১০/১. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩০২-[৮] - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ১০০ বার

তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবির (আল্লাহু আকবার)- বলার সওয়াব - প্রথম অনুচ্ছেদ

মহা পরাক্রমশালী, মহীয়ান আল্লাহর জিকির অধ্যায়ের ব্যাপক আলোচনার পর খাস আলোচনার অধ্যায়। উদ্দেশ্য ঐ সকল হাদীসগুলো বর্ণনা করা, যেগুলোতেاَللهُ أَكْبَر(আল্ল-হু আকবার),لَاۤ إِلٰهِ اِلَّا اللهُ(লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ),اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ(আলহামদুলিল্লা-হ),سُبْحَانَ اللهِ(সুবহা-নাল্ল-হ) বলার মর্যাদা ও পুণ্য সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে।التسبيح(তাসবীহ)-এর অর্থ হল সেই সব ত্রুটি থেকে আল্লাহ তা‘আলাকে পবিত্র সাব্যস্ত করা যা তাঁর সত্তার সাথে মানায় না।সুতরাং সাধারণভাবে আল্লাহর জন্য অংশীদার, স্ত্রী, সন্তান, সমস্ত নিন্দনীয় বিষয়াবলী এবং নতুনত্ব সাব্যস্ত না হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে। কখনো তাসবীহকে ব্যবহার করে তার দ্বারা যিকিরের সকল শব্দকে উদ্দেশ্য করা হয় আবার কখনো নফল সালাতকে উদ্দেশ্য করা হয়।ইবনুল আসীর বলেন, তাসবীহের মূল অর্থ হল সকল প্রকার ঘাটতি, ত্রুটি বা কমতি থেকে কোন কিছুকে পবিত্র সাব্যস্ত করা। অতঃপর তাসবীহকে এমন স্থানসমূহে প্রয়োগ করা হয়েছে, যে স্থানগুলো পরিব্যাপ্ত এর দিক থেকে তাসবীহ এর কাছাকাছি।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ১০০ বার পড়ার ফজিলত

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩০২-[৮]

وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «مَنْ قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَه لَا شَرِيْكَ لَه لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ فِىْ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ كَانَتْ لَه عَدْلَ عَشْرِ رِقَابٍ وَكُتِبَتْ لَه مِائَةُ حَسَنَةٍ وَمُحِيَتْ عَنْهُ مِائَةُ سَيِّئَةٍ وَكَانَتْ لَه حِرْزًا مِنَ الشَّيْطَانِ يَوْمَه ذٰلِكَ حَتّٰى يُمْسِىَ وَلَمْ يَأْتِ أَحَدٌ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِه إِلَّا رَجُلٌ عَمِلَ أَكْثَرَ مِنْهُ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনে একশ’বার পড়বে ‘‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহূ লা- শারীকা লাহূ লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোন মা‘বূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই, তাঁরই রাজত্ব, তাঁরই প্রশংসা এবং তিনি হচ্ছেন সকল বিষয়ের উপর ক্ষমতাবান) তার দশটি গোলাম মুক্ত করে দেয়ার সমপরিমাণ সাওয়াব হবে। তার জন্য একশ’ নেকী লেখা হবে, তার একশ’টি গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে, তার জন্য এ দোয়া ঐ দিনের সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান হতে বেঁচে থাকার জন্য রক্ষাকবচ হবে এবং সে যে কাজ করেছে তার চেয়ে উত্তম কাজ অন্য কেউ করতে পারবে না, কেবল ঐ ব্যক্তি ছাড়া যে এর চেয়ে বেশি পড়বে।(বুখারী, মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৩২৯৩, মুসলিম ২৬৯১, মুয়াত্ত্বা মালিক ৭১২, তিরমিযী ৩৪৬৮, ইবনু মাজাহ ৩৭৯৮, আহমাদ ৮০০৮, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ৬, সহীহ আত্ তারগীব ৬৫৪, সহীহ আল জামি‘ ৬৪৩৭।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩০২-[৮]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু’ জিকিরের বড় ফজিলত বলেছেন। দিনে একশবার এই কালিমা পড়লে দশজন গোলাম মুক্ত করার সমপরিমাণ সাওয়াব, একশ নেকী, একশ গুনাহ মোচন এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত শয়তান থেকে রক্ষার কথা এসেছে। এখানে তাহলীলের মূল শিক্ষা হলো, বান্দা আল্লাহর একত্ব, রাজত্ব, প্রশংসা ও ক্ষমতার স্বীকৃতি দেয়। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, কেউ এর চেয়ে বেশি পড়লে সে আরও বেশি আমলকারী হিসেবে এগিয়ে যেতে পারে। তাই এটি দৈনিক জিকিরের সহজ কিন্তু গভীর একটি আমল। তবে এই ফজিলতকে আমলের উৎসাহ হিসেবে নিতে হবে, অহংকারের কারণ হিসেবে নয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তাওহীদের কালিমা দৈনিক জিকিরের বড় অংশ হতে পারে।
  • নির্দিষ্ট সংখ্যায় নবীজির শেখানো জিকিরে বিশেষ ফজিলত আছে।
  • জিকির বান্দাকে নেক কাজের দিকে আগ্রহী করে।
  • বেশি আমল করার দরজা খোলা, তবে তা বিনয় নিয়ে করা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন