৬/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৭৪-[৩] - যাকাত না দিলে সম্পদ সাপে রূপ নেবে
যাকাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেনঃ যাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। এটা শারী‘আতের একটি শক্তিশালী বিষয়। যে ব্যক্তি যাকাতের ফারযিয়্যাতকে অমান্য করবে সে কাফির হয়ে যাবে। যাকাতের লাগবী অর্থ বৃদ্ধি, বারাকাত ও পবিত্র করা। যাকাত আদায় করলে মাল বৃদ্ধি পায় ও মাল পবিত্র হয়। আর যাকাত আদায়কারী গুনাহ থেকে পবিত্র হয়। আর যাকাতের শার‘ঈ অর্থ হলো নিসাব পূর্ণ সম্পদে এক বৎসর অতিবাহিত হলে তা ফকীর, মিসকীন ও অন্যান্যদের মাঝে নির্ধারিত পন্থায় আদায় করা।অতঃপর যাকাতের রুকন, কারণ হিকমাত ও শর্ত রয়েছে। তা ফরয হওয়ার কারণ হলো মালের মালিক হওয়া। যাকাতের শর্ত হলো (মালের ক্ষেত্রে) নিসাব পরিমাণ হওয়া, বৎসর পূর্ণ হওয়া এবং (ব্যক্তির ক্ষেত্রে) বালেগ ও স্বাধীন হওয়া। হিকমাত হলো দুনিয়ার কর্তব্য পালন হওয়া এবং আখিরাতের সাওয়াব ও দরজা অর্জন হওয়া। আর গুনাহ হতে পবিত্র হওয়া এবং কৃপণতার দায় থেকে বাঁচা।প্রকাশ থাকে যে, অধিকাংশ ‘উলামাদের মতে যাকাত হিজরতের পর ফরয হয়। তারা দ্বিতীয় হিজরীতে ফরয হওয়ার মত ব্যক্ত করেন। কেউ কেউ বলেন, হিজরতের পূর্বে ফরয হয়েছে।
যাকাত না দিলে সম্পদই হবে কিয়ামতের বোঝা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৭৭৪-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৭৭৪-[৩]
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَنْ اتَاهُ اللّهُ مَالًا فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَه مُثِّلَ لَه مَالُه شُجَاعًا أَقْرَعَ لَه زَبِيْبَتَانِ يُطَوَّقُه يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَأْخُذُ بِلِهْزِمَتَيْهِ - يَعْنِىْ بِشِدْقَيْهِ - يَقُولُ: أَنَا مَالُكَ أَنَا كَنْزُكَ». ثُمَّ تَلَا هذِه الْايَة: ﴿وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ يَبْخَلُوْنَ بِمَا اتَاهُمُ اللّهُ مِنْ فَضْلِه﴾. [آل عمران 3 : 180]. إِلى اخر الْايَة. رَوَاهُ البُخَارِيُّ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা’আলা ধন-সম্পদ দান করেছেন, অথচ সে ঐ ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করেনি, সে ধন-সম্পদকে ক্বিয়ামতের দিন টাকমাথা সাপে পরিণত হবে। এ সাপের দুইচোখের উপর দুইটি কালো দাগ থাকবে (অর্থাৎ বিষাক্ত সাপ)। এরপর ঐ সাপ গলার মালা হয়ে ব্যক্তির দুইচোয়াল আঁকড়ে ধরে বলবে, আমিই তোমার সম্পদ, আমি তোমার সংরক্ষিত ধন-সম্পদ।এরপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন, অর্থাৎ “যারা কৃপণতা করে, তারা যেন মনে না করে এটা তাদের জন্য উত্তম বরং তা তাদের জন্য মন্দ। ক্বিয়ামতের দিন অচিরেই যা নিয়ে তারা কৃপণতা করছে তা তাদের গলায় বেড়ী করে পরিয়ে দেয়া হবে”। (সূরা আল ‘ইমরান ৩ : ১৮০) আয়াতের শেষ পর্যন্ত।(বুখারী) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৪০৩, আহমাদ ৮৬৬১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৩১১৩, সহীহ আত্ তারগীব ৭৬১, শারহুস্ সুন্নাহ্ ১৫৬০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৭৪-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যাকাত না দেওয়ার পরিণাম খুব ভীতিকর ভাষায় বলেছেন। আল্লাহ কাউকে ধন-সম্পদ দিলে, আর সে তার যাকাত আদায় না করলে কিয়ামতের দিন সেই সম্পদ টাকমাথা বিষধর সাপের রূপ নেবে। সাপটি তার গলায় মালার মতো হবে, দুই চোয়াল আঁকড়ে ধরে বলবে—আমিই তোমার সম্পদ, আমিই তোমার সঞ্চিত ধন। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) সূরা আলে ইমরানের আয়াত তিলাওয়াত করেন, যেখানে কৃপণতা করা সম্পদ কিয়ামতের দিন গলায় বেড়ী করে পরানোর কথা এসেছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সম্পদ আল্লাহর দান; এর হক আদায় না করলে সেই সম্পদই আখেরাতে বিপদের কারণ হতে পারে। যাকাত আদায় করা তাই শুধু দান নয়, সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহপ্রদত্ত সম্পদের যাকাত আদায় করা জরুরি।
- যাকাত না দিলে সম্পদ কিয়ামতে বিপদের কারণ হতে পারে।
- কৃপণতা হাদিসে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
- কুরআনের আয়াত দিয়ে যাকাত না দেওয়ার পরিণাম বোঝানো হয়েছে।
