২৫/২০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫১০৪-[১] - রাগ না করার নববী উপদেশ
রাগ ও অহংকার - প্রথম অনুচ্ছেদ
(আরবি) শব্দটি বাবে (আরবি) এর মাসদার। মূল অক্ষর (আরবি) অর্থ গর্ব করা, গৌরব করা। এটা দু’ প্রকার: ১. নিন্দনীয়। যেমন- প্রতারণার উদ্দেশে বা পার্থিব কোন ব্যক্তির স্বার্থ চরিতার্থের জন্য মিথ্যা বংশ গৌরব করা। এটা অবৈধ।২. প্রশংসনীয়। যেমন, কাফির মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের সময় বীরত্ব প্রকাশের উদ্দেশে গৌরবের কথা প্রকাশ করা। এটা জায়িয। মহান আল্লাহ বলেন, (আরবি) “তুমি তোমার রবের নি‘আমাতের কথা বর্ণনা কর।” (সূরাহ্ আয্ যুহা- ৯৩ : ১১) নিন্দনীয় গর্ব করা থেকে সাবধান করতে নাবী (ﷺ) বলেন, (আরবি) আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : মহান আল্লাহ তোমাদের জাহিলী যুগের মিথ্যা অহংকার ও পূর্বপুরুষদেরকে নিয়ে গর্ব করার প্রথাকে বিলুপ্ত করেছেন।মু‘মিন হলো আল্লাহভীরু আর পাপী হলো দুর্ভাগা। তোমরা সকলে আদাম সন্তান আর আদাম (আরবি) মাটির তৈরি। লোকেদের উচিত বিশেষ গোত্রেরভুক্ত হওয়াকে কেন্দ্র করে অহংকার না করা। এখন তো তারা জাহান্নামের কয়লায় পরিণত হয়েছে। অন্যথায় তোমরা মহান আল্লাহর নিকট ময়লার সেই কীটের চেয়ে জঘন্য হবে যে তার নাক দিয়ে ময়লা ঠেলে নিয়ে যায়। (আবূ দাউদ ৫১১৬, তিরমিযী ৪২৩৩ : হাসান)মির্‘আতুল মাফাতীহ-এর মধ্যে আল্লামাহ মুবারকপূরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: বংশীয় বা গোত্রীয় অহংকার বলা হয়, বাপ দাদার অথবা বংশের নাম উল্লেখ করে গর্ব করাকে। এ কাজ অন্যকে ছোট করে নিজের মর্তবাকে উঁচু করে তোলার জন্য করা হয়। সেজন্য এ কাজ জায়িয নেই। অন্যের গোত্রকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ এ কাজে অন্যকে ছোট করা হয় বা লজ্জায় ফেলা হয়।আর (আরবি) শব্দের অর্থ হলো-স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্ব করা। পরিভাষায় রক্তের বন্ধনে আবদ্ধতার অনুভূতি এবং সেই অনুভূতির কারণে অন্যের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করাকে (আরবি) বলা হয়। আধুনিক পরিভাষায় একে গোত্রবাদ বা সাম্প্রদায়িকতাও বলা যেতে পারে। এটি একটি জাহিলী প্রথা। এ ব্যাপারে হাদীসে রয়েছে, আল হাবিস আল আশ্‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নাবী (ﷺ) বলেছেন : (আরবি) আর যে লোক জাহিলিয়্যাতের ‘আমালের রীতি-নীতির দিকে আহ্বান করে সে জাহান্নামীদের দলভুক্ত।জনৈক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! সে সলাত আদায করলেও, সিয়াম পালন করলেও? তিনি (ﷺ) বললেন: হ্যাঁ। সে সলাত আদায় করলেও, সিয়াম পালন করলেও। সুতরাং তোমরা সেই আল্লাহ তা‘আলার ডাকেই নিজেদেরকে ডাকবে যিনি তোমাদেরকে মুসলিম, মু‘মিন ও আল্লাহ তা‘আলার বান্দা নাম রেখেছেন। (তিরমিযী ২৮৬৩, মিশকাত ৩৬৯৪)
রাগ করো না: আত্মসংযমের সহজ উপদেশ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫১০৪-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫১০৪-[১]
عَن أبي هريرةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: أوصني. قَالَ: «لَا تغضبْ» . فردَّ ذَلِكَ مِرَارًا قَالَ: «لَا تَغْضَبْ». رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জনৈক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে জিজ্ঞেস করল, আমাকে কিছু উপদেশ দিন। তিনি বললেন : তুমি রাগ করবে না। লোকটি কয়েকবার একই কথা পুনরাবৃত্তি করল। রাসূল (ﷺ)-ও প্রত্যেক বারই বললেন : তুমি রাগ করো না।
[১] সহীহ : বুখারী ৬১১৬, তিরমিযী ২০২০, সহীহ আত্ তারগীব ২৭৪৫, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫৩৮০, আহমাদ ২০৩৫৭, আবূ ইয়া‘লা ৬৮৩৮, সহীহ ইবনু হিব্বান ৫৬৮৯, শু‘আবুল ঈমান ৮২৭৭, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ৬২৮৫, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৭৪৯১, আল মুসতাদরাক ৬৫৭৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫১০৪-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে উপদেশ চান। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে বলেন, তুমি রাগ করবে না। লোকটি কয়েকবার একই অনুরোধ করলে নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রতিবার একই কথা বলেন: তুমি রাগ করো না। এই ছোট বাক্যের মধ্যে রাগ নিয়ন্ত্রণ হাদিসের গভীর শিক্ষা আছে। রাগ মানুষের কথা, সিদ্ধান্ত ও আচরণকে দ্রুত বদলে দিতে পারে। তাই নবী (صلى الله عليه وسلم) দীর্ঘ উপদেশ না দিয়ে এমন একটি বিষয় ধরিয়ে দিলেন, যা মানুষের জীবনে অনেক ঝগড়া, ভুল কথা এবং কষ্টের কারণ হয়। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাগ দমন করা শুধু ভদ্রতার বিষয় নয়; এটি ঈমানি চরিত্রেরও অংশ। যে ব্যক্তি নিজের রাগ সামলায়, সে নিজের জিহ্বা ও কাজকে অনেক ভুল থেকে বাঁচাতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাগ নিয়ন্ত্রণ করা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ।
- একই উপদেশ বারবার বলা এর গুরুত্ব বুঝায়।
- রাগের সময় কথা ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
- আত্মসংযম ভালো চরিত্র গঠনে সাহায্য করে।
