১৩/১৮. অধ্যায়ঃ
শিশুর বালেগ হওয়া ও ছোট বেলায় তাদের প্রতিপালন প্রসঙ্গে - প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৩৩৭৭-[২]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৩৩৭৭-[২]
وَعَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ: صَالَحَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ عَلَى ثَلَاثَةِ أَشْيَاءَ: عَلَى أَنَّ مَنْ أَتَاهُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ رَدَّهُ إِلَيْهِمْ وَمَنْ أَتَاهُمْ مِنَ الْمُسْلِمِينَ لَمْ يَرُدُّوهُ وَعَلَى أَنْ يَدْخُلَهَا مِنْ قَابِلٍ وَيُقِيمَ بِهَا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ فَلَمَّا دَخَلَهَا وَمَضَى الْأَجَلُ خَرَجَ فَتَبِعَتْهُ ابْنَةُ حَمْزَةَ تُنَادِي: يَا عَمِّ يَا عَمِّ فَتَنَاوَلَهَا عَلِيٌّ فَأَخَذَ بِيَدِهَا فَاخْتَصَمَ فِيهَا عَلِيٌّ وَزَيْدٌ وَجَعْفَرٌ قَالَ عَلِيٌّ: أَنَا أَخَذْتُهَا وَهِيَ بِنْتُ عَمِّي. وَقَالَ جَعْفَرٌ: بِنْتُ عَمِّي وَخَالَتُهَا تَحْتِي وَقَالَ زَيْدٌ: بِنْتُ أَخِي فَقَضَى بِهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِخَالَتِهَا وَقَالَ: «الْخَالَةُ بِمَنْزِلَةِ الْأُمِّ» . وَقَالَ لَعَلِيٍّ: «أَنْتَ مِنِّي وَأَنَا مِنْكَ» وَقَالَ لِجَعْفَرٍ: «أَشْبَهْتَ خَلْقِي وَخُلُقِي» . وَقَالَ لزيد: «أَنْت أخونا ومولانا»
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
'হুদায়বিয়া'র সন্ধিতে নবী (ﷺ) মাক্কার কুরায়শদের সাথে তিনটি বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হন। (প্রথমত) মুশরিকদের মধ্য হতে কেউ মুসলিমদের নিকট উপস্থিত হলে তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে; কিন্তু মুসলিমদের কেউ কাফিরদের নিকট ধৃত হলে তারা ফেরত পাঠাবে না। (দ্বিতীয়ত) তিনি (ﷺ) এ বছর চলে যাবেন, পরবর্তী বছর ‘উমরার উদ্দেশে মাক্কায় প্রবেশ ও তিনদিন সেখানে অবস্থান করতে পারবেন। [তৃতীয়ত 'আরবের যে কোনো গোত্র যে কোনো পক্ষের সাথে সন্ধির সাথে যুক্ত হতে পারবে।]সন্ধির শর্তানুযায়ী যখন পরবর্তী বছর তিনি (ﷺ) মাক্কায় প্রবেশ করলেন ও সেখানে অবস্থানের সময়সীমা শেষ হলো, তখন তিনি মাক্কাহ্ হতে রওয়ানা হলেন। তখন হামযাহ্ (রাঃ)-এর শিশুকন্যা ‘হে চাচা' 'হে চাচা' বলে তাঁর অনুসরণ করে ডাকতে লাগল। ‘আলী (রাঃ) তাকে হাত ধরে তুলে নিলেন। অতঃপর ঐ কন্যার লালন-পালনে 'আলী (রাঃ), যায়দ (রাঃ) ও জা'ফার (রাঃ)- এই তিনজনের মধ্যে বিরোধ দেখা দিল। ‘আলী (রাঃ) বললেন, আমিই তাকে প্রথম উঠিয়েছি এবং সে আমার চাচাত বোন। জা'ফার (রাঃ) বললেন, সে তো আমারও চাচাত বোন এবং তার খালা আমার সহধর্মিণী। যায়দ (রাঃ) বললেন, সে তো আমার ভাতিজি।এমতাবস্থায় নবী (ﷺ) খালার পক্ষে রায় দিয়ে বললেন, খালা মাতৃসম। অতঃপর ‘আলীকে বললেন, তুমি আমার, আমি তোমার (আপনজন)। জা'ফারকে বললেন, তুমি আমার শারীরিক গঠন ও চারিত্রিক গুণের সাদৃশ্যের অধিকারী। আর যায়দকে বললেন, তুমি আমারই ভাই, আমাদের প্রিয়তম।
[১] সহীহ : বুখারী ৪২৫৮, মুসলিম ১৭৭৮, তিরমিযী ১৯০৪।
