৬/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৭৮-[৭] - যাকাত প্রসঙ্গে ইনসাফ ও ভুল ধারণা সংশোধন
যাকাত - প্রথম অনুচ্ছেদ
হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেনঃ যাকাত ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। এটা শারী‘আতের একটি শক্তিশালী বিষয়। যে ব্যক্তি যাকাতের ফারযিয়্যাতকে অমান্য করবে সে কাফির হয়ে যাবে। যাকাতের লাগবী অর্থ বৃদ্ধি, বারাকাত ও পবিত্র করা। যাকাত আদায় করলে মাল বৃদ্ধি পায় ও মাল পবিত্র হয়। আর যাকাত আদায়কারী গুনাহ থেকে পবিত্র হয়। আর যাকাতের শার‘ঈ অর্থ হলো নিসাব পূর্ণ সম্পদে এক বৎসর অতিবাহিত হলে তা ফকীর, মিসকীন ও অন্যান্যদের মাঝে নির্ধারিত পন্থায় আদায় করা।অতঃপর যাকাতের রুকন, কারণ হিকমাত ও শর্ত রয়েছে। তা ফরয হওয়ার কারণ হলো মালের মালিক হওয়া। যাকাতের শর্ত হলো (মালের ক্ষেত্রে) নিসাব পরিমাণ হওয়া, বৎসর পূর্ণ হওয়া এবং (ব্যক্তির ক্ষেত্রে) বালেগ ও স্বাধীন হওয়া। হিকমাত হলো দুনিয়ার কর্তব্য পালন হওয়া এবং আখিরাতের সাওয়াব ও দরজা অর্জন হওয়া। আর গুনাহ হতে পবিত্র হওয়া এবং কৃপণতার দায় থেকে বাঁচা।প্রকাশ থাকে যে, অধিকাংশ ‘উলামাদের মতে যাকাত হিজরতের পর ফরয হয়। তারা দ্বিতীয় হিজরীতে ফরয হওয়ার মত ব্যক্ত করেন। কেউ কেউ বলেন, হিজরতের পূর্বে ফরয হয়েছে।
যাকাত আদায়ে ইনসাফ ও সঠিক যাচাই
মিশকাতুল মাসাবীহ : ১৭৭৮-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ১৭৭৮-[৭]
عَن أَبِىْ هُرَيْرَةَ. قَالَ: بَعَثَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ عُمَرَ عَلَى الصَّدَقَةِ. فَقِيلَ: مَنَعَ ابْنُ جَمِيلٍ وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ وَالْعَبَّاسُ. فَقَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: «مَا يَنْقِمُ ابْنُ جَمِيلٍ إِلَّا أَنَّه كَانَ فَقِيْرًا فَأَغْنَاهُ اللّهُ وَرَسُولُه. وَأَمَّا خَالِدٌ فَإِنَّكُمْ تَظْلِمُونَ خَالِدًا. قَدِ احْتَبَسَ أَدْرَاعَه وَأَعَتُدَه فِىْ سَبِيلِ اللّهِ. وَأَمَّا الْعَبَّاسُ فَهِيَ عَلَيَّ. وَمِثْلُهَا مَعَهَا». ثُمَّ قَالَ: «يَا عُمَرُ أَمَا شَعَرْتَ أَنَّ عَمَّ الرَّجُلِ صِنْوَ أَبِيْهِ؟». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যাকাত আদায়ের জন্য উমর (রাঃ)-কে পাঠালেন। কেউ এসে খবর দিলো যে, ইবনু জামিল, খালিদ ইবনু ওয়ালীদ আর ‘আব্বাস (রাঃ) যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে। (এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইবনু জামিল এজন্য যাকাত দিতে অস্বীকার করেছেন যে, (প্রথম দিকে) গরীব ছিল। এরপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাকে সম্পদশালী করেছেন। আর খালিদ ইবনু ওয়ালীদ-এর ব্যাপার হলো, তোমরা তার ওপর যুল্ম করছ। সে তো তার যুদ্ধসামগ্রী আল্লাহর পথে ওয়াক্ফ করে দিয়েছে (কাজেই তোমরা তার শুধু এ বছরই নয় বরং) এ রকম (আগামী বছর)ও।এরপর থাকে ‘আব্বাস-এর বিষয়। তার এ বছরের যাকাত এবং এর সমপরিমাণ আমার দায়িত্বে। অতঃপর তিনি বললেন, হে উমর! তুমি কি জানো না কোন ব্যক্তির চাচা তার পিতার মতই। (বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৪৬৮, মুসলিম ৯৮৩, নাসায়ী ২৪৬৪, ইবনু খুযায়মাহ্ ২৩৩০, ইবনু হিব্বান ৩২৭৩, আহমাদ ৮২৮৪, দারাকুত্বনী ২০০৬, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১১৯১৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ১৭৭৮-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যাকাত আদায়ের একটি বাস্তব ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উমর (রা.)-কে যাকাত আদায়ে পাঠান। পরে বলা হলো, ইবনু জামিল, খালিদ ইবনু ওয়ালীদ এবং আব্বাস (রা.) যাকাত দিতে অস্বীকার করেছেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রত্যেকের বিষয় আলাদা করে ব্যাখ্যা করেন। ইবনু জামিল সম্পর্কে তিনি স্মরণ করালেন, আগে সে গরিব ছিল, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাকে সম্পদশালী করেছেন। খালিদ (রা.) সম্পর্কে বললেন, তোমরা তার ওপর যুল্ম করছ; সে যুদ্ধসামগ্রী আল্লাহর পথে ওয়াক্ফ করেছে। আব্বাস (রা.)-এর যাকাতের বিষয় তিনি নিজের দায়িত্বে নিলেন এবং চাচার মর্যাদার কথা বললেন। এখানে যাকাত প্রসঙ্গে বিচার, যাচাই ও ইনসাফের শিক্ষা আছে। অভিযোগ শুনেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে বাস্তব অবস্থা বোঝা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যাকাত সংক্রান্ত অভিযোগে যাচাই করা জরুরি।
- প্রত্যেক ব্যক্তির অবস্থা আলাদা করে দেখা উচিত।
- আল্লাহর পথে ওয়াক্ফ করা সম্পদ নিয়ে অন্যায় ধারণা করা ঠিক নয়।
- চাচার মর্যাদা পিতার মতো—এই শিক্ষা এসেছে।
