৬/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৭৭-[৬] - যাকাত দাতার জন্য রহমতের দোয়া

যাকাত - প্রথম অনুচ্ছেদ

হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেনঃ যাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। এটা শারী‘আতের একটি শক্তিশালী বিষয়। যে ব্যক্তি যাকাতের ফারযিয়্যাতকে অমান্য করবে সে কাফির হয়ে যাবে। যাকাতের লাগবী অর্থ বৃদ্ধি, বারাকাত ও পবিত্র করা। যাকাত আদায় করলে মাল বৃদ্ধি পায় ও মাল পবিত্র হয়। আর যাকাত আদায়কারী গুনাহ থেকে পবিত্র হয়। আর যাকাতের শার‘ঈ অর্থ হলো নিসাব পূর্ণ সম্পদে এক বৎসর অতিবাহিত হলে তা ফকীর, মিসকীন ও অন্যান্যদের মাঝে নির্ধারিত পন্থায় আদায় করা।অতঃপর যাকাতের রুকন, কারণ হিকমাত ও শর্ত রয়েছে। তা ফরয হওয়ার কারণ হলো মালের মালিক হওয়া। যাকাতের শর্ত হলো (মালের ক্ষেত্রে) নিসাব পরিমাণ হওয়া, বৎসর পূর্ণ হওয়া এবং (ব্যক্তির ক্ষেত্রে) বালেগ ও স্বাধীন হওয়া। হিকমাত হলো দুনিয়ার কর্তব্য পালন হওয়া এবং আখিরাতের সাওয়াব ও দরজা অর্জন হওয়া। আর গুনাহ হতে পবিত্র হওয়া এবং কৃপণতার দায় থেকে বাঁচা।প্রকাশ থাকে যে, অধিকাংশ ‘উলামাদের মতে যাকাত হিজরতের পর ফরয হয়। তারা দ্বিতীয় হিজরীতে ফরয হওয়ার মত ব্যক্ত করেন। কেউ কেউ বলেন, হিজরতের পূর্বে ফরয হয়েছে।

যাকাত দাতার জন্য নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দোয়া

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৭৭৭-[৬]

وَعَنْ عَبْدُ اللّهِ بْنِ أَبِىْ أَوْفى رَضِيَ اللّهُ عَنْهُمَا قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا أَتَاهُ قَوْمٌ بِصَدَقَتِهِمْ قَالَ: اللّهُمَّ صَلِّى عَلى الِ فلَانٍ. فَأَتَاهُ أَبِىْ بِصَدَقَتِه فَقَالَ: اللّهُمَّ صَلِّ عَلى ال أَبِىْ أوْفى. (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)وَفِي رِوَايَة: إِذا أَتَى الرَّجُلُ النَّبِيَّ بِصَدَقَتِه قَالَ: اللّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ

‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

কোন ক্বওম নবী (ﷺ)-এর কাছে তাদের যাকাত নিয়ে এলে তিনি বলতেন, “আল্ল-হুম্মা স-ল্লি ‘আলা- আ-লি ফুলা-ন” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! অমুকের ওপর রহ্‌মাত বর্ষণ করো)। আমার পিতাও যখন তার নিকট যাকাত নিয়ে এলেন তিনি বললেন, “আল্ল-হুম্মা সল্লি ‘আলা- আ-লি আবী আওফা” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আবূ আওফা ও তার বংশধরদের ওপর রহ্‌মাত বর্ষণ করো)। (বুখারী, মুসলিম) [১] অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, যখন কোন ব্যক্তি তার নিজের যাকাত নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আসতেন, তিনি বলতেন, اَللّهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ “হে আল্লাহ! এ ব্যক্তির ওপর রহ্‌মাত বর্ষণ করো।”

[১] সহীহ : বুখারী ১৪৯৭, ৬৩৫৯, মুসলিম ১০৭৮, আবূ দাঊদ ১৫৯০, নাসায়ী ২৪৫৯, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৭৬৫৭, ইরওয়া ৮৫৩, সহীহ আল জামি‘ আস্ সগীর ৪৬৪৩।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৭৭-[৬]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে যাকাত নিয়ে আসা মানুষের জন্য নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দোয়ার সুন্দর আদব এসেছে। কোনো কওম তাদের সদকা বা যাকাত নিয়ে এলে তিনি বলতেন—হে আল্লাহ, অমুকের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আবূ আওফা (রা.)-এর পিতা যখন যাকাত নিয়ে এলেন, তখন তিনি আবূ আওফার পরিবারের জন্য দোয়া করলেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, কোনো ব্যক্তি নিজের যাকাত নিয়ে এলে তিনি তার জন্য দোয়া করতেন। এখানে যাকাত দাতার সম্মান ও উৎসাহ দেওয়ার শিক্ষা আছে। যাকাত আদায় শুধু হিসাবের কাজ নয়; এটি আল্লাহর হুকুম মানা। তাই দাতার জন্য রহমতের দোয়া করা তাকে উৎসাহিত করে এবং সমাজে ভালো আমলের মর্যাদা বাড়ায়। তবে এই দোয়াকে অতিরঞ্জিত করে নির্দিষ্ট বাধ্যতামূলক রীতি বানানোর দরকার নেই; হাদিসের ভাষায় এটি নববী সুন্দর আচরণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • যাকাত দাতার জন্য দোয়া করা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমল ছিল।
  • ভালো আমলকারীকে উৎসাহ দেওয়া সুন্দর আচরণ।
  • যাকাত আদায়কে সম্মান ও দোয়ার সঙ্গে দেখা উচিত।
  • দোয়ার ভাষা রহমত ও কল্যাণের।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন