১০/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩০৩-[৯] - লা হাওলা ও জান্নাতের ভাণ্ডার
তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবির (আল্লাহু আকবার)- বলার সওয়াব - প্রথম অনুচ্ছেদ
মহা পরাক্রমশালী, মহীয়ান আল্লাহর জিকির অধ্যায়ের ব্যাপক আলোচনার পর খাস আলোচনার অধ্যায়। উদ্দেশ্য ঐ সকল হাদীসগুলো বর্ণনা করা, যেগুলোতেاَللهُ أَكْبَر(আল্ল-হু আকবার),لَاۤ إِلٰهِ اِلَّا اللهُ(লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ),اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ(আলহামদুলিল্লা-হ),سُبْحَانَ اللهِ(সুবহা-নাল্ল-হ) বলার মর্যাদা ও পুণ্য সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে।التسبيح(তাসবীহ)-এর অর্থ হল সেই সব ত্রুটি থেকে আল্লাহ তা‘আলাকে পবিত্র সাব্যস্ত করা যা তাঁর সত্তার সাথে মানায় না।সুতরাং সাধারণভাবে আল্লাহর জন্য অংশীদার, স্ত্রী, সন্তান, সমস্ত নিন্দনীয় বিষয়াবলী এবং নতুনত্ব সাব্যস্ত না হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে। কখনো তাসবীহকে ব্যবহার করে তার দ্বারা যিকিরের সকল শব্দকে উদ্দেশ্য করা হয় আবার কখনো নফল সালাতকে উদ্দেশ্য করা হয়।ইবনুল আসীর বলেন, তাসবীহের মূল অর্থ হল সকল প্রকার ঘাটতি, ত্রুটি বা কমতি থেকে কোন কিছুকে পবিত্র সাব্যস্ত করা। অতঃপর তাসবীহকে এমন স্থানসমূহে প্রয়োগ করা হয়েছে, যে স্থানগুলো পরিব্যাপ্ত এর দিক থেকে তাসবীহ এর কাছাকাছি।
লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহর ফজিলত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৩০৩-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩০৩-[৯]
وَعَنْ أَبِىْ مُوسَى الْأَشْعَرِىِّ قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ فِىْ سَفَرٍ فَجَعَلَ النَّاسُ يَجْهَرُونَ بِالتَّكْبِيرِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى انْفُسِكُمْ إِنَّكُمْ لَا تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلَا غَائِبًا إِنَّكُمْ تَدْعُونَ سَمِيعًا بَصِيرًا وَهُوَ مَعَكُمْ وَالَّذِىْ تَدْعُونَه أَقْرَبُ إِلٰى أَحَدِكُمْ مِنْ عُنُقِ رَاحِلَتِه»قَالَ أَبُو مُوسٰى: وَأَنَا خَلْفَه أَقُولُ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ فِىْ نَفْسِىْ فَقَالَ: «يَا عَبْدَ اللّٰهِ بْنَ قَيْسٍ أَلَا أَدُلُّكَ عَلٰى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ؟» فَقُلْتُ: بَلٰى يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ قَالَ: «لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক সফরে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। লোকেরা তখন উচ্চৈঃস্বরে তাকবির বলছিল। (তাকবির শুনে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে লোকেরা! তোমরা তোমাদের নাফসের উপর রহম করো। কেননা তোমরা তাকবিরের মাধ্যমে কোন বধিরকে বা কোন অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না, তোমরা ডাকছ এমন সত্তাকে যিনি তোমাদের সব কথা শুনেন ও দেখেন। তিনি তোমাদের সাথেই আছেন। তোমরা যাঁকে ডাকছ তিনি তোমাদের প্রত্যেকের বাহনের গর্দান থেকেও বেশি নিকটে।আবূ মূসা আল আশ্‘আরী (রাঃ) বলেন, আমি তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পিছনে চুপে চুপে বলছিলাম ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’ (অর্থাৎ- আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আমার কোন উপায় নেই)। তখন তিনি (ﷺ) বললেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু কায়স! (আবূ মূসার ডাক নাম) আমি কি তোমাকে জান্নাতের ভাণ্ডারগুলোর একটি ভাণ্ডারের সন্ধান দেব না? আমি বললাম, অবশ্যই দেবেন, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি (ﷺ) বললেন, সেটা হলো ‘‘লা- হাওলা ওয়ালা- ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ’’।
[১] সহীহ : বুখারী ৪২০৫, মুসলিম ২৭০৪। (বুখারী, মুসলিম)[১]
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩০৩-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফরের সময় সাহাবীগণ উচ্চস্বরে তাকবির বলছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নরমভাবে বললেন, তোমরা নিজেদের উপর দয়া করো; তোমরা এমন কাউকে ডাকছ না যিনি বধির বা অনুপস্থিত। আল্লাহ শোনেন, দেখেন এবং বান্দার খুব নিকটে। এই অংশে জিকিরের আদব শেখানো হয়েছে—আল্লাহকে ডাকতে চিৎকারের দরকার নেই, বিনয় ও সচেতনতা দরকার। এরপর আবূ মূসা আশআরী রাযি. মনে মনে ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলছিলেন। নবীজি এটিকে জান্নাতের ভাণ্ডারের একটি ভাণ্ডার বলেছেন। অর্থাৎ বান্দা নিজের অক্ষমতা স্বীকার করে আল্লাহর সাহায্যের উপর ভরসা করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহকে ডাকতে চিৎকার নয়, বিনয় ও মনোযোগ দরকার।
- আল্লাহ বান্দার কথা শুনেন এবং তাঁর অবস্থা দেখেন।
- ‘লা হাওলা’ বান্দাকে নিজের অক্ষমতা ও আল্লাহর সাহায্য স্মরণ করায়।
- সফরেও জিকিরের আদব বজায় রাখা উচিত।
