৪/২০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০১৭-[৪] - যুল ইয়াদায়নের ঘটনায় সাহ্উ সিজদা
সাহু সিজদা - প্রথম অনুচ্ছেদ
আস্ সাহু (সালাতে) ভুলে যাওয়াসালাতে ভুল হলে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করার বিধান সর্ম্পকে বিদ্বানগণের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে।শাফি‘ঈদের মতে সকল প্রকার ভুলের জন্য সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করা সুন্নাত।মালিকীদের মতে ভুলের কারণে সালাতে কমতি হলে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করা ওয়াজিব। তবে বৃদ্ধি হলে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করা ওয়াজিব নয়।হানাবেলাদের মতে ভুলের কারণে ওয়াজিব ছুটে গেলে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করা ওয়াজিব। সালাতে যে সমস্ত দু‘আ বা তাসবীহ সুন্নাত তাতে ভুল হলে সিজদা্ করা ওয়াজিব নয়। অনুরূপভাবে ভুলের কারণে সালাতে কোন বৃদ্ধি হলে অথবা ইচ্ছাকৃত যে কথা বললে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) বাতিল হয়ে যায় এমন কোন কথা ভুলবশতঃ বলে ফেললে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করা ওয়াজিব। তবে সালাতের কোন রুকন ছুটে গেলে সাহু সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) যথেষ্ট নয় বরং ঐ রুকন আদায় করে সিজদা্ করতে হবে।হানাফীদের মতে সকল ভুলের কারণে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করা ওয়াজিব।
যুল ইয়াদায়নের ঘটনায় সালাতের ভুল সংশোধন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১০১৭-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১০১৭-[৪]
وَعَن ابْن سِيرِيْن عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: صَلّى بِنَا رَسُولُ اللّهِ ﷺ إِحْدى صَلَاتَيِ الْعَشِيِّ - قَالَ ابْنُ سِيرِيْنَ سَمَّاهَا أَبُو هُرَيْرَةَ وَلَكِنْ نَسِيْتُ أَنَا قَالَ فَصَلّى بِنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ فَقَامَ إِلى خَشَبَةٍ مَعْرُوْضَةٍ فِي الْمَسْجِدِ فَاتَّكَأَ عَلَيْهَا كَأَنَّه غَضْبَانُ وَوَضَعَ يَدَهُ الْيُمْنى عَلَى الْيُسْرى وَشَبَّكَ بَيْنَ أَصَابِعِه وَوَضَعَ خَدَّهُ الْأَيْمَنَ عَلى ظَهْرِ كَفِّهِ الْيُسْرى وَخَرَجَتْ سَرْعَانُ مِنْ أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ فَقَالُوا قَصُرَتِ الصَّلَاةُ وَفِي الْقَوْمِ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ رَضِيَ اللّهُ عَنْهُمَا فَهَابَاهُ أَنْ يُكَلِّمَاهُ وَفِي الْقَوْمِ رَجُلٌ فِي يَدَيْهِ طُوْلٌ يُقَالُ لَه ذُو الْيَدَيْنِ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ أنَسِيْتَ أمْ قُصِرَتِ الصَّلَاةُ قَالَ: «لَمْ أَنْسَ وَلَمْ تُقْصَرْ» فَقَالَ: «أَكَمَا يَقُولُ ذُو الْيَدَيْنِ؟» فَقَالُوا: نَعَمْ. فَتَقَدَّمَ فَصَلّى مَا تَرَكَ ثُمَّ سَلَّمَ ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِه أَوْ أَطْوَلَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَه وَكَبَّرَ ثُمَّ كَبَّرَ وَسَجَدَ مِثْلَ سُجُودِه أَوْ أَطْوَلَ ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَه وَكَبَّرَ فَرُبَّمَا سَأَلُوهُ ثُمَّ سَلَّمَ فَيَقُولُ نُبِّئْتُ أَنَّ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ قَالَ ثُمَّ سَلَّمَ. وَلَفْظُه لِلْبُخَارِيِّ وَفِي أُخْرى لَهُمَا: فَقَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ بَدَلَ «لَمْ أَنْسَ وَلَمْ تُقْصَرْ»: «كُلُّ ذلِكَ لَمْ يَكُنْ» فَقَالَ: قَدْ كَانَ بَعْضُ ذلِكَ يَا رَسُولَ اللّهِ. (مُتَّفق عَلَيْهِ)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অপরাহ্ণের দুই সালাতের (যুহর অথবা ‘আস্রের) কোন এক সালাত আমাদেরকে নিয়ে আদায় করালেন, যার নাম আবূ হুরায়রা আমাকে বলেছিলেন, কিন্তু আমি ভুলে গেছি। