৪৪/৩৪. অধ্যায়ঃ

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬১৯ - হাস্সান (রাঃ), আয়িশা (রাঃ) ও নবীর পক্ষে কবিতা

হাসসান বিন সাবিত (রাঃ)-এর মর্যাদা।

আয়িশা (রাঃ) ও হাস্সান (রাঃ): নবী صلى الله عليه وسلم-এর পক্ষে দাঁড়ানোর মূল্য

আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ১৬১৯

حديث عَائِشَةَ عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ: دَخَلْنَا عَلَى عَائِشَةَ، وَعِنْدَهَا حَسَّان بْنُ ثَابِتٍ، يُنْشِدُهَا شِعْرًا، يُشَبِّبُ بِأَبْيَاتٍ لَهُ، وَقَالَ:[ص: 166] حَصَانٌ رَزَانٌ مَا تُزَنُّ بِرِيبَةٍ وَتُصْبِحُ غَرْثَى مِنْ لُحُومِ الْغَوَافِلِفَقَالَتْ لَهُ عَائِشَةُ: لكِنَّكَ لَسْتَ كَذلِكَ قَالَمَسْرُوقٌ: فَقلْتُ لَهَا لِمَ تَأْذَنِي لَهُ أَنْ يَدْخُلَ عَلَيْكِ وَقَدْ قَالَ اللهُ تَعَالَى (وَالَّذِي تَوَلَّى كِبْرَهُ مِنْهُمْ لَهُ عَذَابٌ عَظِيمٌ) فَقَالَتْ: وَأَيُّ عَذَابٍ أَشَدُّ مِنَ الْعَمى قَالَتْ لَهُ: إِنَّهُ كَانَ يُنَافِحُ، أَوْ يُهَاجِي عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

মাসরূক (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। তখন তাঁর কাছে হাস্‌সান ইবনু সাবিত (রাঃ) তাঁকে স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করে শোনাচ্ছেন। তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-এর প্রশংসায় বলছেন, “তিনি সতী, ব্যক্তিত্বসম্পন্না ও জ্ঞানবতী, তাঁর প্রতি কোন সন্দেহই আরোপ করা যায় না। তিনি অভুক্ত থাকেন, তবুও অনুপস্থিত লোকেদের গোশত খান না (অর্থাৎ গীবত করেন না)। এ কথা শুনে ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, কিন্তু আপনি তো এরূপ নন।মাসরূক (রহঃ) বলেছেন যে, আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বললাম যে, আপনি কেন তাঁকে আপনার কাছে আসার অনুমতি দেন? অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, “তাদের মধ্যে যে এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে, তার জন্য আছে কঠিন শাস্তি।” ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, অন্ধত্ব থেকে কঠিনতর শাস্তি আর কী হতে পারে? তিনি তাঁকে আরো বলেন যে, হাস্‌সান ইবনু সাবিত (রাঃ) রাসূলাল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষাবলম্বন করে কাফিরদের সঙ্গে মুকাবালা করতেন অথবা কাফিরদের বিপক্ষে নিন্দাপূর্ণ কবিতা রচনা করতেন।

সহীহুল বুখারী, পর্ব ৬৪ : মাগাযী, অধ্যায় ৩৫, হাঃ ৪১৪৬; মুসলিম, পর্ব ৪৪ : সাহাবীগণের মর্যাদা, অধ্যায়, ৩৪, হাঃ ২৪৮৮

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
প্রকাশক:
তাওহীদ পাবলিকেশন্স
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ১৬১৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মাসরূক (রহঃ) বলেন, তাঁরা আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে গেলেন। সেখানে হাস্সান ইবনু সাবিত (রাঃ) তাঁর কবিতা আবৃত্তি করছিলেন এবং আয়িশা (রাঃ)-এর প্রশংসা করছিলেন। আয়িশা (রাঃ) তাঁকে বলেন, কিন্তু আপনি তো এমন নন। মাসরূক (রহঃ) প্রশ্ন করেন, আপনি কেন তাকে আসতে দেন, অথচ আয়াতে কঠিন শাস্তির কথা আছে? আয়িশা (রাঃ) বলেন, অন্ধত্বের চেয়ে কঠিন শাস্তি আর কী হতে পারে? তিনি আরও বলেন, হাস্সান (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পক্ষ থেকে কাফিরদের সঙ্গে কবিতার মাধ্যমে মোকাবিলা করতেন। এই হাদিসে একই সঙ্গে সতর্কতা, ন্যায় এবং ভালো কাজের স্বীকৃতি দেখা যায়। আয়িশা (রাঃ) সত্য গোপন করেননি, আবার হাস্সান (রাঃ)-এর নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পক্ষে ভূমিকা ভুলেও যাননি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মানুষের ভুল থাকলেও তার ভালো কাজ অস্বীকার করা ঠিক নয়।
  • হাস্সান (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পক্ষে কবিতার মাধ্যমে মোকাবিলা করতেন।
  • আয়িশা (রাঃ) কথায় ভারসাম্য ও ন্যায়ের দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন।
  • গীবত থেকে বাঁচার প্রশংসা কবিতার পংক্তিতে উল্লেখ হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন