১০/১. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩০১-[৭] - সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহির ফজিলত

তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ), তাহমিদ (আলহামদুলিল্লাহ), তাহলিল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) ও তাকবির (আল্লাহু আকবার)- বলার সওয়াব - প্রথম অনুচ্ছেদ

মহা পরাক্রমশালী, মহীয়ান আল্লাহর জিকির অধ্যায়ের ব্যাপক আলোচনার পর খাস আলোচনার অধ্যায়। উদ্দেশ্য ঐ সকল হাদীসগুলো বর্ণনা করা, যেগুলোতেاَللهُ أَكْبَر(আল্ল-হু আকবার),لَاۤ إِلٰهِ اِلَّا اللهُ(লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ),اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ(আলহামদুলিল্লা-হ),سُبْحَانَ اللهِ(সুবহা-নাল্ল-হ) বলার মর্যাদা ও পুণ্য সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে।التسبيح(তাসবীহ)-এর অর্থ হল সেই সব ত্রুটি থেকে আল্লাহ তা‘আলাকে পবিত্র সাব্যস্ত করা যা তাঁর সত্তার সাথে মানায় না।সুতরাং সাধারণভাবে আল্লাহর জন্য অংশীদার, স্ত্রী, সন্তান, সমস্ত নিন্দনীয় বিষয়াবলী এবং নতুনত্ব সাব্যস্ত না হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে। কখনো তাসবীহকে ব্যবহার করে তার দ্বারা যিকিরের সকল শব্দকে উদ্দেশ্য করা হয় আবার কখনো নফল সালাতকে উদ্দেশ্য করা হয়।ইবনুল আসীর বলেন, তাসবীহের মূল অর্থ হল সকল প্রকার ঘাটতি, ত্রুটি বা কমতি থেকে কোন কিছুকে পবিত্র সাব্যস্ত করা। অতঃপর তাসবীহকে এমন স্থানসমূহে প্রয়োগ করা হয়েছে, যে স্থানগুলো পরিব্যাপ্ত এর দিক থেকে তাসবীহ এর কাছাকাছি।

সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি: ওজনে ভারী তাসবীহ

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৩০১-[৭]

وَعَن جوَيْرِية أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا بُكْرَةً حِينَ صَلَّى الصُّبْحَ وَهِىَ فِىْ مَسْجِدِهَا ثُمَّ رَجَعَ بَعْدَ أَنْ أَضْحٰى وَهِىَ جَالِسَةٌ قَالَ: «مَا زِلْتِ عَلَى الْحَالِ الَّتِىْ فَارَقْتُكِ عَلَيْهَا؟» قَالَتْ: نَعَمْ قَالَ النَّبِىُّ ﷺ: «لَقَدْ قُلْتُ بَعْدَكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ لَوْ وُزِنَتْ بِمَا قُلْتِ مُنْذُ الْيَوْمِ لَوَزَنَتْهُنَّ: سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِه عَدَدَ خَلْقِه وَرِضَاءَ نَفْسِه وَزِنَةَ عَرْشِه وَمِدَادَ كَلِمَاتِه». رَوَاهُ مُسْلِمٌ

উম্মুল মু’মিনীন জুওয়াইরিয়্যাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন নবী (ﷺ) ফজরের সালাতের পর খুব ভোরে তাঁর নিকট হতে বের হলেন। তখন জুওয়াইরিয়্যাহ্ (রাঃ) নিজ সালাতের জায়গায় বসা। তারপর তিনি (ﷺ) যখন ফিরে আসলেন তখন সূর্য বেশ উপরে উঠে এসেছে। আর জুওয়াইরিয়্যাহ্ (রাঃ) তখনো সালাতের জায়গায় বসে আছেন। তিনি (ﷺ) তাঁকে বললেন, আমি তোমার কাছ থেকে চলে যাওয়ার সময় যে অবস্থায় তুমি ছিলে, এখনো কি সে অবস্থায় আছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ।তখন নবী (ﷺ) বললেন, তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর আমি মাত্র চারটি কালিমাহ্ তিনবার পড়েছি, যদি তুমি এ পর্যন্ত যা পড়েছ তার সাথে আমার পড়া কালাম ওজন দেয়া হয় তাহলে এর ওজনই বেশি হবে। (বাক্যগুলো হলো) ‘‘সুবহা-নাল্ল-হি ওয়া বিহামদিহী, ‘আদাদা খলকিহী, ওয়া রিযা- নাফসিহী, ওয়া যিনাতা ‘আরশিহী, ওয়া মিদা-দা কালিমা-তিহী’’ (অর্থাৎ- আল্লাহ তা‘আলার পূত-পবিত্রতা বর্ণনা করি তাঁর প্রশংসার সাথে, তাঁর সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর সন্তুষ্টি পরিমাণ, তার ‘আরশের ওজন পরিমাণ ও তাঁর বাক্যসমূহের সংখ্যা পরিমাণ।)।(মুসলিম)[১]

[১] সহীহ : মুসলিম ২৭২৬, আদ্ দা‘ওয়াতুল কাবীর ১২৭, শু‘আবূল ঈমান ৫৯৬, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ৫০৪/৬৪৭, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১২, সহীহাহ্ ২১৫৬, সহীহ আত্ তারগীব ১৫৭৪, সহীহ আল জামি‘ ৫১৩৯, ইবনু খুযায়মাহ্ ৭৫৩।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৩০১-[৭]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে জুওয়াইরিয়্যাহ্ রাযি. ফজরের পর নিজের সালাতের জায়গায় বসে জিকির করছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে এসে দেখলেন, তিনি এখনো একই জায়গায় আছেন। তখন তিনি এমন চারটি কালিমা শেখালেন, যা তিনবার পড়লে দীর্ঘ সময়ের জিকিরের তুলনায় ওজনে বেশি হয়। মূল শিক্ষা হলো, জিকির শুধু সংখ্যার বিষয় নয়; অর্থ, গভীরতা ও নবীজির শেখানো শব্দের মূল্যও বড়। ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ এখানে আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসাকে তাঁর সৃষ্টি, সন্তুষ্টি, আরশের ওজন এবং কালিমার বিস্তারের সাথে যুক্ত করে। তাই এই দোয়া ও তাসবীহ মুসলিমের সকালকে আল্লাহর স্মরণে অর্থবহ করে তোলে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবীজির শেখানো ছোট জিকিরও অর্থের দিক থেকে খুব গভীর হতে পারে।
  • ফজরের পর আল্লাহর জিকিরে সময় কাটানো প্রশংসনীয় আমল।
  • তাসবীহে আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা একসাথে প্রকাশ করা যায়।
  • জিকিরের শব্দ শেখার ক্ষেত্রে সহীহ বর্ণনার প্রতি যত্নবান হওয়া দরকার।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন