৪/৪১. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৪৪-[৪] - সফরে দুই সালাত একত্র করা

সফরের সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ

নবী (ﷺ) মুসাফির ব্যক্তির জন্য কতকগুলো বিষয়ে অব্যাহতির নির্দেশ দিয়েছেন, তন্মধ্য হতে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ক্বসর করা যুহর, ‘আসর এবং মাগরিব, ‘ইশার সালাতের মাঝে সমন্বয় করা, সুন্নাত সালাত ছেড়ে দেয়া, সওয়ারীর উপর ইশারায় সালাত আদায় করা, সেটা যেদিকে মুখ করে থাকুক না কেন এবং এ বিষয়গুলো নফল, ফাজ্‌রের (ফজরের) সুন্নাত ও বিতর সালাতের ব্যাপারে, ফরয সালাতের ক্ষেত্রে নয়।ইবনুর রাশীদ বলেন, সফরে মুসাফিরের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে ক্বসরের গুরুত্ব রয়েছে এবং ‘উলামাগণ মুসাফিরের সালাত ক্বসর করার বৈধতার উপর একমত। তবে একটি শায বা বিরল মত রয়েছে যে, সফরে ভয়ের আশঙ্কা না থাকলে ক্বসর বৈধ নয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলার কথা ’‘যদি তোমরা ভয় পাও....’’- (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪: ১০১), যা হোক ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল বলেছেন, সফরে সালাত ক্বসর করাই অগ্রগণ্য ও উত্তম।ইবনু কুদামাহ্ (রহঃ) বলেন যে, আহমাদ থেকে প্রসিদ্ধ বর্ণনা রয়েছে যে, মুসাফির ঐচ্ছিকের উপর থাকবে যদি চায় দু’ রাক্‘আত আদায় করবে এবং যদি ইচ্ছা করে সালাত পূর্ণ করতেও পারবে, তবে ক্বসর করাই উত্তম ও অগ্রগণ্য।সফরে দূরত্বের পরিমাণমুসাফির ব্যক্তি কতদূর পরিমাণ পথ পারি দিলে সালাত ক্বসর করতে হবে, এ দূরত্বের পরিমাণ সম্পর্কে ‘উলামাগণের মাঝে অনেক মতপার্থক্য রয়েছে। ইবনুল মুনযির ও অন্যান্যদের বর্ণনায় এতে প্রায় ২০টি মত রয়েছে।একেবারে স্বল্প দূরত্ব সম্পর্কে যা বলা হয় তা হলো এক মাইল পরিমাণ, যেমন ইবনু আবী শায়বাহ্, ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে সহীহ সানাদে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনু হাযম আয্ যাহিরী (রহঃ) এ মত ব্যক্ত করেছেন এবং তিনি কিতাবুল্লাহ ও নবী (ﷺ)-এর সুন্নাহ থেকে মুত্বলাক (তালাক)্বব সফরের দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। কারণ আল্লাহ এবং তার রাসূল (ﷺ) কোন সফরকে নির্দিষ্ট করেননি।তবে আহলু জাহিরিয়্যাহগণ মতামত দিয়েছেন, যেমন- ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেনঃ ক্বসরের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ মাইল, তারা দলীল পেশ করেছেন সহীহ মুসলিম ও আবূ দাঊদে বর্ণিত আনাস (রাঃ)-এর হাদীস, নবী (ﷺ) ৩ মাইল অথবা ৩ ফারসাখ পরিমাণ দূরত্বে বের হতেন তখন সালাত ক্বসর করতেন। হাফিয আসক্বালানী (রহঃ) বলেনঃ এ বিষয়ে সেটাই অধিক বিশুদ্ধ হাদীস।আর যারা এ মতের বিরোধী তারা বলেন যে, আলোচ্য হাদীস দ্বারা ক্বসর শুরু উদ্দেশ্য, সফরের শেষ গন্তব্য নয়। অর্থাৎ যখন সে দীর্ঘ সফরের ইচ্ছা করবে এবং তিন মাইল দূরত্বে পৌঁছার পর থেকে সে ক্বসর করবে, যেমন- অন্য শব্দে তিনি বলেনঃ(إن النبيﷺ صلى بالمدينة أربعاً وبذي الحليفة ركعتين)অর্থাৎ নবী (ﷺ) মদীনায় চার রাক্‘আত সালাত আদায় করলেন এবং যুল হুলায়ফায় দু’ রাক্‘আত সালাত আদায় করলেন।ইমাম শাফি‘ঈ, মালিক, আহমাদ ও ফিকহবিদ (রহঃ)-গণ বলেনঃ পূর্ণ একদিন সফরের দূরত্বের কমে সালাত ক্বসর করা যাবে না। আর তা হলো চার বারদ, আর চার বারদ হলো ১৬ ফারসাখ অর্থাৎ ৪৮ মাইল। কারণ এক বারদ হলো চার ফারসাখ, আর এক ফারসাখ সমান তিন মাইল।তবে অধিকাংশ ‘উলামাগণ এবং বর্তমানের হাদীসবিশারদ (আহলুল হাদীসগণ) তিন ফারসাখ দূরত্বে ক্বসরের মতামত দিয়েছেন এবং তারা পূর্বে উল্লেখিত আনাস (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেনগন্তব্যে অবস্থানের সময়ের পরিমাণমুসাফির যখন সফরের গন্তব্যে পৌঁছে যাবে, তখন কতদিন অবস্থান করলে সে সালাত ক্বসর করবে এ ব্যাপারে অনেক মতপার্থক্য রয়েছে, তবে প্রসিদ্ধ মত চারটি। যেমন-প্রথম মতঃ শাফি‘ঈ ও মালিকী মাযহাবীদের মত হলো, যখন চার দিনের অতিরিক্ত অবস্থান করবে তখন সালাত পূর্ণ করবে।দ্বিতীয় মতঃ আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর মাযহাব অনুযায়ী যখন ১৫ দিনের বেশী অবস্থান করবে, তখন পূর্ণ সালাত আদায় করবে।তৃতীয় মতঃ ইমাম আহমাদ ও দাঊদ (রহঃ)-এর মত অনুযায়ী যখন চার দিনের অধিক অবস্থান করবে তখন পূর্ণ সালাত আদায় করবে।চতুর্থ মতঃ ইসহাক্ব ইবনু রাহওয়াইয়াহ্ (রহঃ)-এর মত অনুযায়ী যখন ১৯ দিনের অধিক অবস্থান করবে তখন পূর্ণ সালাত আদায় করবে।ইমাম শাফি‘ঈ ও মালিক (রহঃ)-দ্বয়ের মতে সালাত ক্বসরের সীমা হলো গন্তব্যে প্রবেশ এবং গন্তব্য থেকে বের হওয়ার দিন ব্যতীত তিন দিন। ইমাম আবূ হানীফাহ্ (রহঃ)-এর নিকট ১৪ দিন, ইমাম আহমাদ (রহঃ)-এর নিকট ৪ দিন, ইসহাক (রহঃ)-এর নিকট ১৯ দিন।মির্‘আত প্রণেতা বলেনঃ আমার নিকট অগ্রগণ্য বা প্রাধান্য মত হলো ইমাম আহমাদ (রহঃ)-এর মত। (আল্লাহ সবচেয়ে ভাল জানেন)

