১/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১২৯-[৫] - ঈমান (বিশ্বাস)
কবরের আজাব - প্রথম অনুচ্ছেদ
এখানে কবর দ্বারা উদ্দেশ হচ্ছে ’‘আলামুল বারযাখ’’। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,وَمِنْ وَرَائِهِمْ بَرْزَخٌ اِلى يَوْمِ يُبْعَثُوْنَঅর্থাৎ- ’‘পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত তারা বারযাখে থাকবে।’’ (সূরাহ্ আল মু‘মিনূন ২৩: ১০০)আর বারযাখ হচ্ছে দুনিয়া ও আখিরাতের মাঝের এক পৃথিবী। এখানে কবর দ্বারা মৃত্যু বরণকারী লাশকে দাফন করার গর্ত উদ্দেশ্য নয়। কেননা, অনেক মৃত ব্যক্তি আছে। যেমন, পানিতে ডুবে যে মৃত্যুবরণ করেছে অথবা আগুনে পুড়ে অথবা প্রাণী তাকে খেয়ে ফেলেছে এগুলোকে দাফন করা হয় না অথচ এদেরকেও শাস্তি দেয়া হয় এবং নি‘আমাতও দান করা হয়।এখানেإثبات عذاب القبرবলে শুধুমাত্র শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে দু’টি কারণে। এক- গুরুত্বারোপ করা। দুই- শাস্তি যাদেরকে দেয়া হবে সেই কাফির বেঈমানদের সংখ্যা বেশী।
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১২৯-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১২৯-[৫]
وَعَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ بَيْنَمَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فِي حَائِطٍ لِبَنِي النَّجَّارِ عَلى بَغْلَةٍ لَهٗ وَنَحْنُ مَعَهٗ إِذْ حَادَتْ بِه فَكَادَتْ تُلْقِيهِ وَإِذَا أَقْبُرٌ سِتَّةٌ أَوْ خَمْسَةٌ فَقَالَ مَنْ يَعْرِفُ أَصْحَابَ هذِهِ الْأَقْبُرِ؟قَالَ رَجُلٌ أَنَا قَالَ فَمَتى مَاتُوْ قَالَ فِي الشِّرْكِ فَقَالَ إِنَّ هذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلى فِي قُبُورِهَا فَلَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ الَّذِي أَسْمَعُ مِنْهُ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِه فَقَالَ تَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ قَالُوا نَعُوذُ بِاللهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ قَالَ تَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ قَالُوا نَعُوذُ بِاللهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ قَالَ تَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنْ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ وَمَا بَطَنَ قَالُوا نَعُوذُ بِاللهِ مِنْ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ قَالَ تَعَوَّذُوا بِاللهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ قَالُوْا نَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ.رَوَاهُ مُسْلِمٌ
যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বানী নাজ্জার গোত্রের একটি বাগানে তাঁর একটি খচ্চরের উপর আরোহী ছিলেন এবং আমরাও তাঁর সাথে ছিলাম। হঠাৎ খচ্চরটি লাফিয়ে উঠলো এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রায় মাটিতে ফেলে দেবার উপক্রম করলো। দেখা গেল, সামনে পাঁচ-ছয়টি কবর রয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ কবরবাসীদের কে চিনে? এক ব্যক্তি বলল, আমি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞেস করলেন, এরা কবে মারা গেছে? সে বলল শিরকের যুগে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ উম্মাত তথা কবরবাসীরা তাদের কবরে পরীক্ষায় পড়েছে (শাস্তির কবলে পড়েছে)। তোমরা মানুষ কে ভয়ে কবর দেয়া ছেড়ে দিবে (এ আশংকা না থাকলে) আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম, তিনি যেন তোমাদের কেও কবরের আযাব শুনান, যে কবরের আযাব আমি শুনতে পাচ্ছি।অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বললেন, তোমরা সকলে জাহান্নামের আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও। সকলে একত্রে বলল, আমরা জাহান্নামের আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা কবরের আযাব হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও। তাঁরা সকলে একত্রে বললেন, আমরা কবরের আযাব হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন তোমরা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ফিত্নাহ্ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও। তখন সকলে একত্রে বললেন, আমরা সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ফিত্নাহ্ হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা দাজ্জালের সকল ফিত্নাহ্ হতে আশ্রয় চাও। সকলে বললেন, আমরা দাজ্জালের ফিত্নাহ্ হতেও আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ২৮৬৭।
