১০/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪২০-[৫] - সফরে বের হওয়া ও ফিরে আসার দোআ
বিভিন্ন সময়ের পঠিতব্য দোয়া - প্রথম অনুচ্ছেদ
বিভিন্ন সময়ে পাঠ করার জন্য আলাদাভাবে ভিন্ন ভিন্ন দু‘আ রয়েছে, শারী‘আত কর্তৃক যা নির্ধারিত। আর এখানে সময় হলো কাজের জন্য নির্ধারিত কাল বা সময়। যেমন- সালাত, যাকাত ও হাজ্জের সময়। এছাড়াও অবস্থাভেদে বিভিন্ন দু‘আ শারী‘আত কর্তৃক নির্ধারিত। অর্থাৎ- বিভিন্ন অবস্থার জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন দু‘আগুলো শারী‘আত কর্তৃক বর্ণিত রয়েছে। যেমন- রাগের অবস্থা ও যুদ্ধের জন্য শত্রুর মুখোমুখি সারিবদ্ধ অবস্থা এবং আরো অনুরূপ অনেক অবস্থা রয়েছে। এছাড়াও নির্দিষ্ট সময়গুলোতে পঠিতব্য দু‘আগুলো বর্ণিত রয়েছে, শারী‘আত যা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে।
সফরের দোআ: যাত্রা শুরু ও ফিরে আসার সুন্নাতি আমল
মিশকাতুল মাসাবীহ : ২৪২০-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ২৪২০-[৫]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُوْلَ اللّٰهِ ﷺ كَانَ إِذَا اسْتَوٰى عَلٰى بَعِيرِه خَارِجًا إِلَى السَّفَرِ كَبَّرَ ثَلَاثًا ثُمَّ قَالَ: ﴿سُبْحَانَ الَّذِيىْ سَخَّرَ لَنَا هٰذَا وَمَا كُنَّا لَهٗ مُقْرِنِينَ وَإِنَّا إِلٰى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ﴾اَللّٰهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِىْ سَفَرِنَا هٰذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوٰى وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضٰى اَللّٰهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هٰذَا وَاطْوِ لَنَا بُعْدَه اَللّٰهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِى السَّفَرِ وَالْخَلِيفَةُ فِى الْأَهْلِ، اَللّٰهُمَّ إِنِّىْ أَعُوذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ وَكَابَةِ الْمَنْظَرِ وَسُوءِ الْمُنْقَلَبِ فِى الْمَالِ وَالْأَهْلِ. وَإِذَا رَجَعَ قَالَهنَّ وَزَادَ فِيْهِنَّ: «اٰيِبُوْنَ تَائِبُونَ عَابِدُونَ لِرَبِّنَا حَامِدُوْنَ».رَوَاهُ مُسْلِمٌ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরে বের হবার সময় উটের উপর ধীর-স্থিরতার সাথে বসার পর তিনবার ‘‘আল্ল-হু আকবার’’ বলতেন। তারপর বলতেন, ‘‘সুবহা-নাল্লাযী সাখখারা লানা- হা-যা- ওয়ামা- কুন্না লাহূ মুকরিনীন। ওয়া ইন্না- ইলা- রব্বিনা লামুন্ ক-লিবূন। আল্ল-হুম্মা ইন্না- নাস্আলুকা ফী সাফারিনা- হা-যাল বির্রা ওয়াত্তাকওয়া-, ওয়া মিনাল ‘আমালি মা- তার্যা-। আল্ল-হুম্মা হাওবিন ‘আলায়না- সাফারানা- হা-যা- ওয়াত্বি লানা- বু‘দাহু। আল্ল-হুম্মা আন্তাস্ স-হিবু ফিস্সাফারি ওয়াল খলীফাতু ফিল আহ্লি। আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন ওয়া‘সা-য়িস্ সাফারি ওয়া কা-বাতিল মান্যরি ওয়াসূয়িল মুনক্বলাবি ফিল মা-লি ওয়াল আহ্লি।’’ (অর্থাৎ- ওই সত্তার পবিত্রতা বর্ণনা করছি যিনি একে আমাদের অধীন করেছেন, অথচ আমরা তাকে অধীন করতে পারতাম না এবং আমরা আমাদের প্রভুর দিকে ফিরে আসি। হে আল্লাহ! আমরা আমাদের এ ভ্রমণে তোমার কাছে পুণ্য ও সংযম চাই এবং এমন কাজ যা তুমি পছন্দ করো। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের জন্য এ ভ্রমণকে সহজ করো এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দাও। হে আল্লাহ! তুমিই ভ্রমণে আমাদের সঙ্গী এবং পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদে আমাদের প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ভ্রমণের কষ্ট, খারাপ দৃশ্য ও ধন-সম্পদে অশুভ পরিবর্তন থেকে আশ্রয় চাই।)।তিনি (ﷺ) সফর থেকে ফিরে এসেও এ দোয়াগুলো পড়তেন এবং এর মধ্যে বেশি বেশি বলতেন, ‘‘আ-য়িবূনা তা-য়িবূনা ‘আ-বিদূনা লিরব্বিনা- হা-মিদূন’’ (অর্থাৎ- আমরা প্রত্যাবর্তন করলাম তাওবাকারী, ইবাদতকারী এবং আমাদের মহান রবের প্রশংসাকারীরূপে)। (মুসলিম)[১]
[১] সহীহ : মুসলিম ১৩৪২, আবূ দাঊদ ২৫৯৯, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক্ব ৯২৩২, আহমাদ ৬৩৭৪, ইবনু হিব্বান ২৬৯৬, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১৭৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ২৪২০-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে বের হওয়ার সময়ের দোআ এসেছে। তিনি বাহনের ওপর ধীরভাবে বসার পর তিনবার আল্লাহু আকবার বলতেন। এরপর পড়তেন—যিনি এই বাহন আমাদের অধীন করেছেন তাঁর পবিত্রতা; আমরা তাঁর দিকে ফিরে যাব। তারপর সফরে নেক কাজ, তাকওয়া এবং আল্লাহর পছন্দনীয় আমল চাইতেন। তিনি ভ্রমণ সহজ করা, দূরত্ব কমিয়ে দেওয়া, সফরে আল্লাহকে সঙ্গী এবং পরিবার-সম্পদে প্রতিনিধি হিসেবে চাইতেন। একই সঙ্গে সফরের কষ্ট, খারাপ দৃশ্য এবং ফিরে এসে ধন-সম্পদ ও পরিবারের খারাপ পরিবর্তন থেকে আশ্রয় চাইতেন। ফিরে আসার সময়ও দোআগুলো পড়তেন এবং যোগ করতেন—আমরা ফিরছি তাওবাকারী, ইবাদতকারী ও রবের প্রশংসাকারী হয়ে। তাই সফর শুরু ও সফর থেকে ফেরা—দুই অবস্থাতেই আল্লাহর স্মরণ রাখা এই বর্ণনার মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে বের হলে বাহনে বসে তিনবার তাকবীর বলার কথা এসেছে।
- সফরে নেক কাজ, তাকওয়া ও আল্লাহর পছন্দনীয় আমল চাওয়া হয়েছে।
- ভ্রমণ সহজ করা ও দূরত্ব কমিয়ে দেওয়ার দোআ আছে।
- ফিরে আসার সময় তাওবা, ইবাদত ও প্রশংসার বাক্য যোগ করা হয়েছে।
