৬/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৭৫-[৪] - উট গরু ছাগলের যাকাত না দেওয়ার পরিণাম
যাকাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেনঃ যাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। এটা শারী‘আতের একটি শক্তিশালী বিষয়। যে ব্যক্তি যাকাতের ফারযিয়্যাতকে অমান্য করবে সে কাফির হয়ে যাবে। যাকাতের লাগবী অর্থ বৃদ্ধি, বারাকাত ও পবিত্র করা। যাকাত আদায় করলে মাল বৃদ্ধি পায় ও মাল পবিত্র হয়। আর যাকাত আদায়কারী গুনাহ থেকে পবিত্র হয়। আর যাকাতের শার‘ঈ অর্থ হলো নিসাব পূর্ণ সম্পদে এক বৎসর অতিবাহিত হলে তা ফকীর, মিসকীন ও অন্যান্যদের মাঝে নির্ধারিত পন্থায় আদায় করা।অতঃপর যাকাতের রুকন, কারণ হিকমাত ও শর্ত রয়েছে। তা ফরয হওয়ার কারণ হলো মালের মালিক হওয়া। যাকাতের শর্ত হলো (মালের ক্ষেত্রে) নিসাব পরিমাণ হওয়া, বৎসর পূর্ণ হওয়া এবং (ব্যক্তির ক্ষেত্রে) বালেগ ও স্বাধীন হওয়া। হিকমাত হলো দুনিয়ার কর্তব্য পালন হওয়া এবং আখিরাতের সাওয়াব ও দরজা অর্জন হওয়া। আর গুনাহ হতে পবিত্র হওয়া এবং কৃপণতার দায় থেকে বাঁচা।প্রকাশ থাকে যে, অধিকাংশ ‘উলামাদের মতে যাকাত হিজরতের পর ফরয হয়। তারা দ্বিতীয় হিজরীতে ফরয হওয়ার মত ব্যক্ত করেন। কেউ কেউ বলেন, হিজরতের পূর্বে ফরয হয়েছে।
পশুর যাকাত না দিলে কিয়ামতের হিসাব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৭৭৫-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৭৭৫-[৪]
عَنْ أَبِىْ ذَرٍّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: «مَا مِنْ رَجُلٍ يَكُونُ لَه إِبِلٌ أَوْ بَقَرٌ أَوْ غَنَمٌ لَا يُؤَدِّىْ حَقَّهَا إِلَّا أَتى بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْظَمَ مَا يَكُوْنُ وَأَسْمَنَه تَطَؤُه بِأَخْفَافِهَا وَتَنْطِحُه بِقُرُوْنِهَا كُلَّمَا جَازَتْ أُخْرَاهَا رُدَّتْ عَلَيْهِ أُولَاهَا حَتّى يُقْضى بَيْنَ النَّاسِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির উট, গরু ও ছাগল থাকবে, আর সে এসবের হাক্ব (যাকাত) আদায় করবে না। ক্বিয়ামতের দিন এসব জন্তু খুব তরতাজা মোটাসোটা করে আনা হবে এবং তারা তাদের পা দিয়ে তাদের পিষবে। তাদের শিং দিয়ে গুতোবে। শেষ দলটি পিষে যাবার পর আবার প্রথম দলটি আসবে হিসাব-নিকাশ হওয়া পর্যন্ত (এভাবে চলতে থাকবে)। (বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৪৬০, মুসলিম ৯৯০, আত্ তিরমিযী ৬১৭, নাসায়ী ২৪৪০, আহমাদ ২১৪৯১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৭৫-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উট, গরু ও ছাগলের মালিকদের জন্য যাকাতের হক নিয়ে কঠোর সতর্কতা এসেছে। যার এসব পশু আছে কিন্তু সে তাদের হক আদায় করে না, কিয়ামতের দিন পশুগুলো সবচেয়ে বড় ও মোটাসোটা অবস্থায় আনা হবে। তারা পা দিয়ে মালিককে পিষবে এবং শিং দিয়ে গুতোবে। শেষ দল পার হলে আবার প্রথম দল ফিরে আসবে, যতক্ষণ না মানুষের হিসাব শেষ হয়। এখানে যাকাতের শিক্ষা শুধু নগদ অর্থ বা সোনা-রূপায় সীমাবদ্ধ নয়; যে সম্পদে শরিয়ত হক নির্ধারণ করেছে, তার হকও দিতে হবে। হাদিসটি সম্পদের মালিককে দায়িত্বশীল করে। পশু পালন করা শুধু লাভের বিষয় নয়, বরং আল্লাহর দেওয়া মাল হিসেবে তার হক জানা ও আদায় করার বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উট, গরু ও ছাগলের হক আদায় করা দায়িত্ব।
- পশুসম্পদের যাকাত অবহেলা করা যাবে না।
- কিয়ামতের হিসাবের কথা মনে রেখে সম্পদের হক দিতে হবে।
- মালিকানা মানে শুধু ভোগ নয়, দায়িত্বও।
