১০/১. অধ্যায়ঃ
তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবির (আল্লাহু আকবার)- বলার সওয়াব - প্রথম অনুচ্ছেদ
মহা পরাক্রমশালী, মহীয়ান আল্লাহর জিকির অধ্যায়ের ব্যাপক আলোচনার পর খাস আলোচনার অধ্যায়। উদ্দেশ্য ঐ সকল হাদীসগুলো বর্ণনা করা, যেগুলোতেاَللهُ أَكْبَر(আল্ল-হু আকবার),لَاۤ إِلٰهِ اِلَّا اللهُ(লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ),اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ(আলহামদুলিল্লা-হ),سُبْحَانَ اللهِ(সুবহা-নাল্ল-হ) বলার মর্যাদা ও পুণ্য সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে।التسبيح(তাসবীহ)-এর অর্থ হল সেই সব ত্রুটি থেকে আল্লাহ তা’আলাকে পবিত্র সাব্যস্ত করা যা তাঁর সত্তার সাথে মানায় না।সুতরাং সাধারণভাবে আল্লাহর জন্য অংশীদার, স্ত্রী, সন্তান, সমস্ত নিন্দনীয় বিষয়াবলী এবং নতুনত্ব সাব্যস্ত না হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে। কখনো তাসবীহকে ব্যবহার করে তার দ্বারা যিকিরের সকল শব্দকে উদ্দেশ্য করা হয় আবার কখনো নফল সালাতকে উদ্দেশ্য করা হয়।ইবনুল আসীর বলেন, তাসবীহের মূল অর্থ হল সকল প্রকার ঘাটতি, ত্রুটি বা কমতি থেকে কোন কিছুকে পবিত্র সাব্যস্ত করা। অতঃপর তাসবীহকে এমন স্থানসমূহে প্রয়োগ করা হয়েছে, যে স্থানগুলো পরিব্যাপ্ত এর দিক থেকে তাসবীহ এর কাছাকাছি।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ২৩০২-[৮]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ২৩০২-[৮]
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ فِىْ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ كَانَتْ لَه عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وَكُتِبَتْ لَه مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ وَكَانَتْ لَه حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَه ذٰلِكَ حَتّٰى يُمْسِىَ وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِه إِلَّا رَجُلٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْهُ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনে একশ’বার পড়বে‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর’’(অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই, তাঁরই রাজত্ব, তাঁরই প্রশংসা এবং তিনি হচ্ছেন সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান)তার দশটি গোলাম মুক্ত করে দেয়ার সমপরিমাণ সাওয়াব হবে। তার জন্য একশ’ নেকী লেখা হবে, তার একশ’টি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, তার জন্য এ দু‘আ ঐ দিনের সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান হতে বেঁচে থাকার জন্য রক্ষাকবচ হবে এবং সে যে কাজ করেছে তার চেয়ে উত্তম কাজ অন্য কেউ করতে পারবে না, কেবল ঐ ব্যক্তি ছাড়া যে এর চেয়ে বেশী পড়বে। (বুখারী, মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : বুখারী ৩২৯৩, মুসলিম ২৬৯১, মুয়াত্ত্বা মালিক ৭১২, তিরমিযী ৩৪৬৮, ইবনু মাজাহ ৩৭৯৮, আহমাদ ৮০০৮, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ৬, সহীহ আত্ তারগীব ৬৫৪, সহীহ আল জামি‘ ৬৪৩৭।
