২৪/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬১৪-[৯] - মুমিনের স্বপ্ন ও তিন ধরন
স্বপ্ন - প্রথম অনুচ্ছেদ
‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ স্বপ্নের মূলতত্ত্ব হচ্ছে এই যে, আল্লাহ ঘুমন্ত ব্যক্তির অন্তরে ‘ইলমসমূহ এবং দৃষ্টিজ্ঞান সৃষ্টি করেন যেমন জাগ্রত অবস্থায় করে থাকেন। আর ঘুমন্ত ব্যক্তির মধ্যে এ ধরনের ‘ইলমসমূহের সৃষ্টি হচ্ছে অন্যান্য বিষয়াদির নিদর্শন, যা ভবিষ্যতে হবে। আর এটা কখনো স্পষ্ট হবে। আবার কখনো হবে ইঙ্গিতাকারে।
মুমিনের স্বপ্ন ও স্বপ্নের তিন ধরন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৬১৪-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৬১৪-[৯]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا اقْتَرَبَ الزَّمَانُ لَمْ يَكَدْ يَكْذِبُ رُؤْيَا الْمُؤْمِنِ وَرُؤْيَا الْمُؤْمِنِ جُزْءٌ مِنْ سِتَّةٍ وَأَرْبَعِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّةِ وَمَا كَانَ مِنَ النُّبُوَّةِ فَإِنَّهُ لَا يَكْذِبُ». قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ سِيرِينَ: وَأَنَا أَقُولُ: الرُّؤْيَا ثَلَاثٌ: حَدِيثُ النَّفْسِ وَتَخْوِيفُ الشَّيْطَانِ وَبُشْرَى مِنَ اللَّهِ فَمَنْ رَأَى شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلَا يَقُصَّهُ عَلَى أَحَدٍ وَلْيَقُمْ فَلْيُصَلِّ قَالَ: وَكَانَ يُكْرَهُ الْغُلُّ فِي النَّوْمِ وَيُعْجِبُهُمُ الْقَيْدُ وَيُقَال: الْقَيْد ثبات فِي الدّين
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যামানা নিকটবর্তী হলে মুমিনের স্বপ্ন মিথ্যা হবে না। আর মুমিনদের স্বপ্ন নুবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। বস্তুতঃ যে জিনিস নুবুওয়াতের অংশ হয়, তা কখনো মিথ্যা হতে পারে না। মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহঃ) বলেন : আমি এ কথা বলি যে, স্বপ্ন তিন প্রকার হয়ে থাকে। প্রথমতঃ মনের খেয়াল বা কল্পনা। দ্বিতীয়তঃ শয়তানের পক্ষ হতে ভীতি প্রদর্শন। আর তৃতীয়তঃ আল্লাহর পক্ষ হতে সুসংবাদ প্রদান। অতএব কেউ কোন অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে তা অন্যের নিকট যেন না বলে এবং তখনই উঠে যেন সালাত আদায় করে।ইবনু সীরীন (রহঃ) আরো বলেন : নবী (ﷺ) স্বপ্নে (গলদেশে) শৃঙ্খল পরা অবস্থা দেখাকে অপছন্দ করতেন। অবশ্য (পায়ে) শিকল পরা অবস্থায় দেখাকে পছন্দ করতেন। আর বলা হয় যে, শিকল পরার অর্থ হলো, দীনের উপর অবিচল থাকা।
[১] সহীহ : বুখারী ৭০১৭, মুসলিম (২২৬৩)-৬, আল মুসতাদরাক ৮১৭৪, দারিমী ২১৬০, ‘নাসায়ী’র কুবরা ৭৬৫৪, শু‘আবুল ঈমান ৪৭৬২, আহমাদ ৭৬৪২, ইবনু আবূ শায়বাহ্ ৩০৫১২, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ২০৩৫২, মা‘রিফাতুস্ সুনান লিল বায়হাক্বী ৬৩৭৩, সহীহুল জামি‘ ৩৫৩৩, তিরমিযী ২২৭০, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১১৯, ১২০, ১৩৪১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬১৪-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুমিনের স্বপ্নের মর্যাদা এবং স্বপ্ন বোঝার একটি দরকারি দিক এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যামানা নিকটবর্তী হলে মুমিনের স্বপ্ন মিথ্যা হবে না, আর মুমিনের স্বপ্ন নুবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ। এরপর মুহাম্মাদ ইবনু সীরীন (রহিমাহুল্লাহ) স্বপ্নকে তিন ভাগে বলেছেন: মনের খেয়াল, শয়তানের পক্ষ থেকে ভয় দেখানো, এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ। অপছন্দনীয় স্বপ্ন দেখলে তা কাউকে না বলে উঠে সালাত আদায় করার কথা এসেছে। বর্ণনায় গলায় শৃঙ্খল অপছন্দ এবং পায়ে শিকলকে দীনের ওপর স্থির থাকার অর্থ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, স্বপ্ন নিয়ে ভারসাম্য জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিনের ভালো স্বপ্নের একটি মর্যাদা আছে।
- সব স্বপ্ন এক রকম নয়; কিছু মনের খেয়ালও হতে পারে।
- অপছন্দের স্বপ্ন কাউকে না বলে সালাত আদায় করা উত্তম।
- স্বপ্নের ব্যাখ্যায় সতর্কতা ও সীমা মানা দরকার।
