১৩/২১. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৬৯৬ - আশূরার রোজা ও শিশুদের অভ্যাস
যে ব্যক্তি আশুরার দিন খেল, তার উচিত সে দিনের অবশিষ্ট অংশে খাদ্যগ্রহণ না করা।
আশূরার রোজায় শিশুদের অভ্যাস করানো: সাহাবীদের সুন্দর পদ্ধতি
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৬৯৬
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৬৯৬
حديث الرُّبَيِّعِ بِنْتِ مُعَوِّذٍ، قَالَتْ: أَرْسَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غَدَاةَ عَاشُورَاءَ إِلَى قرَى الأَنْصَارِ مَنْ أَصْبَحَ مُفْطِرًا فَلْيُتِمَّ بَقِيَّةَ يَوْمِهِ، وَمَنْ أَصْبَحَ صَائمًا فَلْيَصُمْ قَالَتْ: فَكنَّا نَصُومُهُ بَعْدُ، وَنُصَوِّمُ صِبْيَانَنَا وَنَجْعَلُ لَهُمُ اللُّعْبَةَ مِنَ الْعِهْنِ، فَإِذَا بَكَى أَحَدُهُمْ عَلَى الطَّعَامِ أَعْطَيْنَاهُ ذَاكَ حَتَّى يَكُونَ عِنْدَ الإِفْطَارِ
রুবায়্যি' বিনতু মু'আব্বিয (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আশুরার সকালে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আনসারদের সকল পল্লীতে এ নির্দেশ দিলেনঃ যে ব্যক্তি সাওম পালন করেনি সে যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে, আর যার সাওম অবস্থায় সকাল হয়েছে, সে যেন সাওম পূর্ণ করে। তিনি (রুবায়্যি‘) (রাঃ) বলেন, পরবর্তীতে আমরা ঐ দিন সাওম পালন করতাম এবং আমাদের শিশুদের সাওম পালন করাতাম। আমরা তাদের জন্য পশমের খেলনা তৈরি করে দিতাম। তাদের কেউ খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে ঐ খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতাম। আর এভাবেই ইফতারের সময় হয়ে যেত।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৩০: সওম, অধ্যায় ৪৭, হাঃ ১৯৬০; মুসলিম, পর্ব ১৩: সওম, অধ্যায় ২১, হাঃ ১১৩৬
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৬৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রুবায়্যি‘ বিনতে মু‘আউবিয (রাঃ) জানান, আশূরার সকালে নবী (صلى الله عليه وسلم) আনসারদের পল্লীতে নির্দেশ পাঠালেন। যে ব্যক্তি সাওমে সকাল করেনি, সে যেন দিনের বাকি অংশ না খেয়ে থাকে; আর যে সাওমে সকাল করেছে, সে যেন সাওম পূর্ণ করে। এরপর তিনি বলেন, তারা পরবর্তীতে ঐ দিন সাওম পালন করতেন এবং শিশুদেরও সাওম পালন করাতেন। শিশুরা খাবারের জন্য কাঁদলে তাদের পশমের খেলনা দিয়ে ভুলিয়ে রাখতেন, যতক্ষণ না ইফতারের সময় আসে। এই হাদিসে আশুরার রোজা, পরিবারের দ্বীনি পরিবেশ এবং শিশুদের ধীরে ধীরে আমলে অভ্যস্ত করার সুন্দর ছবি দেখা যায়। তবে শিশুর সামর্থ্য ও যত্নের বিষয়টি বুঝে চলা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আশূরার সাওম পালনে সাহাবীরা গুরুত্ব দিতেন।
- শিশুদের ভালো আমলে অভ্যস্ত করার চেষ্টা করা যায়।
- শিশুকে শেখাতে কোমল ও সহজ পদ্ধতি নেওয়া ভালো।
- সাওম পূর্ণ করার বিষয়ে সাহাবীরা যত্নবান ছিলেন।