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, তিনি (ﷺ) আমাদের সাথে নিয়ে দুই রাক্‘আত সালাত আদায় করে তারপর সালাম ফিরালেন।পরপরই মসজিদে আড়াআড়িভাবে রাখা একটি খুঁটির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। মনে হচ্ছিল যে, তিনি খুব রাগত অবস্থায় আছেন। তিনি (ﷺ) তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর রাখলেন। আঙ্গুলের মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিলেন এবং স্বীয় ডান মুখমণ্ডলকে বাম হাতের পিঠের উপর রাখলেন। যাদের তাড়া আছে তারা জলদি মসজিদের বিভিন্ন দরজা দিয়ে বের হয়ে গেলেন। তারা বলতে লাগলো, সালাতকে কমানো হয়েছে? যারা তখনো মসজিদে ছিল তাদের মধ্যে আবু বাক্র ও উমরও ছিলেন। কিন্তু তারা রাসূল (ﷺ)-এর সাথে কথা বলতে ভয় পাচ্ছিল।সাহাবীদের মধ্যে এক ব্যক্তি লম্বা হাত বিশিষ্ট ছিল। আর সেজন্য তাকে যুল্ ইয়াদায়ন অর্থাৎ দুই হাতওয়ালা বলা হত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আরয করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি ভুলে গেছেন বা সালাতকে কমানো হয়েছে? তিনি (ﷺ) বললেন, আমি ভুলিনি, সালাতও কমানো হয়নি। তারপর তিনি সাহাবীদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমরাও কি তাই বলছো যা যুল্ ইয়াদায়ন বলছে? সাহাবীরা আরয করলেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! এ কথা সঠিক। (এ কথা শুনে) তিনি (ﷺ) সামনে অগ্রসর হয়ে যে দুই রাক্‘আত সালাত ছুটে গিয়েছিল তা পড়ে নিলেন। তারপর সালাম ফিরালেন তারপর তাকবির বললেন।অতঃপর পূর্বের সিজদার মতো সিজদাহ করলেন বা তার চেয়েও বেশী লম্বা করলেন। তারপর মাথা উঠালেন এবং তাকবির দিলেন তারপর তাকবির দিলেন এবং সিজদাহ করলেন। তার অন্য সিজদার মতো বা তার চেয়ে বেশী লম্বা করলেন। তারপর মাথা উঠালেন এবং তাকবির দিলেন। ইতোমধ্যে লোকসকল ইবনু সীরীনকে জিজ্ঞেস করল তারপর তিনি (ﷺ) কি সালাম ফিরালেন? তিনি (ইবনু সীরীন) বলেন যে, আমাকে অবহিত করা হয়েছে। যে ‘ইমরান ইবনু হুসাইন বলেছেন তারপর তিনি সালাম ফিরালেন।(বুখারী ও মুসলিম; মূল পাঠ বুখারীর। মুসলিমের আর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যুল্ ইয়াদায়নের জবাবে বললেন, “না ভুলেছি আর না সালাত কমানো হয়েছে”। অন্য স্থানে বলেছেন, “যা তোমরা বলছো তার কোনটাই না। তিনি আবেদন করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! এর কিছু একটা তো অবশ্যই হয়েছে।”) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৪৮২, মুসলিম ৫৭৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১০১৭-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে সালাতের ভুল সংশোধনের একটি বিখ্যাত ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) অপরাহ্ণের দুই সালাতের একটিতে সাহাবীদের নিয়ে দুই রাকআত পড়ে সালাম ফিরালেন। কিছু লোক ভাবল, সালাত কি কমানো হয়েছে? আবূ বাক্র ও উমর (রাঃ) উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু তাঁরা কথা বলতে সংকোচ করলেন। যুল ইয়াদায়ন নামে একজন সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি ভুলে গেছেন, নাকি সালাত কমানো হয়েছে? নবীজি প্রথমে বললেন, তিনি ভুলেননি এবং সালাতও কমানো হয়নি। পরে সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলে তাঁরা বললেন, যুল ইয়াদায়নের কথা ঠিক। তখন নবীজি বাকি দুই রাকআত আদায় করলেন, সালাম ফিরালেন, তারপর দুই সিজদা করলেন এবং শেষে সালাম ফিরালেন। এই হাদিস ইমামের ভুল, জামাতের ভূমিকা ও সাহ্উ সিজদার বাস্তব নিয়ম শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামের ভুল হলে সাহাবীদের মতো সম্মানের সঙ্গে জানানো যায়।
- সালাত কম হয়েছে বুঝলে বাকি অংশ পূর্ণ করতে হবে।
- ভুল সংশোধনের পর সাহ্উ সিজদার দৃষ্টান্ত এসেছে।
- জামাতে উপস্থিত লোকদের সাক্ষ্য বিষয়টি পরিষ্কার করতে সাহায্য করেছে।
