। আলবানি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খুতবাহর ধরন বর্ণনা করেছেন। তিনি খুতবাহ দিলে তাঁর চোখ লাল হয়ে যেত, আওয়াজ উঁচু হতো এবং কথায় তীব্র সতর্কতার ভাব থাকত। মনে হতো তিনি কোনো শত্রু বাহিনীর ব্যাপারে সতর্ক করছেন। তিনি বলতেন, উত্তম হাদিস আল্লাহর কিতাব, উত্তম হিদায়াত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হিদায়াত। নিকৃষ্ট কাজ হলো নতুন উদ্ভাবিত বিষয়, আর প্রত্যেক বিদআত ভ্রষ্টতা। অন্য বর্ণনায় আল্লাহর হামদ ও সানা, হিদায়াত ও গুমরাহির কথাও এসেছে। এই হাদিস খুতবাহর মূল বিষয়, কণ্ঠের গুরুত্ব এবং কুরআন-সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খুতবাহে আল্লাহর হামদ ও সানা গুরুত্বপূর্ণ।
- উত্তম হিদায়াত হলো নবীজির হিদায়াত।
- বিদআত থেকে সতর্ক থাকার কথা হাদিসে এসেছে।
- খুতবাহ মানুষকে জাগিয়ে দেওয়ার মতো শক্ত ভাষায় হতে পারে।
