১৫/৮৫. অধ্যায়ঃ
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮৬৮ - মাদীনা হারাম ও মুসলিমের নিরাপত্তা
মাদীনার মর্যাদা, সেখানকার মাল-সম্পদে বরকতের জন্য নবী (ﷺ)-এর দোয়া, সে স্থান হারাম হওয়া, সেখানে শিকার করা, বৃক্ষ কর্তন করা নিষিদ্ধ এবং এর হারামের সীমারেখা।
মাদীনা হারাম ও মুসলিমের নিরাপত্তা: আলী (রাঃ)-এর সহীফার হাদিস
আল-লু'লু ওয়াল মারজান : ৮৬৮
আল-লু'লু ওয়াল মারজানহাদিস নম্বর ৮৬৮
حديث عَلِيٍّ رضي الله عنه خَطَبَ عَلَى مِنْبَرٍ مِنْ آجُرٍّ وَعَلَيْهِ سَيْفٌ فِيهِ صَحِيفَةٌ مُعَلَّقَةٌ، فَقَالَ: وَاللهِ مَا عِنْدَنَا مِنْ كِتَابٍ يُقْرَأُ إِلاَّ كِتَابُ اللهِ، وَمَا فِي هذِهِ الصَّحِيفَةِ فَنَشَرَهَا فَإِذَا فِيهَا: أَسْنَانُ الإِبِلِ؛ وَإِذَا فِيهَا: الْمَدِينَةُ حَرَمٌ مِنْ عَيْرٍ إِلَى كَذَا، فَمَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً؛وَإِذَا فِيهِ: ذِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ يَسْعَى بِهَا أَدْنَاهُمْ، فَمَنْ أَخْفَرَ مُسْلِمًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً؛ وَإِذَا فِيهَا: مَنْ وَالَى قَوْمًا بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لاَ يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً
বর্ণনাকারী হতে বর্ণিতঃ
একবার ‘আলী (রাঃ) পাকা ইটে নির্মিত একটি মিম্বরে আরোহণ করে আমাদের উদ্দেশে খুত্বা পাঠ করলেন। তাঁর সঙ্গে একটি তরবারী ছিল, যার মাঝে একটি সহীফা ঝুলন্ত ছিল। তিনি বললেন, আল্লাহ্র কসম! আমাদের নিকট আল্লাহ্র কিতাব এবং যা এই সহীফাতে লিপিবদ্ধ আছে এ ব্যতীত অন্য এমন কোন কিতাব নেই যা পাঠ করা যেতে পারে।অতঃপর তিনি তা খুললেন। তাতে উটের বয়স সম্পর্কে লেখা ছিল এবং লেখা ছিল যে, ‘আয়র’ (পর্বত) থেকে অমুক স্থান পর্যন্ত মাদীনাহ হারাম (পবিত্র এলাকা) বলে বিবেচিত হবে। যে কেউ এখানে কোন অন্যায় করবে তার উপর আল্লাহ্, ফেরেশতাকুল ও সমস্ত মানব সম্প্রদায়ের অভিসম্পাত। আর আল্লাহ্ তা‘আলা তার ফরজ ও নফল কোন ‘ইবাদাতই কবূল করবেন না এবং তাতে আরও ছিল যে, এখানকার সকল মুসলিমের নিরাপত্তা একই পর্যায়ের। একজন নিম্ন পর্যায়ের ব্যক্তিও (অন্য কাউকে) নিরাপত্তা প্রদান করতে পারবে। যদি কোন ব্যক্তি অপর একজন মুসলিমের প্রদত্ত নিরাপত্তাকে লঙ্ঘন করে, তাহলে তার উপর আল্লাহ্র, ফেরেশতাকুলের ও সমস্ত মানব সম্প্রদায়ের লা‘নাত (অভিসম্পাত)। আল্লাহ্ তা‘আলা তার ফরজ ও নফল কোন ‘ইবাদাতই কবূল করবেন না।তাতে আরও ছিল, যদি কোন ব্যক্তি তার (আযাদকারী) মনিবের অনুমতি ব্যতীত অন্য কাউকে নিজের (গোলাম থাকাকালীন সময়ের) মনিব বলে উল্লেখ করে, তাহলে তার উপর আল্লাহ্র, ফেরেশতাকুলের ও সমস্ত মানব সম্প্রদায়ের অভিসম্পাত। আর আল্লাহ্ তা‘আলা তার ফরজ, নফল কোন ‘ইবাদাতই গ্রহণ করবেন না।
সহীহুল বুখারী, পর্ব ৯২: ফিনা, অধ্যায় ৫, হাঃ ৭৩০০; মুসলিম, পর্ব ১৫ : হাজ্জ, অধ্যায় ৮৫, হাঃ ১৩৭০
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- ইমাম বুখারি (রহঃ) ও ইমাম মুসলিম (রহঃ)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
আল-লু'লু ওয়াল মারজান হাদিস ৮৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী (রাঃ) একটি সহীফার কথা বলেন, যাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লেখা ছিল। প্রথমে তিনি পরিষ্কার করেন, তাঁদের কাছে আল্লাহর কিতাব এবং এই সহীফায় যা আছে, এর বাইরে গোপন কোনো আলাদা কিতাব নেই। সহীফায় উটের বয়সের কথা, মাদীনার হারাম সীমা এবং সেখানে অন্যায় করলে কঠোর সতর্কতা উল্লেখ ছিল। যে কেউ সেখানে অন্যায় করবে, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা ও মানুষের লা‘নাতের কথা এসেছে। এরপর মুসলিমদের নিরাপত্তা বা জিম্মার মর্যাদা বলা হয়েছে—একজন নিম্ন পর্যায়ের মুসলিমও নিরাপত্তা দিতে পারে। কেউ যদি মুসলিমের দেওয়া নিরাপত্তা ভঙ্গ করে, তার ব্যাপারেও কঠোর সতর্কতা এসেছে। আর মনিবের অনুমতি ছাড়া অন্যকে মনিব বলে দাবি করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। হাদিসটি মাদীনার সম্মান, সামাজিক নিরাপত্তা ও দায়িত্ববোধ শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মাদীনায় অন্যায় করা কঠোরভাবে নিন্দিত।
- মুসলিমের দেওয়া নিরাপত্তা সম্মান করা জরুরি।
- আল্লাহর কিতাবের বাইরে গোপন আলাদা কিতাব থাকার দাবি আলী (রাঃ) নাকচ করেছেন।
- পরিচয় ও দায়িত্বের বিষয়ে সত্যবাদিতা দরকার।
