৪/৫০. অধ্যায়ঃ
সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণের সালাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
ফুকাহাদের নিকটكُسُوْفٌশব্দটি ব্যবহার হয় সূর্যগ্রহণের ক্ষেত্রে আরخُسُوْفٌব্যবহার হয় চন্দ্রগ্রহণের ক্ষেত্রে কতিপয়ের মতেخُسُوْفٌওكُسُوْفٌশব্দ দু’টি চন্দ্র ও সূর্য উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। কুসতুলানী এটা সহীহ মত।كُسُوْفٌসূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের হাদীস প্রায় সতেরজন সাহাবী হতে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণিত।আর জেনে রাখা দরকারكُسُوْفٌওخُسُوْفٌসালাত শারী’আত সম্মত হওয়ার ব্যাপারে কোন মতানৈক্য নেই আর এটা সুন্নাহ ইজমায়ে উম্মাহ দ্বারা প্রমাণিত। আর তার হুকুম ও বৈশিষ্ট্যের পদ্ধতির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে ইমাম শাফি’ঈ ও আহমাদ বলেনঃ সূর্যগ্রহণের সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) সুন্নাতে মুয়াক্কাদা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে এ সালাত আদায় করেছেন এবং জনগণকে একত্রিত করেছেন। আর আবূ হানীফার মতে সুন্নাহ তবে মুয়াক্কাদাহ্ না অনুরূপ চন্দ্রগ্রহণের সালাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্। শাফি’ঈ ও আহমাদের নিকট আর আবূ হানীফাহ্ ও মালিক-এর নিকট ভাল। প্রাধান্য মত হল শাফি’ঈ ও আহমাদের মত।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ১৪৯৩-[২]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ১৪৯৩-[২]
وَعَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيْرٍ قَالَ: كَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلى عَهْدِ رَسُولِ اللّهِ ﷺ فَجَعَلَ يُصَلِّىْ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ وَيَسْأَلُ عَنْهَا حَتَّى انْجَلَتِ الشَّمْسُ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ. وَفِي رِوَايَةِ النَّسَائِيِِّ: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ صَلّى حِينَ انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ مِثْلَ صَلَاتِنَا يَرْكَعُ وَيَسْجُدُ.وَلَه فِىْ أُخْرى: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ خَرَجَ يَوْمًا مُسْتَعْجِلًا إِلَى الْمَسْجِدِ وَقَدِ انْكَسَفَتِ الشَّمْسُ فَصَلّى حَتَّى انْجَلَتْ ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ أَهْلَ الْجَاهِلِيَّةِ كَانُوا يَقُولُونَ: إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَا يَنْخَسِفَانِ إِلَّا لِمَوْتِ عَظِيمٍ مِنْ عُظَمَاءِ أَهْلِ الْأَرْضِ وَإِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَا يَنْخَسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِه وَلَكِنَّهُمَا خَلِيقَتَانِ مِنْ خَلْقِه يُحْدِثُ اللّهُ فِي خَلْقِه مَا شَاءَ فَأَيُّهُمَا انْخَسَفَ فَصَلُّوْا حَتّى يَنْجَلِيَ أَوْ يُحَدِّثَ اللهُ أَمْرًا
নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় সূর্যগ্রহণ হলে তিনি দুই দুই রাক’আত সালাত আদায় শুরু করতেন ও মসজিদে বসে গ্রহণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন। (অর্থাৎ দুই রাকআত সালাত আদায়ান্তে দেখতেন ‘গ্রহণ’ শেষ হয়েছে কি-না? না হলে আবার দুই রাক’আত সালাত আদায় করতেন)। এভাবে ‘গ্রহণ’ থাকা পর্যন্ত সালাত আদায় করতে থাকতেন। আবূ দাঊদ; নাসায়ীর এক বর্ণনায় আছে, নবী (ﷺ) সূর্যগ্রহণ লাগলে আমাদের সালাতের মত সালাত আদায় করতে শুরু করতেন। রুকূ’ করতেন, সিজদাহ করতেন। (নাসায়ীর) অন্য এক রিওয়ায়াতে আছে, একদিন সূর্যগ্রহণ শুরু হলে নবী (ﷺ) তড়িৎগতিতে মসজিদে চলে গেলেন এবং সালাত আদায় করতে লাগলেন। এ অবস্থায় সূর্য আলোকিত হয়ে গেল। তারপর তিনি বললেন, জাহিলিয়্যাতের সময় মানুষেরা বলাবলি করত পৃথিবীর কোন বড় মানুষ মৃত্যুবরণ করলে ‘সূর্যগ্রহণ’ ও ‘চন্দ্রগ্রহণ’ হয়ে থাকে। (ব্যাপারটি কিন্তু তা নয়) আসলে কোন মানুষের জন্ম বা মৃত্যুতে ‘গ্রহণ’ হয় না। বরং এ দুইটি জিনিস (চাঁদ, সূর্য) আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টিসমূহের দুইটি সৃষ্টি। আল্লাহ তা’আলা তাঁর সৃষ্টি জগতে যেভাবে চান পরিবর্তন আনেন। অতএব যেটারই ‘গ্রহণ’ হয় তোমরা সালাত আদায় করবে। যে পর্যন্ত ‘গ্রহণ’ ছেড়ে না যায়। অথবা আল্লাহ তা’আলা কোন নির্দেশ জারী না করেন (অর্থাৎ ‘আযাব অথবা ক্বিয়ামাত শুরু না হয়)। [১]
[১] মুনকার : আবূ দাঊদ ১১৯৩।
