১০/৪. অধ্যায়ঃ
সকাল সন্ধ্যা ও শয্যা গ্রহণকালে যা বলবে - প্রথম অনুচ্ছেদ
الصباحবা সকাল হলো- ফজর উদিত হওয়া থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত। আর সন্ধ্যা সূর্য অস্ত হওয়া থেকে। যেমনটি রাগিব (রহঃ) বর্ণনা করেছেন।নাফি’ ইবনু আযরাক (রহঃ) ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) এর কাছে এসে বললেনঃ আপনি কুরআনুল কারীমে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পেয়েছেন কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। অতঃপর তিলাওয়াত করলেনঃفَسُبْحَانَ اللهِ حِيْنَ تُمْسُوْنَতিনি বলেন, এর দ্বারা মাগরিব ও ’ইশার সালাত উদ্দেশ্য।وَحِيْنَ تُصْبِحُوْنَএর দ্বারা ফজরের সালাত উদ্দেশ্য,وَعَشِيًّاএর দ্বারা ’আসরের সালাত এবংوَحِيْنَ تُظْهِرُوْنَএর দ্বারা যুহরের সালাত উদ্দেশ্য। (সূরা আর্ রূম ৩০ : ১৭-১৮)আর এ হলো সাহাবায়ে কিরামদেরصباح(সকাল)مساء(সন্ধ্যা)-এর ব্যাখ্যা। আর মুজাহিদ (রহঃ) হতে অনুরূপ বর্ণনা রয়েছে যে, সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ব্যতীতالمساءবা সন্ধ্যা হবে না। অতএব উক্ত সময়ের জিকিরগুলো(أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلّٰهِ) এরূপ হবে। ’আল্লামা নাবাবী (রহঃ) এ অধ্যায়ের অধীনে উল্লেখিত জিকির-আযকার সম্পর্কে বলেনঃ আমি জানি যে, নিশ্চয় এ অধ্যায়টি অত্যন্ত ব্যাপক, এ অধ্যায়ের তুলনায় ব্যাপক কোন অধ্যায় কিতাবটি (মিশকাতুল মাসাবীহ)-তে নেই। আর আমি এ ব্যাপকতার মাঝেও সংক্ষিপ্তকরণের ক্ষেত্রে কিছু আলোচনা করব ইনশা-আল্ল-হ। সুতরাং যে তার সমস্ত ’আমল (অধ্যায়ে উল্লেখিত সমস্ত জিকির-আযকার) করতে সক্ষম হবে এটা তার জন্য নিয়ামত, আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে অনুগ্রহ এবং তার জন্য সুখবর। আর যে সমস্ত জিকির-আযকার করতে অক্ষম, সে যেন সংক্ষিপ্তাকারে হলেও এ জিকির-আযকারগুলো করে, এমনকি একটি জিকির হলেও। অতঃপর ’আল্লামা নাবাবী (রহঃ) সকাল-সন্ধ্যা, ইশরাক, সূর্য উদিত হওয়ার আগে এবং অস্ত যাওয়ার পরের জিকির, তাসবীহ ও দু’আর নির্দেশ সংক্রান্ত কুরআনুল কারীমের আয়াতে কারীমাগুলো উল্লেখ করলেন।
মিশকাতুল মাসাবিহ : ২৩৮৪-[৪]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ২৩৮৪-[৪]
وَعَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ: «إِذَا أَوٰى أَحَدُكُمْ إِلٰى فِرَاشِه فَلْيَنْفُضْ فِرَاشَه بِدَاخِلَةِ إِزَارِه فَإِنَّه لَا يَدْرِىْ مَا خَلَفَه عَلَيْهِ ثُمَّ يَقُولُ: بِاسْمِكَ رَبِّىْ وَضَعْتُ جَنْبِىْ وَبِكَ أَرْفَعُهْ إِنْ أَمْسَكْتَ نَفْسِىْ فَارْحَمْهَا وَإِنْ أَرْسَلْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِه عِبَادَكَ الصَّالِحِيْنَ». وَفِىْ رِوَايَةٍ: «ثُمَّ لْيَضْطَجِعْ عَلٰى شِقِّهِ الْأَيْمَنِ ثُمَّ لِيَقُلْ: بِاِسْمِكَ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)وَفِىْ رِوَايَةٍ: «فَلْيَنْفُضْهُ بِصَنِفَةِ ثَوْبِه ثَلَاثَ مَرَّاتٍ وَإِن أَمْسَكْتَ نَفْسِىْ فَاغْفِر لَهَا
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ বিছানায় ঘুমানোর সময় যেন নিজের পরিধেয় বস্ত্রের ভিতর দিক দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়। কেননা সে জানে না, তারপর বিছানায় কি এসে পড়েছে। অতঃপর সে যেন এ দু‘আ পড়ে,‘‘বিস্মিকা রব্বী ওয়া য‘তু জাম্বী ওয়াবিকা আরফা‘উহ ইন্ আম্সাকতা নাফসী ফারহাম্হা- ওয়া ইন্ আরসালতাহা- ফাহফাযহা- বিমা- তাহফাযু বিহী ‘ইবা-দাকাস্ স-লিহীন’’(অর্থাৎ- হে রব! তোমার নামে আমার দেহ রাখলাম এবং তোমার নামেই আবার তা উঠাব। যদি তুমি আমার আত্মাকে (মৃত্যু হতে) ফিরিয়ে রাখো, তবে তুমি আমার আত্মার উপর দয়া করো। আর যদি একে ছেড়ে দাও, তাহলে এর রক্ষা করো, যা দিয়ে তুমি তোমার নেক বান্দাদেরকে রক্ষা করে থাকো।)। অন্য এক বর্ণনায় আছে, অতঃপর সে যেন নিজের ডান পাশে ঘুমায়, তারপর বলে, ‘‘বিসমিকা’’ (অর্থাৎ- তোমারই নামে)। (বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৬৩২০, ৭৩৯৩, মুসলিম ২৭১৪, আবূ দাঊদ ৫০৫০, আহমাদ ৭৯৩৮, দারিমী ২৭২৬, ইবনু হিব্বান ৫৫৩৪।