সফরে যুহর-আসর ও মাগরিব-ইশা জমা করা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৩৪৪-[৪]

وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ فِي غَزْوَةِ تَبُوْكَ: إِذَا زَاغَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَرْتَحِلَ جَمَعَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَإِنِ ارْتَحَلَ قَبْلَ أَنْ تَزِيْغَ الشَّمْسُ أَخَّرَ الظُّهْرَ حَتّى يَنْزِلَ لِلْعَصْرِ وَفِي الْمَغْرِبِ مِثْلَ ذلِكَ إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ يَرْتَحِلَ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ وَإِنِ ارْتَحَلَ قَبْلَ أَنْ تَغِيْبَ الشَّمْسُ أَخَّرَ الْمَغْرِبَ حَتّى يَنْزِلَ لِلْعِشَاءِ ثُمَّ يَجْمَعُ بَيْنَهُمَا. رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيُّ

মু‘আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) তাবূকের যুদ্ধ চলাকালে যুহরের সময় রওয়ানা হওয়ার আগে সূর্য ঢলে গেলে যুহর ও ‘আস্‌রের সালাত একত্রে আদায় করতেন, আর সূর্য ঢলার আগে রওয়ানা হলে যুহরের সালাত দেরী করতেন এবং ‘আস্‌রের সালাতের জন্য মঞ্জিলে নামতেন অর্থাৎ- যুহর ও ‘আস্‌রের সালাত একসাথে আদায় করতেন। মাগরিবের সালাতের সময়ও তিনি এরুপ করতেন। সূর্য তাঁর ফিরে আসার আগে ডুবে গেলে তিনি (ﷺ) মাগরিব ও ‘ইশার সালাত একত্রে আদায় করতেন। আর সূর্য অস্ত যাবার আগে চলে আসলে তিনি (ﷺ) মাগরিবের সালাতে দেরী করতেন। ’ইশার সালাতের জন্য নামতেন এবং দুই সালাত একত্রে আদায় করতেন। (আবূ দাউদ, তিরমিযী) [১]

[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১২০৮, দারাকুত্বনী ১৪৬২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৫৫২৭, আত্ তিরমিযী ৫৫৩, ইরওয়া ৫৭৮।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৩৪৪-[৪]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) তাবূকের যুদ্ধের সফরে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সালাত আদায়ের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। সূর্য ঢলে যাওয়ার আগে বা পরে যাত্রা শুরু করার অবস্থার ওপর ভিত্তি করে তিনি যুহর ও আসর একত্রে আদায় করতেন। একইভাবে মাগরিবের সময়েও তিনি মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করতেন। যদি সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে তিনি যাত্রা করতেন, তাহলে মাগরিব দেরি করে ইশার সময়ের সাথে আদায় করতেন। আর সূর্য ডুবে গেলে যাত্রার আগে মাগরিব ও ইশা একত্র করতেন। এখানে সফরে সালাত জমা করা, তাবূকের যুদ্ধের সালাত এবং মুসাফিরের নামাজের সহজ দিকটি সরাসরি এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সফরে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم যুহর ও আসর একত্রে আদায় করেছেন।
  • মাগরিব ও ইশা সালাতও সফরের অবস্থায় একত্রে আদায়ের বর্ণনা এসেছে।
  • যাত্রার সময় ও নামার সময় অনুযায়ী সালাত আদায়ের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে।
  • সফরে সালাতের বিষয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমলে সহজতা দেখা যায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন