২২/০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৩২২-[১৯] - রেশমী চাদর ও নারীদের উড়না

পোশাক-অধ্যায় - প্রথম অনুচ্ছেদ

"اللباس(আল লিবা-স) শব্দটিباب سمع(বা-বি সামি‘আ)-এর মাসদার। এটি পেশের সাথেও ব্যবহার করা হয়। যার অর্থ পোশাক। আরباب ضرب(বা-বি যরাবা) থেকেلبسا(লাবসান) লামের উপর যবর যোগে আসে। যার অর্থ সংমিশ্রণ করা। মহান আল্লাহ বলেনঃوَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ’‘আর তোমরা হককে বাতিলের সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-বুঝে হককে গোপন করো না’’- (সূরাহ্ আল বাকারাহ্ ০২ : ৪২)।বিভিন্ন কারণে ইসলামে কতিপয় পোশাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেগুলো হল- ১. পুরুষের জন্য রেশমের পোশাক ও স্বর্ণমিশ্রিত পোশাক।২. পুরুষের জন্য মহিলাদের পোশাক।৩. মহিলাদের জন্য পুরুষের পোশাক।৪. খ্যাতি ও বড়াই প্রকাশক পোশাক।৫. ভিন্ন ধর্মীয় পোশাক।৬. আঁটসাঁট পোশাক ইত্যাদি। [সম্পাদক]"

রেশমী চাদর পরার বিধান ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর শিক্ষা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৩২২-[১৯]

وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: أُهْدِيَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم حُلّة سِيَرَاءَ فَبَعَثَ بِهَا إِلَيَّ فَلَبِسْتُهَا فَعَرَفْتُ الْغَضَبَ فِي وَجْهِهِ فَقَالَ: «إِنِّي لَمْ أَبْعَثْ بِهَا إِلَيْكَ لِتَلْبَسَهَا إِنَّمَا بَعَثْتُ بِهَا إِلَيْكَ لِتُشَقِّقَهَا خُمُراً بَين النساءِ»

আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে একখানা লালবর্ণের রেশমী চাদর হাদিয়া দেয়া হলো। তিনি তা আমার কাছে পাঠিয়ে দিলেন। আমি তা পরিধান করলাম, তখন আমি তাঁর চেহারায় ক্রোধের চিহ্ন দেখতে পেলাম। অতঃপর তিনি আমাকে বললেন : আমি তা তোমার নিকটে তোমার পরিধানের জন্য পাঠাইনি; বরং আমি তা তোমার কাছে এ উদ্দেশে পাঠিয়েছি যে, তুমি তা খণ্ড করে মহিলাদের জন্য ওড়না বানিয়ে তাদের দিয়ে দিবে।

[১] সহীহ : বুখারী ২৬১৪, মুসলিম (২০৭১)-১৭, নাসায়ী ৫২৯৮, আবূ দাঊদ ৪০৪৩, মুসনাদে আহমাদ ১১৭১, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৩২৯, শু‘আবুল ঈমান ৬০৮৬, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৪৩৮৪।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৩২২-[১৯]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আলী (রাঃ)-এর ঘটনার মাধ্যমে রেশমী পোশাকের বিধান পরিষ্কার হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে লাল রেশমী চাদর হাদিয়া আসে। তিনি সেটি আলী (রাঃ)-এর কাছে পাঠান। আলী (রাঃ) তা পরে নিলে নবী صلى الله عليه وسلم-এর মুখে ক্রোধের চিহ্ন দেখা যায়। এরপর তিনি বুঝিয়ে দেন, এটি আলী (রাঃ)-এর পরার জন্য পাঠানো হয়নি; বরং সেটি কেটে নারীদের উড়না বানিয়ে দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কোনো জিনিস হাতে আসলেই নিজের ব্যবহারের জন্য ধরে নেওয়া ঠিক নয়। রেশমী কাপড়ের ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর ব্যবহার আলাদা হতে পারে—এই বর্ণনা সেটিও বুঝতে সাহায্য করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রেশমী কাপড় পুরুষের পরিধানের জন্য পাঠানো হয়নি—এই বর্ণনায় তা স্পষ্ট।
  • নবী صلى الله عليه وسلم ভুল দেখলে তা সংশোধন করতেন, তবে উদ্দেশ্যও পরিষ্কার করে দিতেন।
  • উপহার পাওয়া জিনিস ব্যবহারের আগে তার উদ্দেশ্য বোঝা দরকার।
  • নারীদের জন্য উড়না বানিয়ে দেওয়ার নির্দেশে ব্যবহারযোগ্য পথ দেখানো হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন