২৩/২. অধ্যায়ঃ
জ্যোতিষীর গণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
الكهانة(জ্যোতিষীর গণনা)।كهانةএর ’কাফ’ বর্ণে যবর ও যের যোগে।كهانةদ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হলো মানুষের গোপন বিষয় যা ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে, সে সম্পর্কে সংবাদ দেয়া। জাহিলী যুগে ’আরবদের মধ্যে এكهانةপ্রচলিত ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবী করত যে, তার অনুগত জীন আছে, সে বিভিন্ন সংবাদ তাকে এনে দেয়। আর বর্ণিত আছে যে, শায়ত্বনেরা কথা চুরি করে এতে জ্যোতিষীদের (كهانة) কাছে বলে দিত। আর তাতে তারা প্রয়োজনমত বৃদ্ধি করত। আর তাদের মধ্যে কাফিররা তা গ্রহণ করত। কিন্তু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখন প্রেরণ করা হলো তখন আকাশমণ্ডলীতে পাহারা নিযুক্ত করা হলো এবংكهانةতথা জ্যোতিষীদের বাতিল করা হল।আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলত যে, সে কথাবার্তা, কাজকর্ম এবং অবস্থাসমূহ দেখে কিছু অনুমান করে বিভিন্ন জিনিস জানতে পারে। আর এ প্রকারটিকে নির্দিষ্ট (খাস) করা হয়েছে ঐ জ্যোতিষীর জন্য, যে দাবী করে চুরি যাওয়া বস্তু এবং হারিয়ে যাওয়া বস্তু কোথায় আছে তা সে বলে দিতে পারে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৪৫৯২-[১]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৪৫৯২-[১]
عَن مُعَاوِيَة بن الحكم قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أُمُورًا كُنَّا نَصْنَعُهَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ كُنَّا نَأْتِي الْكُهَّانَ قَالَ: «فَلَا تَأْتُوا الْكُهَّانَ» قَالَ: قُلْتُ: كُنَّا نَتَطَيَّرُ قَالَ: «ذَلِكَ شَيْءٌ يَجِدُهُ أَحَدُكُمْ فِي نَفْسِهِ فَلَا يصدَّنَّكم» . قَالَ: قُلْتُ: وَمِنَّا رِجَالٌ يَخُطُّونَ قَالَ: «كَانَ نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ يَخُطُّ فَمَنْ وَافَقَ خَطَّهُ فَذَاك» . رَوَاهُ مُسلم
মু'আবিয়াহ্ ইবনু হাকাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি জিজ্ঞেস করলাম : হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহিলিয়্যাতের যুগের অন্যান্য কাজের মধ্যে জ্যোতিষীর কাছেও যেতাম। তখন তিনি (ﷺ) বললেন : তোমরা আর কখনো গণকদের কাছে যাবে না।বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম : আমরা (কোন কাজের জন্য) অশুভ লক্ষণ মেনে থাকি। তিনি (ﷺ) বললেন : এটা এমন একটি ব্যাপার যে, (অনিচ্ছাকৃতভাবেই) তোমাদের কারো মনে তার উদ্রেক হয়ে থাকে, তবে তা যেন তোমাদেরকে বিরত না রাখে।রাবী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম : আমাদের কেউ রেখা টেনে (ভাগ্য পরীক্ষার কাজ করে) থাকে। তিনি বললেন : কোন একজন নবী (আল্লাহর হুকুমে) রেখা টানার কাজ করতেন, সুতরাং যার রেখা টানা সে নবীর রেখার সাথে মিলে যায় তা জায়িয আছে।
[১] সহীহ : মুসলিম (৫৩৭)-১২১, আহমাদ ১৫৬৬৩, মা‘রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাক্বী ৪৭৭৬, ‘বায়হাক্বী’র কুবরা ১৫৬৬০, আস্ সুনানুস্ সুগরা ৯০৪, ‘বায়হাক্বী’র কুবরা ৩৪৭৯, নাসায়ী ১২১৮, ইরওয়া ৩৯০, আল জামি‘উস্ সগীর ৮৫৯০, সহীহুল জামি‘ ৪৪৬২, সহীহ ইবনু খুযায়মাহ্ ৮৫৯, ‘নাসায়ী’র কুবরা ১১৪১, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৬৩০৭, সহীহ ইবনু হিব্বান ২২৪৭।
